লেবুপীঠ
শিহাব
শাহরিয়ার
যেভাবে আছো ওটা তোমার
বিরুদ্ধ সময়
১.
আয়নারাও পালিয়ে বেড়ায়
কাঠেরা খাঁটি রং বহন করে
কেবল তুমিই লজ্জাবতীর মতো নিভে গেছ
একা
তোমার কাছে তাই শুয়ে
থাকে স্কার্পের খয়েরি রং
২.
ঝড় উঠিয়ে বাতাস এলোমেলো করা যায়
যেমন তুমি করো, করেছো!
সন্ধ্যার অন্ধঝড়ে পাখিদের পাখা ওড়ে
কিন্তু কেউ তোমার মতো
গায়ের রঙ নিয়ে
পংক্তির নাম রাখে না—
‘বেদনার মলিন পাখা...’
৩.
প্রত্যাবর্তন নয়, বলো— ফিরে
আসবো
তুমি বললে, আসবো— যদি আসি:
‘আমাকে বালুডাঙার বাতাস কিনে দিও
না হলে বাতাবি লেবুর
ঘনপীঠ
৪.
চশমা ফেলে এসেছি...
তোমার চোখে কবিতার পৃষ্ঠা
উড়াবো
না হলে রবীন্দ্রনাথের বাইশ
বছর কুড়াবো
৫.
শাহালিবাগের বারান্দা, কফিমগ, এগারোটা
বন্দি থাক— ফেলে আসা গলির ঘর্মাক্ত ঘাড়ে
পরিশুদ্ধির
পেয়ালা
আরিফ
মঈনুদ্দীন
এন্তার নগ্ন নৈকট্য ঝেড়ে
ফেলে
যারা এইমাত্র হাতে তুলে নিয়েছেন
পরিশুদ্ধির পেয়ালা— তাতে যে তরল
জায়গা করে নিয়েছে সেখানেই
চুমুক দেবেন তারা
অপেক্ষার চাদরে নিজেকে ঢেকে নিয়ে
দেখছেন একদিক দুদিক নয় ঈশান-বায়ু-অগ্নি-নৈঋতও,
ঊর্ধ্বও অধঃও বাদ নেই
সব দেখেশুনে কী করার আছে—
তা
নিয়ে বিবেচনায় চলছে হুলস্থুল
ক্ষণস্থায়ী এই বাসরে আনন্দ
সরোবরে
ডুব দেওয়ার আগেই তারা উঠে
এসেছে—
অনন্তযাত্রার সরল পাথেয়
পেয়ালার টলমল তরলে আঁকছে
নতুন জীবন
যে জীবনের প্রারম্ভ সংগীত তারাই কেবল শুনতে পায়
নৈঃশব্দ্যের শব্দ তরঙ্গে বাজে
বিউগলের করুণ সুর—
তারাই শ্রবণেন্দ্রিয় তাক করে বসেছিলো
এতকাল
অবশেষে বাজলো বলে তা
আকাশপাতাল এক করে
এই সুর ঢেলে দিয়েছেন যিনি এসব তারই ক্ষমতা|
এসো ইতিহাস লিখি
ফারজানা ফেরদৌস
এসো ইতিহাস লিখি
রূপকথার মতো সে ইতিহাস
ফুলের সুবাস, নদীর ঢেউয়ের মতো
ভাসান মেঘের উদার প্রেমের ইতিহাস|
আলিঙ্গনরত বন্ধুর জড়ানো বুকের ইতিহাস|
এসো ইতিহাস লিখি
স্বর্গমুখী বাড়ন্ত বৃক্ষের ছায়ার দিকে তাকিয়ে
দিনগুনে যায় যে নারী,
তার দেহ বেয়ে পড়ন্ত
রোদের ইতিহাস
যন্ত্রণার নীল ত্বকে বিঁধে
থাকা সে নাকছাবির
ভর্ৎসনার ইতিহাস|
এসো ইতিহাস লিখি
সীমাহীন রাতের নিভে যাওয়া বাতির
শোকে
মৃত জানালায় ঝুলে থাকা ক্লান্ত
চোখের ইতিহাস|
রং চটা মনে উন্মোচিত
সেতুর পাটাতনে
লোভ আসে প্রমত্ত চিৎকারে—
ফসলেরা কাঁদে অন্ধকারে কাঁদে গোলাঘর
বাদুরেরা লীন আধপোড়া পাতার
ওপর|
নষ্ট নগরীর জ্বলন্ত ভগ্নস্তূপে শব্দহীন আত্মাহুতি
যেই প্রেম হাসি মুখে অপেক্ষায়
ছিল প্রেমিকের
তার হতভম্ব মুখের ইতিহাস|
ত্রিশূল হাতের অপেক্ষায় বহুদিন বহু যুগ ধরে
সময়
বারবার উঠে দাঁড়ায় অতল
গহ্বর থেকে|
সে যেন শোণিত প্রবাহের
ভরা নদী|
এসো, প্রেম-বিরহের হাত ধরে শুদ্ধ
মানবিক
আমাদের সেই ইতিহাস লিখি|
ঢাকা
স্বপন আদিত্য
একদিন ঠিক জানা হয়
কতটা দুর্লভ ছিলো
এ শহরে সেই বৃষ্টিমগ্ন
দুপুরগুলো
নীলক্ষেত-সন্ধ্যের আলো|
রাতের চিলেকোঠায় কিছু গল্প
অসমাপ্ত থেকেই হারিয়ে যায়
আমাদের বয়স বাড়ে—
একদিন ঠিকই জানা হয়
কতটা দুর্লভ ছিলে তুমি|
রক্তঋণের হিসাব
খালেদ উদ-দীন
আজও গরমের দিন— দগ্ধ হই,
দহন বয়ে বেড়াই;
গতকাল ও আগামীর শিরায়ও
সেই আগুন বইবে|
প্রিয় সিংহাসন, রক্তে রক্তে তোমার এই উৎসব—
মানুষ পোড়ানোর নৃশংস আয়োজন
১৮৮৬ থেকে আজও অবিরাম|
হে মার্কেটের সেই আগুন নিভে
যায়নি—
ছড়িয়ে পড়েছে কারখানায়, ক্ষুধার্ত ঘরের নিঃশ্বাসে
শ্রমিকের অস্থিমজ্জায় জমে থাকা ক্ষোভে|
হিসাবের খাতা খোলা— জমার
অঙ্ক শুধু বেড়েছে
অথচ, রক্ত আর ঘামের
কালি দিয়ে লেখা
এই সভ্যতার প্রতিটি অর্জন|
এখানে প্রেম নির্বাসিত, স্বপ্নগুলো শিকলবন্দি;
অদেখা হাহাকারের গভীর খাদে
জন্ম নেয় প্রতিরোধের পতাকা|
তাই বলি—
শোষণের সামনে নতজানু জীবন নয়;
রুখে দাঁড়াও, ভেঙে দাও এই
মিথ্যা সিংহাসন
রক্ত-নিশান উড়িয়ে দাও আকাশজুড়ে|
শতাব্দীর পর শতাব্দী রক্তে
ভেজা ইতিহাস;
আর না এবার হিসাব
বুঝে নেওয়ার পালা
এবার প্রতিটি ঋণের জবাব চাই,
সরাসরি|
অফুরান সম্ভাবনা নিয়ে স্পষ্ট কণ্ঠে
বলি—
সকল ˆবষম্যের অবসান চাই, এবং এখনই!
মানুষের মুক্তি ও জয়ই হলো শেষ সত্য|
অঙ্কিত সংঘাত
আমেনা তাওসিরাত
বারুদের সন্ধিতে দানোৎসব,
স্পর্শাতীত ধ্বংসস্তূপের
থিয়েটারে দ্ব্যর্থহীন ষাঁড়েরা|
প্রলোভিত পরীক্ষকেরা
সুপ্রাচীন সভ্যতাকে
উলসথর্প ম্যানরের ঐতিহাসিক গাছের
পড়ন্ত আপেল ভেবেছেন|
ঔজ্জ্বল্য ভেঙে ডিমের অন্তঃকরণে
অন্ধ শ্বাপদ পেয়ে
প্রকৃষ্ট সঙ্গীরা আর কাঁদেনি|
স্বর্ণকেশী পেপারওয়েটে সঙ্গীত চেপে,
উত্থান আর উন্মত্ততায়
শ্বাসরুদ্ধ উত্তরণ, কিংবা উত্তোলন|
প্রাচীনতম উপকথার মতো
সিঁথি না কেটে
মধ্যপ্রাচ্যের শৈশব,
শাশ্বত প্রাণেরা
অনড় হয়ে গেছে
শোকার্ত সমাধিতে|
বার্ধক্যজনিত মস্তিষ্কে, দ্বীপপুঞ্জে—
মানবসভ্যতা নয় রাজহংস,
প্রাচুর্যের অদূরদর্শী সংহার|
বিত্তীয় করিডোরের অগভীর তলদেশে
কুঁজওয়ালা ডলফিনের লাজুক শিকার,
স্বর্ণাভ মুক্তার ঝিনুক,
সমুদ্রগাভী, রুপালি মাছ;
প্রবালপ্রাচীর ও সপুষ্পক সমুদ্রঘাস,
আর পারস্য উপকূলীয় অরণ্যের
অগণিত অভিবাসী পাখিদের
বিপন্নতা
যুদ্ধ বলে না দৃঢ়
কণ্ঠে|
তীরবর্তী অন্তিম ঘণ্টাধ্বনিতে
বিস্মরণ আর বাস্তবতায়,
উচ্চবর্ণের পতাকা
আত্মাভিমানে পাণ্ডুর|
অজ্ঞানতা আর তেলের আস্তরণে
জল জহর হয়ে যায়|
শব্দের উৎস
ফারহানা রহমান
শুধু মৌনতায় কথা বলো
শুধু মায়ায় বেঁধে রাখো
আমাদের খুব কাছে দ্যাখো
আগল ভেঙেছে কেউ
তখনো তো আমি জেগে
থাকি
নিস্তব্ধ একাকী মেঘে ঘেরা মধ্যরাতে
একা একা সঙ্গীত শয্যায়!
সারি সারি ফুলের উড়নি
গাঁথা ঝাউবন
গাছের মাথায় স্তব্ধ হয়ে থাকে মৃত
আত্মার শরীর
গোঙানির মতো শীতের পতিত
ভূমির উপর ঝুঁকে থাকে
গুচ্ছ গুচ্ছ আঙুরের অভিজাত থোকা
সজীব শিশিরে পাতাগুলো
কেমন লুকিয়ে রাখে শিরা-উপশিরা
এভাবে ঘুমিয়ে আছে
তোমার ভিতর অন্ধ মানবতা
তখনো কেবল তুমি বলে
গেছো
নিজের কথাই আর ঝরা
পাতায় ঢেকেছে
আমার নৈঃশব্দ্য! তবু ছমছম বৃষ্টিতে
নিজের ঘরেই অনাহূত আমি
ব্যথায় ভিজেছে রক্তাভ হৃদয়তাবু
তবু হেঁটেছি, হেঁটেছি আমি
অচেনা মোহন শব্দের ঘ্রাণের খোঁজে...
বোশেখের দুপুরে
বাবুল আনোয়ার
বোশেখের দুপুরে পাশাপাশি দু’জন
হুডখোলা রিকশায় দুলছিল মন
মৃদু বাতাসে তোমার উড়ছিল চুল
নীরবতার ফানুসে উসখুস সারাক্ষণ
যে কথা হয়নি বলা
সঙ্গোপনে ছিল
সে কথায় মুখর ছিল
যুগল সংগীত
শহরের রাজপথ ছেড়ে কিছুটা দূরে
মিশে গেছে যেখানে সুরেলা অতীত|
শুভ কামনা সতত
মাসুম মোরশেদ
গতকাল তুমি মজলুম ছিলে
আজকে যদিবা জালিম হও
জনগণমন ভরসা হারায়
মানুষ তখন মানুষ নও|
দিনগুলো সব খেয়াল রাইখো
মাঘ যায় নাই হইয়া
শেষ
ফিরে যদি আসে সেসব
দিবস
অনুমান করো তা ছিল
না বেশ|
যেই পথরেখা প্রাণদায়ী সুখ
দেখিয়ে নিয়েছো আমার ভার
রক্ষা করার দায়বদ্ধতা
স্বহস্তে নিলে আরেকবার|
উদগ্র তাড়া দেখেছি তোমার
নিশ্চয় সব মেটাবে আশ
ঠিকঠাক হোক সবকিছু তার
না হোক তা আর
সর্বনাশ|

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
লেবুপীঠ
শিহাব
শাহরিয়ার
যেভাবে আছো ওটা তোমার
বিরুদ্ধ সময়
১.
আয়নারাও পালিয়ে বেড়ায়
কাঠেরা খাঁটি রং বহন করে
কেবল তুমিই লজ্জাবতীর মতো নিভে গেছ
একা
তোমার কাছে তাই শুয়ে
থাকে স্কার্পের খয়েরি রং
২.
ঝড় উঠিয়ে বাতাস এলোমেলো করা যায়
যেমন তুমি করো, করেছো!
সন্ধ্যার অন্ধঝড়ে পাখিদের পাখা ওড়ে
কিন্তু কেউ তোমার মতো
গায়ের রঙ নিয়ে
পংক্তির নাম রাখে না—
‘বেদনার মলিন পাখা...’
৩.
প্রত্যাবর্তন নয়, বলো— ফিরে
আসবো
তুমি বললে, আসবো— যদি আসি:
‘আমাকে বালুডাঙার বাতাস কিনে দিও
না হলে বাতাবি লেবুর
ঘনপীঠ
৪.
চশমা ফেলে এসেছি...
তোমার চোখে কবিতার পৃষ্ঠা
উড়াবো
না হলে রবীন্দ্রনাথের বাইশ
বছর কুড়াবো
৫.
শাহালিবাগের বারান্দা, কফিমগ, এগারোটা
বন্দি থাক— ফেলে আসা গলির ঘর্মাক্ত ঘাড়ে
পরিশুদ্ধির
পেয়ালা
আরিফ
মঈনুদ্দীন
এন্তার নগ্ন নৈকট্য ঝেড়ে
ফেলে
যারা এইমাত্র হাতে তুলে নিয়েছেন
পরিশুদ্ধির পেয়ালা— তাতে যে তরল
জায়গা করে নিয়েছে সেখানেই
চুমুক দেবেন তারা
অপেক্ষার চাদরে নিজেকে ঢেকে নিয়ে
দেখছেন একদিক দুদিক নয় ঈশান-বায়ু-অগ্নি-নৈঋতও,
ঊর্ধ্বও অধঃও বাদ নেই
সব দেখেশুনে কী করার আছে—
তা
নিয়ে বিবেচনায় চলছে হুলস্থুল
ক্ষণস্থায়ী এই বাসরে আনন্দ
সরোবরে
ডুব দেওয়ার আগেই তারা উঠে
এসেছে—
অনন্তযাত্রার সরল পাথেয়
পেয়ালার টলমল তরলে আঁকছে
নতুন জীবন
যে জীবনের প্রারম্ভ সংগীত তারাই কেবল শুনতে পায়
নৈঃশব্দ্যের শব্দ তরঙ্গে বাজে
বিউগলের করুণ সুর—
তারাই শ্রবণেন্দ্রিয় তাক করে বসেছিলো
এতকাল
অবশেষে বাজলো বলে তা
আকাশপাতাল এক করে
এই সুর ঢেলে দিয়েছেন যিনি এসব তারই ক্ষমতা|
এসো ইতিহাস লিখি
ফারজানা ফেরদৌস
এসো ইতিহাস লিখি
রূপকথার মতো সে ইতিহাস
ফুলের সুবাস, নদীর ঢেউয়ের মতো
ভাসান মেঘের উদার প্রেমের ইতিহাস|
আলিঙ্গনরত বন্ধুর জড়ানো বুকের ইতিহাস|
এসো ইতিহাস লিখি
স্বর্গমুখী বাড়ন্ত বৃক্ষের ছায়ার দিকে তাকিয়ে
দিনগুনে যায় যে নারী,
তার দেহ বেয়ে পড়ন্ত
রোদের ইতিহাস
যন্ত্রণার নীল ত্বকে বিঁধে
থাকা সে নাকছাবির
ভর্ৎসনার ইতিহাস|
এসো ইতিহাস লিখি
সীমাহীন রাতের নিভে যাওয়া বাতির
শোকে
মৃত জানালায় ঝুলে থাকা ক্লান্ত
চোখের ইতিহাস|
রং চটা মনে উন্মোচিত
সেতুর পাটাতনে
লোভ আসে প্রমত্ত চিৎকারে—
ফসলেরা কাঁদে অন্ধকারে কাঁদে গোলাঘর
বাদুরেরা লীন আধপোড়া পাতার
ওপর|
নষ্ট নগরীর জ্বলন্ত ভগ্নস্তূপে শব্দহীন আত্মাহুতি
যেই প্রেম হাসি মুখে অপেক্ষায়
ছিল প্রেমিকের
তার হতভম্ব মুখের ইতিহাস|
ত্রিশূল হাতের অপেক্ষায় বহুদিন বহু যুগ ধরে
সময়
বারবার উঠে দাঁড়ায় অতল
গহ্বর থেকে|
সে যেন শোণিত প্রবাহের
ভরা নদী|
এসো, প্রেম-বিরহের হাত ধরে শুদ্ধ
মানবিক
আমাদের সেই ইতিহাস লিখি|
ঢাকা
স্বপন আদিত্য
একদিন ঠিক জানা হয়
কতটা দুর্লভ ছিলো
এ শহরে সেই বৃষ্টিমগ্ন
দুপুরগুলো
নীলক্ষেত-সন্ধ্যের আলো|
রাতের চিলেকোঠায় কিছু গল্প
অসমাপ্ত থেকেই হারিয়ে যায়
আমাদের বয়স বাড়ে—
একদিন ঠিকই জানা হয়
কতটা দুর্লভ ছিলে তুমি|
রক্তঋণের হিসাব
খালেদ উদ-দীন
আজও গরমের দিন— দগ্ধ হই,
দহন বয়ে বেড়াই;
গতকাল ও আগামীর শিরায়ও
সেই আগুন বইবে|
প্রিয় সিংহাসন, রক্তে রক্তে তোমার এই উৎসব—
মানুষ পোড়ানোর নৃশংস আয়োজন
১৮৮৬ থেকে আজও অবিরাম|
হে মার্কেটের সেই আগুন নিভে
যায়নি—
ছড়িয়ে পড়েছে কারখানায়, ক্ষুধার্ত ঘরের নিঃশ্বাসে
শ্রমিকের অস্থিমজ্জায় জমে থাকা ক্ষোভে|
হিসাবের খাতা খোলা— জমার
অঙ্ক শুধু বেড়েছে
অথচ, রক্ত আর ঘামের
কালি দিয়ে লেখা
এই সভ্যতার প্রতিটি অর্জন|
এখানে প্রেম নির্বাসিত, স্বপ্নগুলো শিকলবন্দি;
অদেখা হাহাকারের গভীর খাদে
জন্ম নেয় প্রতিরোধের পতাকা|
তাই বলি—
শোষণের সামনে নতজানু জীবন নয়;
রুখে দাঁড়াও, ভেঙে দাও এই
মিথ্যা সিংহাসন
রক্ত-নিশান উড়িয়ে দাও আকাশজুড়ে|
শতাব্দীর পর শতাব্দী রক্তে
ভেজা ইতিহাস;
আর না এবার হিসাব
বুঝে নেওয়ার পালা
এবার প্রতিটি ঋণের জবাব চাই,
সরাসরি|
অফুরান সম্ভাবনা নিয়ে স্পষ্ট কণ্ঠে
বলি—
সকল ˆবষম্যের অবসান চাই, এবং এখনই!
মানুষের মুক্তি ও জয়ই হলো শেষ সত্য|
অঙ্কিত সংঘাত
আমেনা তাওসিরাত
বারুদের সন্ধিতে দানোৎসব,
স্পর্শাতীত ধ্বংসস্তূপের
থিয়েটারে দ্ব্যর্থহীন ষাঁড়েরা|
প্রলোভিত পরীক্ষকেরা
সুপ্রাচীন সভ্যতাকে
উলসথর্প ম্যানরের ঐতিহাসিক গাছের
পড়ন্ত আপেল ভেবেছেন|
ঔজ্জ্বল্য ভেঙে ডিমের অন্তঃকরণে
অন্ধ শ্বাপদ পেয়ে
প্রকৃষ্ট সঙ্গীরা আর কাঁদেনি|
স্বর্ণকেশী পেপারওয়েটে সঙ্গীত চেপে,
উত্থান আর উন্মত্ততায়
শ্বাসরুদ্ধ উত্তরণ, কিংবা উত্তোলন|
প্রাচীনতম উপকথার মতো
সিঁথি না কেটে
মধ্যপ্রাচ্যের শৈশব,
শাশ্বত প্রাণেরা
অনড় হয়ে গেছে
শোকার্ত সমাধিতে|
বার্ধক্যজনিত মস্তিষ্কে, দ্বীপপুঞ্জে—
মানবসভ্যতা নয় রাজহংস,
প্রাচুর্যের অদূরদর্শী সংহার|
বিত্তীয় করিডোরের অগভীর তলদেশে
কুঁজওয়ালা ডলফিনের লাজুক শিকার,
স্বর্ণাভ মুক্তার ঝিনুক,
সমুদ্রগাভী, রুপালি মাছ;
প্রবালপ্রাচীর ও সপুষ্পক সমুদ্রঘাস,
আর পারস্য উপকূলীয় অরণ্যের
অগণিত অভিবাসী পাখিদের
বিপন্নতা
যুদ্ধ বলে না দৃঢ়
কণ্ঠে|
তীরবর্তী অন্তিম ঘণ্টাধ্বনিতে
বিস্মরণ আর বাস্তবতায়,
উচ্চবর্ণের পতাকা
আত্মাভিমানে পাণ্ডুর|
অজ্ঞানতা আর তেলের আস্তরণে
জল জহর হয়ে যায়|
শব্দের উৎস
ফারহানা রহমান
শুধু মৌনতায় কথা বলো
শুধু মায়ায় বেঁধে রাখো
আমাদের খুব কাছে দ্যাখো
আগল ভেঙেছে কেউ
তখনো তো আমি জেগে
থাকি
নিস্তব্ধ একাকী মেঘে ঘেরা মধ্যরাতে
একা একা সঙ্গীত শয্যায়!
সারি সারি ফুলের উড়নি
গাঁথা ঝাউবন
গাছের মাথায় স্তব্ধ হয়ে থাকে মৃত
আত্মার শরীর
গোঙানির মতো শীতের পতিত
ভূমির উপর ঝুঁকে থাকে
গুচ্ছ গুচ্ছ আঙুরের অভিজাত থোকা
সজীব শিশিরে পাতাগুলো
কেমন লুকিয়ে রাখে শিরা-উপশিরা
এভাবে ঘুমিয়ে আছে
তোমার ভিতর অন্ধ মানবতা
তখনো কেবল তুমি বলে
গেছো
নিজের কথাই আর ঝরা
পাতায় ঢেকেছে
আমার নৈঃশব্দ্য! তবু ছমছম বৃষ্টিতে
নিজের ঘরেই অনাহূত আমি
ব্যথায় ভিজেছে রক্তাভ হৃদয়তাবু
তবু হেঁটেছি, হেঁটেছি আমি
অচেনা মোহন শব্দের ঘ্রাণের খোঁজে...
বোশেখের দুপুরে
বাবুল আনোয়ার
বোশেখের দুপুরে পাশাপাশি দু’জন
হুডখোলা রিকশায় দুলছিল মন
মৃদু বাতাসে তোমার উড়ছিল চুল
নীরবতার ফানুসে উসখুস সারাক্ষণ
যে কথা হয়নি বলা
সঙ্গোপনে ছিল
সে কথায় মুখর ছিল
যুগল সংগীত
শহরের রাজপথ ছেড়ে কিছুটা দূরে
মিশে গেছে যেখানে সুরেলা অতীত|
শুভ কামনা সতত
মাসুম মোরশেদ
গতকাল তুমি মজলুম ছিলে
আজকে যদিবা জালিম হও
জনগণমন ভরসা হারায়
মানুষ তখন মানুষ নও|
দিনগুলো সব খেয়াল রাইখো
মাঘ যায় নাই হইয়া
শেষ
ফিরে যদি আসে সেসব
দিবস
অনুমান করো তা ছিল
না বেশ|
যেই পথরেখা প্রাণদায়ী সুখ
দেখিয়ে নিয়েছো আমার ভার
রক্ষা করার দায়বদ্ধতা
স্বহস্তে নিলে আরেকবার|
উদগ্র তাড়া দেখেছি তোমার
নিশ্চয় সব মেটাবে আশ
ঠিকঠাক হোক সবকিছু তার
না হোক তা আর
সর্বনাশ|

আপনার মতামত লিখুন