বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম এম এ আলমগীর। কয়েক দশক ধরে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের হৃদয়ে অমলিন ছাপ রেখে যাওয়া এই কিংবদন্তি অভিনেতা এবার পেলেন তার কর্মময় জীবনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতিগুলোর একটি। দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ২০২৫-এ তাকে প্রদান করা হয়েছে ‘আজীবন সম্মাননা’।
রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ আয়োজিত জমকালো
অনুষ্ঠানে ছিল তারকাদের মিলনমেলা। সেই মঞ্চেই সম্মানিত করা হয় এই বরেণ্য অভিনেতাকে।
অনুষ্ঠানে তার হাতে সম্মাননা স্মারক ও ৩ লাখ টাকার চেক তুলে দেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী
রুনা লায়লা। তাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন অঞ্জন চৌধুরী। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মতিউর
রহমান। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রখ্যাত অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন। সম্মাননা
গ্রহণের মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন।
মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শকরা দাঁড়িয়ে তাকে
অভিবাদন জানান—একটি দৃশ্য, যা যেন তার দীর্ঘদিনের অর্জনের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক হয়ে
ওঠে। এই ভালোবাসায় আপ্লুত হয়ে আলমগীর বলেন, “আমি সত্যিই এই সম্মাননার যোগ্য কি না জানি
না। অভিনয়ের যে গভীরতা, তা এক জীবনে শেষ করা সম্ভব নয়। হয়তো শত জীবন লাগবে এর শেষ খুঁজে
পেতে। আমরা তো মাত্র একটি জীবন পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা যেভাবে দাঁড়িয়ে আমাকে সম্মান জানিয়েছেন,
এটি আমি আমার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত হৃদয়ে ধারণ করে রাখব।” অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়
আলমগীরের জীবন ও কর্মভিত্তিক একটি বিশেষ তথ্যচিত্র, যেখানে উঠে আসে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের
নানা অধ্যায়—সংগ্রাম, সাফল্য, জনপ্রিয়তা এবং একজন শিল্পী হিসেবে তার নিরলস পথচলা। এই
তথ্যচিত্র উপস্থিত দর্শকদের মনে নস্টালজিয়ার আবহ তৈরি করে এবং নতুন প্রজন্মকে তার কাজ
সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে আলমগীর শুধু একজন
সফল অভিনেতাই নন, তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম। নায়ক থেকে চরিত্রাভিনেতা—প্রতিটি ভূমিকায়
তিনি নিজেকে বারবার নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অভিনয়ের ধরন
বদলালেও তার আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা কখনো কমেনি।
এদিনের আয়োজনে দেশের নবীন ও প্রবীণ তারকারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের
অনেকেই আলমগীরকে অনুসরণ করে বড় হয়েছেন, অনেকে তাকে আদর্শ মানেন। ফলে তার এই সম্মাননা
যেন পুরো চলচ্চিত্র পরিবারেরই গর্ব হয়ে ওঠে। সব মিলিয়ে, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ২০২৫-এ
এম এ আলমগীর-এর আজীবন সম্মাননা অর্জন কেবল একটি পুরস্কার প্রাপ্তি নয়—এটি বাংলাদেশের
চলচ্চিত্র অঙ্গনে তার অসামান্য অবদান, নিষ্ঠা এবং শিল্পসাধনার এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম এম এ আলমগীর। কয়েক দশক ধরে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের হৃদয়ে অমলিন ছাপ রেখে যাওয়া এই কিংবদন্তি অভিনেতা এবার পেলেন তার কর্মময় জীবনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতিগুলোর একটি। দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ২০২৫-এ তাকে প্রদান করা হয়েছে ‘আজীবন সম্মাননা’।
রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ আয়োজিত জমকালো
অনুষ্ঠানে ছিল তারকাদের মিলনমেলা। সেই মঞ্চেই সম্মানিত করা হয় এই বরেণ্য অভিনেতাকে।
অনুষ্ঠানে তার হাতে সম্মাননা স্মারক ও ৩ লাখ টাকার চেক তুলে দেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী
রুনা লায়লা। তাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন অঞ্জন চৌধুরী। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মতিউর
রহমান। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রখ্যাত অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন। সম্মাননা
গ্রহণের মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন।
মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শকরা দাঁড়িয়ে তাকে
অভিবাদন জানান—একটি দৃশ্য, যা যেন তার দীর্ঘদিনের অর্জনের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক হয়ে
ওঠে। এই ভালোবাসায় আপ্লুত হয়ে আলমগীর বলেন, “আমি সত্যিই এই সম্মাননার যোগ্য কি না জানি
না। অভিনয়ের যে গভীরতা, তা এক জীবনে শেষ করা সম্ভব নয়। হয়তো শত জীবন লাগবে এর শেষ খুঁজে
পেতে। আমরা তো মাত্র একটি জীবন পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা যেভাবে দাঁড়িয়ে আমাকে সম্মান জানিয়েছেন,
এটি আমি আমার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত হৃদয়ে ধারণ করে রাখব।” অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়
আলমগীরের জীবন ও কর্মভিত্তিক একটি বিশেষ তথ্যচিত্র, যেখানে উঠে আসে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের
নানা অধ্যায়—সংগ্রাম, সাফল্য, জনপ্রিয়তা এবং একজন শিল্পী হিসেবে তার নিরলস পথচলা। এই
তথ্যচিত্র উপস্থিত দর্শকদের মনে নস্টালজিয়ার আবহ তৈরি করে এবং নতুন প্রজন্মকে তার কাজ
সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে আলমগীর শুধু একজন
সফল অভিনেতাই নন, তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম। নায়ক থেকে চরিত্রাভিনেতা—প্রতিটি ভূমিকায়
তিনি নিজেকে বারবার নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অভিনয়ের ধরন
বদলালেও তার আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা কখনো কমেনি।
এদিনের আয়োজনে দেশের নবীন ও প্রবীণ তারকারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের
অনেকেই আলমগীরকে অনুসরণ করে বড় হয়েছেন, অনেকে তাকে আদর্শ মানেন। ফলে তার এই সম্মাননা
যেন পুরো চলচ্চিত্র পরিবারেরই গর্ব হয়ে ওঠে। সব মিলিয়ে, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ২০২৫-এ
এম এ আলমগীর-এর আজীবন সম্মাননা অর্জন কেবল একটি পুরস্কার প্রাপ্তি নয়—এটি বাংলাদেশের
চলচ্চিত্র অঙ্গনে তার অসামান্য অবদান, নিষ্ঠা এবং শিল্পসাধনার এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি।

আপনার মতামত লিখুন