সাতক্ষীরার ফিলিং স্টেশনগুলোতে গত দুই মাসের চিরচেনা দৃশ্যপট বদলে গেছে। একসময় তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল আরোহীদের দীর্ঘ লাইন কিংবা সেচযন্ত্রের জন্য ডিজেল নিতে আসা কৃষকদের ভিড় থাকলেও এখন পাম্পগুলো প্রায় জনশূন্য। জেলার ২৮টি ফিলিং স্টেশনে এখন পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল থাকলেও ক্রেতার দেখা মিলছে না। ফলে জ্বালানি বিক্রিও আশঙ্কাজনক হারে কমেছে।
সোমবার (৪ মে) সাতক্ষীরা সদরের মজুমদার ফিলিং স্টেশন, তালার মদিনা ফিলিং স্টেশন, কলারোয়ার সোনিয়া, ইউরেকা ও হোসেন ফিলিং স্টেশন এবং কাজিরহাটের ডেলমা ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
কলারোয়ার কাজিরহাট ডেলমা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো মোটরসাইকেল বা ডিজেল নিতে আসা যানবাহনের ভিড় নেই। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল রোববার তারা ৮৯৫ লিটার পেট্রল ও ৩ হাজার ৪০ লিটার ডিজেল বিক্রি করেছিল। সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত পেট্রল ৭০৫ লিটার এবং ডিজেল ২ হাজার ২৩৮ লিটার বিক্রি হয়েছে। অথচ গত মার্চ ও এপ্রিল মাসের সংকটকালীন সময়ে মাত্র ৪ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৯ হাজার লিটার ডিজেল ও ৩ হাজার লিটার পেট্রল বিক্রি হয়ে যেত।
একই অবস্থা কলারোয়ার ইউরেকা ফিলিং স্টেশনেও। সেখানে মাঝে মাঝে দু-একটি মোটরসাইকেল এলেও ডিজেল নিতে আসা কোনো যানবাহন দেখা যায়নি। সংকটের সময় প্রতিদিন চার-পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে সব তেল শেষ হয়ে গেলেও এখন সারাদিন অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা মিলছে না। সোনিয়া ফিলিং স্টেশনেও বিক্রির পরিমাণ অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।
তালার মদিনা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল আরোহী আজমির হোসেন বলেন, ‘কোনো লাইন নেই, ভিড় নেই। সুযোগ বুঝে বাইকের ট্যাংক ফুল করে তেল নিলাম। অথচ কিছুদিন আগেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হতো।’
সাতক্ষীরা শহরের এবি খান ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা ট্রাকচালক পলাশ হোসেন বলেন, ‘আগে তেলের জন্য অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো, এখন ভিড় ছাড়াই ৯০ লিটার ডিজেল নিলাম।’
বিক্রি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে কলারোয়ার ইউরেকা ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী আমজাদ হোসেন বলেন, সাধারণ মানুষ সংকটের আশঙ্কায় আগে থেকেই বাড়তি তেল মজুদ করে রেখেছে। ফলে এখন স্বাভাবিক বিক্রিও নেই। ডেলমা ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মনিরুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে রাখায় এখন পাম্পগুলো ফাঁকা হয়ে পড়েছে।
পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের খুলনা ডিপোর ডিএমও আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমাদের ডিপোতে পর্যাপ্ত তেল মজুত ছিল এবং আছে। কোনো সংকট ছিল না। মূলত সংকটের গুজবে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে মজুত করে রেখেছিল। তেলের নতুন দাম নির্ধারণের পর এখন পাম্পগুলোতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে।’
আপনার মতামত লিখুন