সংবাদ

হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ


প্রতিনিধি, রাউজান-হাটহাজারী (চট্টগ্রাম)
প্রতিনিধি, রাউজান-হাটহাজারী (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম

হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ
হালদা নদী থেকে বিশেষ জালে ডিম সংগ্রহ করছেন সংগ্রহকারীরা।। ছবি : সংবাদ

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে কার্প জাতীয় মা মাছ ডিম ছাড়তে শুরু করেছে।  বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে নদীর আজিমেরঘাট, নয়ারহাট কুম, রামদাস মুন্সিরহাট ও মাছুয়াঘোনাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে নমুনা ডিম পাওয়া যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিমের পরিমাণ আরও বাড়তে থাকে।

প্রজনন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বৈশাখ মাসেই পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, পাহাড়ি ঢল ও পূর্ণিমার জো-সব মিলিয়ে পরিবেশ অনুকূলে থাকায় মা মাছ এবার শুরুতেই ডিম দিয়েছে। তবে এবার মাছ ধরার প্রস্তুতি অনেকের কম থাকায় নদীতে ডিম সংগ্রহকারী ও নৌকার সংখ্যা গতবারের তুলনায় কম ছিল। বিকেল পর্যন্ত কোনো কোনো নৌকায় এক থেকে চার কেজি পর্যন্ত ডিম পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নদী গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, দুপুরে জোয়ারের সময় রুই জাতীয় মাছ স্বল্প পরিসরে ডিম ছেড়েছে। অনেক সংগ্রহকারী প্রস্তুত ছিলেন না বলে ডিম সংগ্রহের পরিমাণ কম। তবে রাতে জোয়ারের সময় বড় পরিসরে ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিম সংগ্রহকারী ও মৎস্য পদকপ্রাপ্ত কামাল উদ্দিন সওদাগর বলেন, ‘সকাল থেকে নমুনা ডিম পেলেও দুপুরে পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। তবে এটি পর্যাপ্ত নয়। আমরা বড় আকারের ডিম ছাড়ার আশায় নদীতেই অবস্থান করছি।’

রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সংগৃহীত ডিম থেকে রেণু ফুটানোর জন্য হ্যাচারি ও কুয়াগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাউজানের মোবারকখীল হ্যাচারিতে ৩০টি কুয়া ও ৬টি সার্কুলার ট্যাংক এবং হাটহাজারীর ৩টি সরকারি হ্যাচারিতে ১৫৮টি কুয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মা মাছ ডিম দিয়েছে। সংগ্রহকারীরা ইতিমধ্যে ডিমগুলো হ্যাচারিতে নিতে শুরু করেছেন। রাতে যদি পুরোপুরি ডিম না ছাড়ে, তবে পরবর্তী অমাবস্যার জোতে মা মাছ ডিম দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মৎস্য অধিদপ্তর ও হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির তথ্যমতে, গত বছর হালদা নদী থেকে ১৪ হাজার কেজি নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল। সাধারণত চৈত্র থেকে আষাঢ় মাসের (এপ্রিল-জুন) অমাবস্যা বা পূর্ণিমার তিথিতে বজ্রপাতসহ ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢল নামলে হালদায় রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ মাছ ডিম ছাড়ে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬


হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে কার্প জাতীয় মা মাছ ডিম ছাড়তে শুরু করেছে।  বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে নদীর আজিমেরঘাট, নয়ারহাট কুম, রামদাস মুন্সিরহাট ও মাছুয়াঘোনাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে নমুনা ডিম পাওয়া যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিমের পরিমাণ আরও বাড়তে থাকে।

প্রজনন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বৈশাখ মাসেই পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, পাহাড়ি ঢল ও পূর্ণিমার জো-সব মিলিয়ে পরিবেশ অনুকূলে থাকায় মা মাছ এবার শুরুতেই ডিম দিয়েছে। তবে এবার মাছ ধরার প্রস্তুতি অনেকের কম থাকায় নদীতে ডিম সংগ্রহকারী ও নৌকার সংখ্যা গতবারের তুলনায় কম ছিল। বিকেল পর্যন্ত কোনো কোনো নৌকায় এক থেকে চার কেজি পর্যন্ত ডিম পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নদী গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, দুপুরে জোয়ারের সময় রুই জাতীয় মাছ স্বল্প পরিসরে ডিম ছেড়েছে। অনেক সংগ্রহকারী প্রস্তুত ছিলেন না বলে ডিম সংগ্রহের পরিমাণ কম। তবে রাতে জোয়ারের সময় বড় পরিসরে ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিম সংগ্রহকারী ও মৎস্য পদকপ্রাপ্ত কামাল উদ্দিন সওদাগর বলেন, ‘সকাল থেকে নমুনা ডিম পেলেও দুপুরে পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। তবে এটি পর্যাপ্ত নয়। আমরা বড় আকারের ডিম ছাড়ার আশায় নদীতেই অবস্থান করছি।’

রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সংগৃহীত ডিম থেকে রেণু ফুটানোর জন্য হ্যাচারি ও কুয়াগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাউজানের মোবারকখীল হ্যাচারিতে ৩০টি কুয়া ও ৬টি সার্কুলার ট্যাংক এবং হাটহাজারীর ৩টি সরকারি হ্যাচারিতে ১৫৮টি কুয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মা মাছ ডিম দিয়েছে। সংগ্রহকারীরা ইতিমধ্যে ডিমগুলো হ্যাচারিতে নিতে শুরু করেছেন। রাতে যদি পুরোপুরি ডিম না ছাড়ে, তবে পরবর্তী অমাবস্যার জোতে মা মাছ ডিম দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মৎস্য অধিদপ্তর ও হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির তথ্যমতে, গত বছর হালদা নদী থেকে ১৪ হাজার কেজি নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল। সাধারণত চৈত্র থেকে আষাঢ় মাসের (এপ্রিল-জুন) অমাবস্যা বা পূর্ণিমার তিথিতে বজ্রপাতসহ ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢল নামলে হালদায় রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ মাছ ডিম ছাড়ে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত