সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গ দিবসে মোদির বড় বার্তা


দীপক মুখার্জী
দীপক মুখার্জী প্রতিনিধি, কলকাতা
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম

পশ্চিমবঙ্গ দিবসে মোদির বড় বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা— আর সেই আবহেই প্রথমবার ধুমধাম করে পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে শনিবার হুগলির তারকেশ্বরে উপস্থিত হলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । আর তার উপস্থিতিতে যেন উৎসবের আবহে নতুন বাংলার ভবিষ্যতের বার্তাই উঠে এল সভামঞ্চ থেকে।

শনিবার দুপুরে দমদম বিমানবন্দরে নামার পর কপ্টারে করে বিকেল চারটের কিছু পরে তারকেশ্বরে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। সভাস্থলে তাকে স্বাগত জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যপাল আর.এন রবি। বাংলার ঐতিহ্য মেনে ডোকরার দুর্গামূর্তি, বাবা তারকনাথের ছবি, রসগোল্লা ও জলভরা সন্দেশ তুলে দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন ১৯৪৭ সালের সেই দিনটিকে, যেদিন বাংলাকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব পাশ হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন শ্যামা প্রসাদ মুখার্জীর অবদান।

নিজের ভাষণের শুরুতেই ‘জয় বাবা তারকনাথ’ এবং ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি তুলে মোদি বলেন, “বাংলার বাতাসে আজ এক নতুন সুগন্ধ- যেন বাংলা আজ বেড়ি ভেঙে স্বাধীন হয়েছে।” পাশাপাশি তিনি স্মরণ করেন মেঘনাদ সাহা, সুনীতি কুমার চ্যাটার্জিসহ মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতাদের অবদান।

নতুন ডাবল ইঞ্জিন সরকারের উন্নয়ন গতিকে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী রেল, কৃষি ও মৎস্য দপ্তরের প্রায় ৮২০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। একইসঙ্গে বিগত তৃণমূল ও সিপিএম সরকারের কড়া সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন- ইতিহাস বিকৃতি ও তোষণনীতির রাজনীতিতে বাংলার ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ টেগর, সুভাষ চন্দ্র বোস, স্বামী ভিভেকানান্দ এবং ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর-এর এই পুণ্যভূমিতে বিদেশি চিন্তাধারা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে সেই অন্ধকার কাটিয়ে উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে বাংলা দাবি করেন তিনি।

এদিন সভাস্থলের নিরাপত্তা ছিল নজিরবিহীন। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারির পাশাপাশি ফুলে ফুলে সাজানো হয়েছিল পুরো মঞ্চ। 

থাইল্যান্ডের অ্যান্থোরিয়াম থেকে উটির জারবেরা- সব মিলিয়ে চোখ ধাঁধানো আয়োজন। চারপাশে কলকাতার ঐতিহ্য— হলুদ ট্যাক্সি, টানা রিকশা, দক্ষিণেশ্বর ও বেলুড় মঠের প্রতিকৃতি— যেন তুলে ধরেছিল এক টুকরো বাংলাকে।

সভা শেষে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপনের ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী। সব মিলিয়ে, তারকেশ্বরের এই সভা শুধু এক উদ্‌যাপন নয়— বরং নতুন বাংলার ভবিষ্যতের এক শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গ দিবসে মোদির বড় বার্তা

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

featured Image

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা— আর সেই আবহেই প্রথমবার ধুমধাম করে পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে শনিবার হুগলির তারকেশ্বরে উপস্থিত হলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । আর তার উপস্থিতিতে যেন উৎসবের আবহে নতুন বাংলার ভবিষ্যতের বার্তাই উঠে এল সভামঞ্চ থেকে।

শনিবার দুপুরে দমদম বিমানবন্দরে নামার পর কপ্টারে করে বিকেল চারটের কিছু পরে তারকেশ্বরে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। সভাস্থলে তাকে স্বাগত জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যপাল আর.এন রবি। বাংলার ঐতিহ্য মেনে ডোকরার দুর্গামূর্তি, বাবা তারকনাথের ছবি, রসগোল্লা ও জলভরা সন্দেশ তুলে দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন ১৯৪৭ সালের সেই দিনটিকে, যেদিন বাংলাকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব পাশ হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন শ্যামা প্রসাদ মুখার্জীর অবদান।

নিজের ভাষণের শুরুতেই ‘জয় বাবা তারকনাথ’ এবং ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি তুলে মোদি বলেন, “বাংলার বাতাসে আজ এক নতুন সুগন্ধ- যেন বাংলা আজ বেড়ি ভেঙে স্বাধীন হয়েছে।” পাশাপাশি তিনি স্মরণ করেন মেঘনাদ সাহা, সুনীতি কুমার চ্যাটার্জিসহ মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতাদের অবদান।

নতুন ডাবল ইঞ্জিন সরকারের উন্নয়ন গতিকে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী রেল, কৃষি ও মৎস্য দপ্তরের প্রায় ৮২০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। একইসঙ্গে বিগত তৃণমূল ও সিপিএম সরকারের কড়া সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন- ইতিহাস বিকৃতি ও তোষণনীতির রাজনীতিতে বাংলার ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ টেগর, সুভাষ চন্দ্র বোস, স্বামী ভিভেকানান্দ এবং ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর-এর এই পুণ্যভূমিতে বিদেশি চিন্তাধারা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে সেই অন্ধকার কাটিয়ে উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে বাংলা দাবি করেন তিনি।

এদিন সভাস্থলের নিরাপত্তা ছিল নজিরবিহীন। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারির পাশাপাশি ফুলে ফুলে সাজানো হয়েছিল পুরো মঞ্চ। 

থাইল্যান্ডের অ্যান্থোরিয়াম থেকে উটির জারবেরা- সব মিলিয়ে চোখ ধাঁধানো আয়োজন। চারপাশে কলকাতার ঐতিহ্য— হলুদ ট্যাক্সি, টানা রিকশা, দক্ষিণেশ্বর ও বেলুড় মঠের প্রতিকৃতি— যেন তুলে ধরেছিল এক টুকরো বাংলাকে।

সভা শেষে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপনের ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী। সব মিলিয়ে, তারকেশ্বরের এই সভা শুধু এক উদ্‌যাপন নয়— বরং নতুন বাংলার ভবিষ্যতের এক শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত