দেশের স্বার্থে যেসব বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে, সব মতবিরোধ আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা ও সমাপনী বক্তব্যে সংসদ নেতা এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “খাল খনন কর্মসূচি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। শুধু সেচের জন্য নয়, পানির সংকট কাটাতেই খাল খনন করা হচ্ছে।” তিনি বলেন, “বাজেটের জিডিপির বড় অংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে রাখতে চায় সরকার।”
সংসদে বিতর্কের মধ্য দিয়ে দেশের গণতন্ত্র এগিয়ে যায় বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনে বিরোধীদল ও সরকারি দলের গন্তব্য এক ও অভিন্ন। সংসদে বিতর্কের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র এগিয়ে যায়। যেসব বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে সেসব বিষয়ে দেশের স্বার্থে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।”
জাতীয় সংসদে সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বজায় রাখতে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাব এখনো ‘ওপেন’ বা উন্মুক্ত রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা চাই ডেপুটি স্পিকার পদটি বিরোধী দল থেকে আসুক।”
তারেক রহমান বলেন, “আমি নির্বাচনের আগে বিরোধী দলীয় নেতার বাসায় গিয়ে সহযোগিতা চেয়েছি, এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের বাসায়ও গিয়েছি। আমরা ‘এগ্রি টু ডিসএগ্রি’ (ভিন্নমতে একমত) নীতিতে বিশ্বাস করি। যেসব বিষয়ে দ্বিমত আছে, সেগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।”
বিএনপি চেয়ারম্যান জানান, বিরোধী দলীয় নেতা ও উপনেতার এলাকার সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখার জন্য তিনি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়া রোধে এবং সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত যুগান্তকারী ‘খাল খনন কর্মসূচি’ আবারও দেশব্যাপী শুরু করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “ঢাকা শহরে মাটির নিচ থেকে প্রচুর পানি তোলার ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মহাবিপদে পড়বে। এই সমস্যা সমাধানে খাল খনন শুরু করেছি আমরা। আজ খাল খনন শুরু করলে এর সুফল পেতে এবং পানির স্তর রিফিল হতে অন্তত ২০ বছর সময় লাগবে।”
তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি শুধু সেচের পানির জন্যই নয়, বরং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং জলাবদ্ধতা দূর করতেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণে বোরো ফসলের ক্ষতি মোকাবিলায় মাঠ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জাতীয় সংসদকে জানান তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গত ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বর্ষণে অনেক জায়গায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। আমি আবহাওয়া পূর্বাভাস দেখেই স্থানীয় প্রশাসন ও ত্রাণমন্ত্রী দুলু সাহেবকে নির্দেশনা দিয়েছি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে। এই সরকার জনগণের সরকার, আমাদের প্রধান দায়িত্বই হলো জনগণের জানমালের দেখভাল করা।”
কৃষকের জলাবদ্ধতা ও সেচ সমস্যা নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও সংসদকে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে সংসদকে জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, “আমরা আমাদের মেনিফেস্টোতে কৃষক কার্ডের কথা বলেছিলাম। আল্লাহর রহমতে সরকার গঠনের পর দ্রুততার সঙ্গে আমরা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি। আমরা প্রতিটি কৃষকের কাছে পৌঁছাতে চাই। কৃষক বলতে শুধু যারা ধান ফলায় তারা নয়; যারা মৎস্য চাষ করে, গবাদি পশু পালন করে—আমরা প্রত্যেক ধরনের কৃষকের কাছে পর্যায়ক্রমে পৌঁছাব এবং তাদের পাশে দাঁড়াব।”
সংসদ নেতা বলেন, “আমরা নির্বাচনী প্রচারণার সময় গ্রামে গিয়ে কৃষকের কাছে ভোট চেয়েছি, তাদের অবস্থা আমরা জানি। কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন করার যে কাজ এই সংসদ শুরু করেছে, ইনশাআল্লাহ গ্যালারিতে বসা এই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেই কাজটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
লন্ডনে থাকা অবস্থায় সেখানকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাচ্চাদের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান সংসদে জানান, বাংলাদেশের ছোট ছোট স্কুল পড়ুয়া বাচ্চাদের দেখলে তার মনে কষ্ট হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে এবং বাচ্চাদের সুন্দর পরিবেশ দিতে তার সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও সংসদে তুলে ধরেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেখানে ৩০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে এই সংসদ দেশ পরিচালনা শুরু করেছে, সেই দেশকে আমরা এগিয়ে নিতে পারব না (যদি না) আমরা একটি স্থিতিশীল সরকার না রাখি, আমরা যদি একটি স্থিতিশীল সংসদ নিশ্চিত করতে না পারি, আমরা কোনোভাবেই এই দেশকে সামনে নিয়ে যেতে পারব না। সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।”
সরকারপ্রধান বলেন, “এই দেশকে যদি সামনে নিতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের উভয়পক্ষকে একসাথে কাজ করতে হবে। হ্যাঁ, বাংলাদেশে আইটি শিল্পের বিকাশ কীভাবে হবে এ ব্যাপারে হয়ত আমাদের মধ্যে বিতর্ক হতে পারে, এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে দ্বিমত থাকতে পারে কিন্তু বাংলাদেশের আইটি শিল্পের বহিঃপ্রকাশ হতে হবে এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে নিশ্চয়ই কোনো বিতর্ক নেই।”
জিডিপির বড় অংশ শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের সম্মানী বাড়ানোর চেষ্টা করছি। যাতে করে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে তারা মনোযোগ দিতে পারে। মোট বাজেটের ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে রাখতে চাই। পাশাপাশি স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে বলতে গেলে আমাদের হাসপাতালে ভবন আছে হয়তো ডাক্তার নেই, ওষুধ নেই। তাই জিডিপির বড় অংশ শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করবো। আমাদের একটাই গন্তব্য স্বনির্ভর-আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ।”
সামপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে অকার্যকর হওয়া থেকে রক্ষা করতে সব সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানও সংসদে সমাপনী বক্তব্য রাখেন।
রাষ্ট্রপ্রতি মো.সাহাবুদ্দিনের বরাত দিয়ে রাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনের সমাপনী ঘোষণা করেন।

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
দেশের স্বার্থে যেসব বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে, সব মতবিরোধ আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা ও সমাপনী বক্তব্যে সংসদ নেতা এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “খাল খনন কর্মসূচি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। শুধু সেচের জন্য নয়, পানির সংকট কাটাতেই খাল খনন করা হচ্ছে।” তিনি বলেন, “বাজেটের জিডিপির বড় অংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে রাখতে চায় সরকার।”
সংসদে বিতর্কের মধ্য দিয়ে দেশের গণতন্ত্র এগিয়ে যায় বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনে বিরোধীদল ও সরকারি দলের গন্তব্য এক ও অভিন্ন। সংসদে বিতর্কের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র এগিয়ে যায়। যেসব বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে সেসব বিষয়ে দেশের স্বার্থে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।”
জাতীয় সংসদে সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বজায় রাখতে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাব এখনো ‘ওপেন’ বা উন্মুক্ত রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা চাই ডেপুটি স্পিকার পদটি বিরোধী দল থেকে আসুক।”
তারেক রহমান বলেন, “আমি নির্বাচনের আগে বিরোধী দলীয় নেতার বাসায় গিয়ে সহযোগিতা চেয়েছি, এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের বাসায়ও গিয়েছি। আমরা ‘এগ্রি টু ডিসএগ্রি’ (ভিন্নমতে একমত) নীতিতে বিশ্বাস করি। যেসব বিষয়ে দ্বিমত আছে, সেগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।”
বিএনপি চেয়ারম্যান জানান, বিরোধী দলীয় নেতা ও উপনেতার এলাকার সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখার জন্য তিনি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়া রোধে এবং সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত যুগান্তকারী ‘খাল খনন কর্মসূচি’ আবারও দেশব্যাপী শুরু করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “ঢাকা শহরে মাটির নিচ থেকে প্রচুর পানি তোলার ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মহাবিপদে পড়বে। এই সমস্যা সমাধানে খাল খনন শুরু করেছি আমরা। আজ খাল খনন শুরু করলে এর সুফল পেতে এবং পানির স্তর রিফিল হতে অন্তত ২০ বছর সময় লাগবে।”
তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি শুধু সেচের পানির জন্যই নয়, বরং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং জলাবদ্ধতা দূর করতেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণে বোরো ফসলের ক্ষতি মোকাবিলায় মাঠ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জাতীয় সংসদকে জানান তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গত ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বর্ষণে অনেক জায়গায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। আমি আবহাওয়া পূর্বাভাস দেখেই স্থানীয় প্রশাসন ও ত্রাণমন্ত্রী দুলু সাহেবকে নির্দেশনা দিয়েছি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে। এই সরকার জনগণের সরকার, আমাদের প্রধান দায়িত্বই হলো জনগণের জানমালের দেখভাল করা।”
কৃষকের জলাবদ্ধতা ও সেচ সমস্যা নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও সংসদকে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে সংসদকে জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, “আমরা আমাদের মেনিফেস্টোতে কৃষক কার্ডের কথা বলেছিলাম। আল্লাহর রহমতে সরকার গঠনের পর দ্রুততার সঙ্গে আমরা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি। আমরা প্রতিটি কৃষকের কাছে পৌঁছাতে চাই। কৃষক বলতে শুধু যারা ধান ফলায় তারা নয়; যারা মৎস্য চাষ করে, গবাদি পশু পালন করে—আমরা প্রত্যেক ধরনের কৃষকের কাছে পর্যায়ক্রমে পৌঁছাব এবং তাদের পাশে দাঁড়াব।”
সংসদ নেতা বলেন, “আমরা নির্বাচনী প্রচারণার সময় গ্রামে গিয়ে কৃষকের কাছে ভোট চেয়েছি, তাদের অবস্থা আমরা জানি। কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন করার যে কাজ এই সংসদ শুরু করেছে, ইনশাআল্লাহ গ্যালারিতে বসা এই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেই কাজটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
লন্ডনে থাকা অবস্থায় সেখানকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাচ্চাদের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান সংসদে জানান, বাংলাদেশের ছোট ছোট স্কুল পড়ুয়া বাচ্চাদের দেখলে তার মনে কষ্ট হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে এবং বাচ্চাদের সুন্দর পরিবেশ দিতে তার সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও সংসদে তুলে ধরেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেখানে ৩০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে এই সংসদ দেশ পরিচালনা শুরু করেছে, সেই দেশকে আমরা এগিয়ে নিতে পারব না (যদি না) আমরা একটি স্থিতিশীল সরকার না রাখি, আমরা যদি একটি স্থিতিশীল সংসদ নিশ্চিত করতে না পারি, আমরা কোনোভাবেই এই দেশকে সামনে নিয়ে যেতে পারব না। সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।”
সরকারপ্রধান বলেন, “এই দেশকে যদি সামনে নিতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের উভয়পক্ষকে একসাথে কাজ করতে হবে। হ্যাঁ, বাংলাদেশে আইটি শিল্পের বিকাশ কীভাবে হবে এ ব্যাপারে হয়ত আমাদের মধ্যে বিতর্ক হতে পারে, এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে দ্বিমত থাকতে পারে কিন্তু বাংলাদেশের আইটি শিল্পের বহিঃপ্রকাশ হতে হবে এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে নিশ্চয়ই কোনো বিতর্ক নেই।”
জিডিপির বড় অংশ শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের সম্মানী বাড়ানোর চেষ্টা করছি। যাতে করে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে তারা মনোযোগ দিতে পারে। মোট বাজেটের ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে রাখতে চাই। পাশাপাশি স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে বলতে গেলে আমাদের হাসপাতালে ভবন আছে হয়তো ডাক্তার নেই, ওষুধ নেই। তাই জিডিপির বড় অংশ শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করবো। আমাদের একটাই গন্তব্য স্বনির্ভর-আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ।”
সামপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে অকার্যকর হওয়া থেকে রক্ষা করতে সব সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানও সংসদে সমাপনী বক্তব্য রাখেন।
রাষ্ট্রপ্রতি মো.সাহাবুদ্দিনের বরাত দিয়ে রাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনের সমাপনী ঘোষণা করেন।

আপনার মতামত লিখুন