সংবাদ

ভুয়া মামলা প্রত্যাহার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর সরকার


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ৬ মে ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

ভুয়া মামলা প্রত্যাহার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর সরকার
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ভুয়া মামলা প্রত্যাহারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। গায়েবি ও হয়রানিমূলক মামলা যাচাইয়ের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জমা না দেওয়া প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের চতুর্থ দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী জানান, সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনে শৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জমা না দেওয়া প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার, মামলা ও বাজেয়াপ্তকরণ প্রক্রিয়া জোরদার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনে প্রাক-নির্বাচনী সময়ে জনসাধারণের কাছে জমা নেওয়া লাইসেন্সকৃত অস্ত্র ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

যেসব অস্ত্র ফেরত দেওয়া হবে: ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির আগের লাইসেন্সভুক্ত অস্ত্র, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর লাইসেন্সভুক্ত অস্ত্র, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ইস্যুকৃত লাইসেন্স যাচাইয়ের পর নীতিমালা মোতাবেক ইস্যু হয়েছে বলে প্রতীয়মান হলে সেগুলোও ফেরত দেওয়া হবে।

ভুয়া মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া: বিগত সরকারের আমলে দায়েরকৃত ‘গায়েবি’ ও ভুয়া মামলা নিরসনে কাজ করছে সরকার। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে এসব মামলা যাচাই করা হবে। ভুক্তভোগীরা নির্ধারিত ফরমে চার্জশিট বা এজাহারসহ আবেদন করতে পারবেন।

প্রাথমিক যাচাই শেষে সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। সিআরপিসির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী আইনগতভাবে মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ৫ আগস্ট পরবর্তী গণহত্যামূলক মামলায় নিরপরাধ কেউ বা কোনো সাংবাদিক যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আসন্ন ঈদুল আযহার নিরাপত্তা: সড়ক-মহাসড়কের ওপর ও রেলপথের পাশে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। বড় হাটগুলোতে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন থাকবে এবং পুলিশ বডি ওর্ন ক্যামেরা নিয়ে টহল দেবে।

ঈদের সাত দিন আগে পুলিশ সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল স্থাপন করা হবে। মহাসড়কগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তায় মাইকিং ও সচেতনতামূলক সাইনবোর্ডের ব্যবস্থা থাকবে।

উপজেলা পর্যায়ে বিনামূল্যে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ করা হবে, যাতে তৃণমূল পর্যায়েই সাত দিন পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণ করা যায়। ঢাকার ইটিপির ধারণক্ষমতা বিবেচনায় চামড়াগুলো সাত দিন পর ক্রমান্বয়ে ঢাকায় আনার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুশব্যাকের আশঙ্কায় বিজিবিকে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। মাদক, জুয়া ও অনলাইন বেটিংয়ের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে নিয়মিত অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬


ভুয়া মামলা প্রত্যাহার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর সরকার

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ভুয়া মামলা প্রত্যাহারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। গায়েবি ও হয়রানিমূলক মামলা যাচাইয়ের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জমা না দেওয়া প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের চতুর্থ দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী জানান, সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনে শৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জমা না দেওয়া প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার, মামলা ও বাজেয়াপ্তকরণ প্রক্রিয়া জোরদার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনে প্রাক-নির্বাচনী সময়ে জনসাধারণের কাছে জমা নেওয়া লাইসেন্সকৃত অস্ত্র ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

যেসব অস্ত্র ফেরত দেওয়া হবে: ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির আগের লাইসেন্সভুক্ত অস্ত্র, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর লাইসেন্সভুক্ত অস্ত্র, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ইস্যুকৃত লাইসেন্স যাচাইয়ের পর নীতিমালা মোতাবেক ইস্যু হয়েছে বলে প্রতীয়মান হলে সেগুলোও ফেরত দেওয়া হবে।

ভুয়া মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া: বিগত সরকারের আমলে দায়েরকৃত ‘গায়েবি’ ও ভুয়া মামলা নিরসনে কাজ করছে সরকার। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে এসব মামলা যাচাই করা হবে। ভুক্তভোগীরা নির্ধারিত ফরমে চার্জশিট বা এজাহারসহ আবেদন করতে পারবেন।

প্রাথমিক যাচাই শেষে সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। সিআরপিসির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী আইনগতভাবে মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ৫ আগস্ট পরবর্তী গণহত্যামূলক মামলায় নিরপরাধ কেউ বা কোনো সাংবাদিক যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আসন্ন ঈদুল আযহার নিরাপত্তা: সড়ক-মহাসড়কের ওপর ও রেলপথের পাশে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। বড় হাটগুলোতে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন থাকবে এবং পুলিশ বডি ওর্ন ক্যামেরা নিয়ে টহল দেবে।

ঈদের সাত দিন আগে পুলিশ সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল স্থাপন করা হবে। মহাসড়কগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তায় মাইকিং ও সচেতনতামূলক সাইনবোর্ডের ব্যবস্থা থাকবে।

উপজেলা পর্যায়ে বিনামূল্যে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ করা হবে, যাতে তৃণমূল পর্যায়েই সাত দিন পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণ করা যায়। ঢাকার ইটিপির ধারণক্ষমতা বিবেচনায় চামড়াগুলো সাত দিন পর ক্রমান্বয়ে ঢাকায় আনার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুশব্যাকের আশঙ্কায় বিজিবিকে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। মাদক, জুয়া ও অনলাইন বেটিংয়ের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে নিয়মিত অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত