মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের সরাসরি সংযোগ থাকায় কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। খাতগুলোর উন্নয়নে জেলা প্রশাসকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (৪ মে) ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে
অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ,
কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষিখাতকে সর্বোচ্চ
অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং নির্বাচনী
অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ঋণ সুবিধা, প্রণোদনা এবং বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক বিতরণ কার্যক্রম চালু রেখেছে। তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তাই কৃষকের অর্থনীতি শক্তিশালী
হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও
আরো দৃঢ় হবে।
দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক মাছের আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ায় দেশি মাছ বিলুপ্তির
পথে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায়
সরকার গ্রামভিত্তিক মাছের অভয়ারণ্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং সাধারণ মানুষ সহজে মাছের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে পারে।
কীটনাশকের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, অনিয়ন্ত্রিত
ব্যবহারে মাটির উর্বরতা ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত
হচ্ছে। এ কারণে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কীটনাশক ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, মুক্তা চাষসহ বিকল্প কৃষি উদ্যোগ সম্প্রসারণে
সরকার কাজ করছে এবং এটিকে কৃষির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো চিংড়ির পোনা উৎপাদনে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে; তবে প্রয়োজনে আমদানির ক্ষেত্রে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, একসময় ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ পরিচিতি থাকলেও সরকার মাছ উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম
বাস্তবায়ন করছে।
জেলেদের সহায়তায় গৃহীত উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভিজিএফ কর্মসূচির
পাশাপাশি সম্প্রতি প্রায় ৪০ হাজার জেলে পরিবারকে দুই মাসের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যার জন্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, দেশকে একটি স্থায়ী গণতান্ত্রিক
কাঠামোর ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা প্রমুখ।

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের সরাসরি সংযোগ থাকায় কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। খাতগুলোর উন্নয়নে জেলা প্রশাসকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (৪ মে) ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে
অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ,
কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষিখাতকে সর্বোচ্চ
অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং নির্বাচনী
অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ঋণ সুবিধা, প্রণোদনা এবং বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক বিতরণ কার্যক্রম চালু রেখেছে। তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তাই কৃষকের অর্থনীতি শক্তিশালী
হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও
আরো দৃঢ় হবে।
দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক মাছের আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ায় দেশি মাছ বিলুপ্তির
পথে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায়
সরকার গ্রামভিত্তিক মাছের অভয়ারণ্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং সাধারণ মানুষ সহজে মাছের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে পারে।
কীটনাশকের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, অনিয়ন্ত্রিত
ব্যবহারে মাটির উর্বরতা ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত
হচ্ছে। এ কারণে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কীটনাশক ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, মুক্তা চাষসহ বিকল্প কৃষি উদ্যোগ সম্প্রসারণে
সরকার কাজ করছে এবং এটিকে কৃষির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো চিংড়ির পোনা উৎপাদনে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে; তবে প্রয়োজনে আমদানির ক্ষেত্রে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, একসময় ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ পরিচিতি থাকলেও সরকার মাছ উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম
বাস্তবায়ন করছে।
জেলেদের সহায়তায় গৃহীত উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভিজিএফ কর্মসূচির
পাশাপাশি সম্প্রতি প্রায় ৪০ হাজার জেলে পরিবারকে দুই মাসের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যার জন্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, দেশকে একটি স্থায়ী গণতান্ত্রিক
কাঠামোর ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন