বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ এবার ভারতে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ এর সমমর্যাদা পেতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদীর মন্ত্রিসভা বুধবার এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে।
মোদীর মন্ত্রীসভা ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১’-এর সংশোধনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। এবার সেই সংশোধনী প্রস্তাব আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংসদে পেশ করার কথা।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আইনের ৩ নম্বর ধারা সংশোধনের মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’ এর অবমাননা বা গাওয়ার সময় বিঘ্ন ঘটানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। বর্তমানে জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা ও সংবিধানের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য। নতুন সংশোধন কার্যকর হলে সেই তালিকায় যুক্ত হবে ‘বন্দে মাতরম’।
বর্তমান আইনে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দিলে বা কোনও সমাবেশে বিঘ্ন ঘটালে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। পুনরাবৃত্তি ঘটলে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সংশোধন পাশ হলে একই শাস্তির আওতায় আসবে ‘বন্দে মাতরম’ সংক্রান্ত অপরাধও।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের আগের নির্দেশিকাগুলিও গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি অনুষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসমাবেশে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার ওপর আগেই জোর দেওয়া হয়েছিল। এমনকি জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে একত্রে পরিবেশনের ক্ষেত্রে ‘বন্দে মাতরম’ আগে গাওয়ার কথাও উল্লেখ ছিল।
‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বর্ষ উপলক্ষে সংসদে বিশেষ আলোচনা থেকে এই দাবির জোর বাড়ে। যদিও বিষয়টি ঘিরে বিতর্কও রয়েছে — সব স্তবক বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের পর প্রথম দিকেই এমন একটি প্রস্তাব সংসদে আনা হচ্ছে- যা নিছক সাংস্কৃতিক নয়, এর মধ্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে। এখন নজর থাকবে সংসদের আলোচনায়- এই সংশোধনী কতটা সমর্থন পায় এবং শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয় কি না।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্লোগান ও গান হিসেবে পরিচিত।

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ এবার ভারতে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ এর সমমর্যাদা পেতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদীর মন্ত্রিসভা বুধবার এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে।
মোদীর মন্ত্রীসভা ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১’-এর সংশোধনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। এবার সেই সংশোধনী প্রস্তাব আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংসদে পেশ করার কথা।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আইনের ৩ নম্বর ধারা সংশোধনের মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’ এর অবমাননা বা গাওয়ার সময় বিঘ্ন ঘটানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। বর্তমানে জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা ও সংবিধানের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য। নতুন সংশোধন কার্যকর হলে সেই তালিকায় যুক্ত হবে ‘বন্দে মাতরম’।
বর্তমান আইনে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দিলে বা কোনও সমাবেশে বিঘ্ন ঘটালে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। পুনরাবৃত্তি ঘটলে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সংশোধন পাশ হলে একই শাস্তির আওতায় আসবে ‘বন্দে মাতরম’ সংক্রান্ত অপরাধও।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের আগের নির্দেশিকাগুলিও গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি অনুষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসমাবেশে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার ওপর আগেই জোর দেওয়া হয়েছিল। এমনকি জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে একত্রে পরিবেশনের ক্ষেত্রে ‘বন্দে মাতরম’ আগে গাওয়ার কথাও উল্লেখ ছিল।
‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বর্ষ উপলক্ষে সংসদে বিশেষ আলোচনা থেকে এই দাবির জোর বাড়ে। যদিও বিষয়টি ঘিরে বিতর্কও রয়েছে — সব স্তবক বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের পর প্রথম দিকেই এমন একটি প্রস্তাব সংসদে আনা হচ্ছে- যা নিছক সাংস্কৃতিক নয়, এর মধ্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে। এখন নজর থাকবে সংসদের আলোচনায়- এই সংশোধনী কতটা সমর্থন পায় এবং শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয় কি না।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্লোগান ও গান হিসেবে পরিচিত।

আপনার মতামত লিখুন