সংবাদ

আজ মহান মে দিবস

সুস্থ শ্রমিকের হাতেই নব প্রভাত


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ মে ২০২৬, ১২:১৫ এএম

সুস্থ শ্রমিকের হাতেই নব প্রভাত
মহান মে দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য- ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’

আজ ১ মে। মহান মে দিবস। ১৩৯ বছর আগে আমেরিকার শিকাগোর পথে যে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি জানিয়েছিলেন শ্রমিকেরা, সেই স্বপ্ন আজ বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে প্রতিধ্বনিত হয়। বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে। সারা দেশে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হবে।

মহান মে দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য- ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’। শ্রমিকের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে গুরুত্ব দিয়ে এ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণীতে দেশের ও বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শ্রমিকের অধিকার ও পেশাগত নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে এবারের প্রতিপাদ্য অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরাই দেশের উন্নয়নের মূল কারিগর। শিল্প, কৃষি, নির্মাণসহ প্রতিটি খাতে তাদের নিরলস পরিশ্রম আমাদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে।’

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে দেশে-বিদেশে কর্মরত সব শ্রমিককে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘জীবিকা নির্বাহ ও দেশের উন্নয়নে প্রতিটি শ্রমজীবী মানুষের অবদান অনন্য। তাদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে আমাদের কাজ করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় শ্রমিকদের অবদান চিরস্মরণীয়। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে আজ শুক্রবার (১ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সভাপতিত্ব করবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

অন্যদিকে, নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ জাতীয় ও শ্রমিক নেতারা বক্তব্য রাখবেন। লক্ষাধিক শ্রমিকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছে দলটি।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ট্রেড ইউনিয়ন ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বর্ণাঢ্য র‌্যালি, সমাবেশ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আরণ্যক নাট্যদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সকাল ১০টায় মে দিবসের গান, আবৃত্তি ও নাটক ‘মূর্খ লোকের মূর্খ কথা’ এবং সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমিতে ‘রাঢ়াঙ’ নাটক প্রদর্শন করবে। 

এছাড়া বেইলি রোডের বাংলাদেশ মহিলা সমিতিতে বটতলা আয়োজন করেছে শিশুতোষ নাটক বন্যথেরিয়ামের দুটি প্রদর্শনী। নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট এবং সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে দেখা যাবে নাটকটি। সুকুমার রায়ের ‘হেঁসোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি’ অবলম্বনে বন্যথেরিয়ামের নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন ইভান রিয়াজ।

মে দিবসের ইতিহাস

১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। সে সময় শ্রমিকদের দিনে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হতো। শ্রমিকরা সংগঠিত হয়ে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে দেশজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু করেন। 

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৪ মে হে মার্কেটে বোমা বিস্ফোরণ ও পুলিশের গুলিতে কয়েকজন শ্রমিক নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। পরবর্তীতে কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তা বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদের সৃষ্টি করে।

১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে-কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে দিনটি বিশ্বব্যাপী শ্রমিক অধিকার ও ন্যায্যতার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে দিবসটি উদযাপিত হয়। বাংলাদেশেও সরকারি ছুটির পাশাপাশি নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬


সুস্থ শ্রমিকের হাতেই নব প্রভাত

প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬

featured Image

আজ ১ মে। মহান মে দিবস। ১৩৯ বছর আগে আমেরিকার শিকাগোর পথে যে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি জানিয়েছিলেন শ্রমিকেরা, সেই স্বপ্ন আজ বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে প্রতিধ্বনিত হয়। বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে। সারা দেশে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হবে।

মহান মে দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য- ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’। শ্রমিকের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে গুরুত্ব দিয়ে এ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণীতে দেশের ও বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শ্রমিকের অধিকার ও পেশাগত নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে এবারের প্রতিপাদ্য অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরাই দেশের উন্নয়নের মূল কারিগর। শিল্প, কৃষি, নির্মাণসহ প্রতিটি খাতে তাদের নিরলস পরিশ্রম আমাদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে।’

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে দেশে-বিদেশে কর্মরত সব শ্রমিককে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘জীবিকা নির্বাহ ও দেশের উন্নয়নে প্রতিটি শ্রমজীবী মানুষের অবদান অনন্য। তাদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে আমাদের কাজ করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় শ্রমিকদের অবদান চিরস্মরণীয়। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে আজ শুক্রবার (১ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সভাপতিত্ব করবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

অন্যদিকে, নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ জাতীয় ও শ্রমিক নেতারা বক্তব্য রাখবেন। লক্ষাধিক শ্রমিকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছে দলটি।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ট্রেড ইউনিয়ন ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বর্ণাঢ্য র‌্যালি, সমাবেশ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আরণ্যক নাট্যদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সকাল ১০টায় মে দিবসের গান, আবৃত্তি ও নাটক ‘মূর্খ লোকের মূর্খ কথা’ এবং সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমিতে ‘রাঢ়াঙ’ নাটক প্রদর্শন করবে। 

এছাড়া বেইলি রোডের বাংলাদেশ মহিলা সমিতিতে বটতলা আয়োজন করেছে শিশুতোষ নাটক বন্যথেরিয়ামের দুটি প্রদর্শনী। নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট এবং সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে দেখা যাবে নাটকটি। সুকুমার রায়ের ‘হেঁসোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি’ অবলম্বনে বন্যথেরিয়ামের নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন ইভান রিয়াজ।

মে দিবসের ইতিহাস

১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। সে সময় শ্রমিকদের দিনে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হতো। শ্রমিকরা সংগঠিত হয়ে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে দেশজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু করেন। 

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৪ মে হে মার্কেটে বোমা বিস্ফোরণ ও পুলিশের গুলিতে কয়েকজন শ্রমিক নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। পরবর্তীতে কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তা বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদের সৃষ্টি করে।

১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে-কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে দিনটি বিশ্বব্যাপী শ্রমিক অধিকার ও ন্যায্যতার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে দিবসটি উদযাপিত হয়। বাংলাদেশেও সরকারি ছুটির পাশাপাশি নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত