সংবাদ

খাল খনন: এবার নজর ঢাকায়


ফয়েজ আহমেদ তুষার
ফয়েজ আহমেদ তুষার
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

খাল খনন: এবার নজর ঢাকায়
ছবি : সংগৃহীত

মোট খাল ৫৬, উত্তরে ২৭, দক্ষিণে ২৯টি 

দখল ও দূষণে অধিকাংশই সংকুচিত হয়ে মৃতপ্রায়

অনেকে ‘জানেনই না’ এখানে কোন এক সময় খাল ছিল

সরকরের লক্ষ্য, সিএস খতিয়ান দেখে খালের মূল সীমানা উদ্ধার

স্থায়ী বাঁধ ও বৃক্ষ রোপন

সারাদেশে শুরু হওয়া ‘খাল খনন কর্মসূচির’ ধারাবাহিকতায় এবার রাজধানী ঢাকার অভ্যন্তরীণ খালগুলোর দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে সরকার। ঢাকার চিরচেনা জলাবদ্ধতা দূর করতে এবং অবরুদ্ধ খালগুলো উদ্ধার করে চারপাশের নদীগুলোর সাথে পানিপ্রবাহ সচল করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় দুই সিটি কর্পোরেশনের আওতায় মোট ৫৬টি প্রধান খাল রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) অধীনে ২৭টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) অধীনে ২৯টি খাল রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনার আলোকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সবগুলো খালের সীমানা নির্ধারণ ও খনন কাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান শনিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, “গত ১৯ বছরে এ ধরনের ব্যাপক খাল পরিষ্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে ডিএনসিসির আওতাধীন সব খাল পর্যায়ক্রমে পরিষ্কার করা হবে এবং নগরবাসীকে জলাবদ্ধতামুক্ত নগর উপহার দেওয়া হবে।”

ঢাকার প্রধান খালগুলোর মধ্যে একটি রামচন্দ্রপুর খাল। এটি মোহাম্মদপুর ও বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। কল্যাণপুর খাল মিরপুর ও কল্যাণপুর অঞ্চলের বিশাল অংশের পানি প্রবাহ সচল রাখে। কুতুবখালী খাল যাত্রাবাড়ী ও কুতুবখালী এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলধারা। ধোলাইখাল পুরান ঢাকার অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী একটি খাল। মুসলিম বাজার খাল মিরপুর অঞ্চলের একটি অন্যতম অভ্যন্তরীণ খাল। কুড়িল-পূর্বাচল খাল: বাড্ডা ও কুড়িল এলাকার পানি নিষ্কাশন চ্যানেল। খিদির খাল: রামপুরা ও খিলগাঁও এলাকার পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।

এছাড়া, বাউনিয়া ও রূপনগর খাল, কালশী ও বাইশটেকি খাল, কাটাসুর ও রায়েরবাজার খাল, বেগুনবাড়ি ও মহাখালী খাল, সুতিভোলা ও শাহজাদপুর খাল, আবদুল্লাহপুর ও দিয়াবাড়ি খাল, মাণ্ডা ও জিরানী খাল, সেগুনবাগিচা খাল, শ্যামপুর খাল, কালুনগর ও হাজারীবাগ খালও ঢাকার পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

দীর্ঘদিনের দখল ও দূষণে অধিকাংশ খালই সংকুচিত হয়ে মৃতপ্রায়। অনেক এলাকায় এমন অবস্থাও হয়েছে যে অনেকে জানেনই না এখানে একদিন খাল ছিল।

রামপুরার আদি বাসিন্দা শেফিক রহমান। নিজের এলাকার খাল প্রসঙ্গে তিনি সংবাদকে বলেন, “আগে রামপুরা বাজার থেকে টিভি সেন্টার পর্যন্ত আসতে মাঝখানে একটা খাল ছিল। ছোট একটি ব্রিজ পার হয়ে আসতে হতো। স্থানীয় কত ছেলে-মেয়ে এখানে সাঁতার শিখেছে। আর টিভি সেন্টারের পরে নদী পার হয়ে মেরুল যেতে হতো। সেখানে এক সময় কাঠের ব্রিজ ছিল।”

বাজার আর টিভি সেন্টারের মাঝখানের খালটা একেবারে হারিয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এই রাস্তায় চলাচলের সময় আমার ছেলেকে দেখিয়ে বলি, এখানে একটা খাল ছিল, একটা ব্রিজ ছিল। সে বিশ্বাসই করতে চায় না।”

শেফিক বলেন, “শুধু আমার ছেলে নয়, নতুন প্রজন্মের যারা কেউই জানানে না। এই খালের কথা।”

মাতুয়াইলের বাসিন্দা হাসান মিয়া সংবাদকে বলেন, “আমাদের যাত্রাবাড়ি বাজার থেকে শনিরআঁখড়া পর্যন্ত যে খালটি, সেটাতো আর খাল নাই। দখল হতে হতে এখন ময়লার ড্রেন হয়ে গেছে।” তিনি জানান, এক সময় এই খালে স্থানীয়রা মাছ ধরত।

শনিবার রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বর এলাকার মুসলিম বাজার খালের ময়লা অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শনে যান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন মোট ৫৬টি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত দুটি কমিটির মাধ্যমে ঢাকা উত্তরের ২৭টি এবং দক্ষিণের ২৯টি খালের দখলমুক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “খালগুলো দখলমুক্ত করার পর ডিমার্কেশনের মাধ্যমে উভয় পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ খাল দখল করতে না পারে।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, “গত ১৯ বছরে আন্তরিকতার সঙ্গে নগরীর খাল ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়নি। বর্তমান সরকার নগরবাসীর স্বার্থে অলিগলি থেকে শুরু করে খাল-বিল পর্যন্ত সর্বত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে।” এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ডিএনসিসির প্রশাসক উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা যায়, সিএস খতিয়ান অনুযায়ী ঢাকার সব খালের মূল সীমানা উদ্ধার করে স্থায়ী বাঁধ ও গাছ রোপণের মাধ্যমে ঢাকাকে একটি জলবায়ু-সহনশীল ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সূত্র বলছে, এতে সময় লাগলেও উদ্ধার অভিযান অব্যহত থাকবে। পাশপাশি চলবে খনন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


খাল খনন: এবার নজর ঢাকায়

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

featured Image

মোট খাল ৫৬, উত্তরে ২৭, দক্ষিণে ২৯টি 

দখল ও দূষণে অধিকাংশই সংকুচিত হয়ে মৃতপ্রায়

অনেকে ‘জানেনই না’ এখানে কোন এক সময় খাল ছিল

সরকরের লক্ষ্য, সিএস খতিয়ান দেখে খালের মূল সীমানা উদ্ধার

স্থায়ী বাঁধ ও বৃক্ষ রোপন

সারাদেশে শুরু হওয়া ‘খাল খনন কর্মসূচির’ ধারাবাহিকতায় এবার রাজধানী ঢাকার অভ্যন্তরীণ খালগুলোর দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে সরকার। ঢাকার চিরচেনা জলাবদ্ধতা দূর করতে এবং অবরুদ্ধ খালগুলো উদ্ধার করে চারপাশের নদীগুলোর সাথে পানিপ্রবাহ সচল করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় দুই সিটি কর্পোরেশনের আওতায় মোট ৫৬টি প্রধান খাল রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) অধীনে ২৭টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) অধীনে ২৯টি খাল রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনার আলোকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সবগুলো খালের সীমানা নির্ধারণ ও খনন কাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান শনিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, “গত ১৯ বছরে এ ধরনের ব্যাপক খাল পরিষ্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে ডিএনসিসির আওতাধীন সব খাল পর্যায়ক্রমে পরিষ্কার করা হবে এবং নগরবাসীকে জলাবদ্ধতামুক্ত নগর উপহার দেওয়া হবে।”

ঢাকার প্রধান খালগুলোর মধ্যে একটি রামচন্দ্রপুর খাল। এটি মোহাম্মদপুর ও বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। কল্যাণপুর খাল মিরপুর ও কল্যাণপুর অঞ্চলের বিশাল অংশের পানি প্রবাহ সচল রাখে। কুতুবখালী খাল যাত্রাবাড়ী ও কুতুবখালী এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলধারা। ধোলাইখাল পুরান ঢাকার অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী একটি খাল। মুসলিম বাজার খাল মিরপুর অঞ্চলের একটি অন্যতম অভ্যন্তরীণ খাল। কুড়িল-পূর্বাচল খাল: বাড্ডা ও কুড়িল এলাকার পানি নিষ্কাশন চ্যানেল। খিদির খাল: রামপুরা ও খিলগাঁও এলাকার পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।

এছাড়া, বাউনিয়া ও রূপনগর খাল, কালশী ও বাইশটেকি খাল, কাটাসুর ও রায়েরবাজার খাল, বেগুনবাড়ি ও মহাখালী খাল, সুতিভোলা ও শাহজাদপুর খাল, আবদুল্লাহপুর ও দিয়াবাড়ি খাল, মাণ্ডা ও জিরানী খাল, সেগুনবাগিচা খাল, শ্যামপুর খাল, কালুনগর ও হাজারীবাগ খালও ঢাকার পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

দীর্ঘদিনের দখল ও দূষণে অধিকাংশ খালই সংকুচিত হয়ে মৃতপ্রায়। অনেক এলাকায় এমন অবস্থাও হয়েছে যে অনেকে জানেনই না এখানে একদিন খাল ছিল।

রামপুরার আদি বাসিন্দা শেফিক রহমান। নিজের এলাকার খাল প্রসঙ্গে তিনি সংবাদকে বলেন, “আগে রামপুরা বাজার থেকে টিভি সেন্টার পর্যন্ত আসতে মাঝখানে একটা খাল ছিল। ছোট একটি ব্রিজ পার হয়ে আসতে হতো। স্থানীয় কত ছেলে-মেয়ে এখানে সাঁতার শিখেছে। আর টিভি সেন্টারের পরে নদী পার হয়ে মেরুল যেতে হতো। সেখানে এক সময় কাঠের ব্রিজ ছিল।”

বাজার আর টিভি সেন্টারের মাঝখানের খালটা একেবারে হারিয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এই রাস্তায় চলাচলের সময় আমার ছেলেকে দেখিয়ে বলি, এখানে একটা খাল ছিল, একটা ব্রিজ ছিল। সে বিশ্বাসই করতে চায় না।”

শেফিক বলেন, “শুধু আমার ছেলে নয়, নতুন প্রজন্মের যারা কেউই জানানে না। এই খালের কথা।”

মাতুয়াইলের বাসিন্দা হাসান মিয়া সংবাদকে বলেন, “আমাদের যাত্রাবাড়ি বাজার থেকে শনিরআঁখড়া পর্যন্ত যে খালটি, সেটাতো আর খাল নাই। দখল হতে হতে এখন ময়লার ড্রেন হয়ে গেছে।” তিনি জানান, এক সময় এই খালে স্থানীয়রা মাছ ধরত।

শনিবার রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বর এলাকার মুসলিম বাজার খালের ময়লা অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শনে যান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন মোট ৫৬টি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত দুটি কমিটির মাধ্যমে ঢাকা উত্তরের ২৭টি এবং দক্ষিণের ২৯টি খালের দখলমুক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “খালগুলো দখলমুক্ত করার পর ডিমার্কেশনের মাধ্যমে উভয় পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ খাল দখল করতে না পারে।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, “গত ১৯ বছরে আন্তরিকতার সঙ্গে নগরীর খাল ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়নি। বর্তমান সরকার নগরবাসীর স্বার্থে অলিগলি থেকে শুরু করে খাল-বিল পর্যন্ত সর্বত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে।” এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ডিএনসিসির প্রশাসক উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা যায়, সিএস খতিয়ান অনুযায়ী ঢাকার সব খালের মূল সীমানা উদ্ধার করে স্থায়ী বাঁধ ও গাছ রোপণের মাধ্যমে ঢাকাকে একটি জলবায়ু-সহনশীল ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সূত্র বলছে, এতে সময় লাগলেও উদ্ধার অভিযান অব্যহত থাকবে। পাশপাশি চলবে খনন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত