নওগাঁর পতিসরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য রবীন্দ্রজন্মোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টায় কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত কাচারিবাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতির পাশাপাশি দেশের সমসাময়িক রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও কথা বলেন।
রবীন্দ্রনাথের কৃষি-ভাবনার কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “রবীন্দ্রনাথ শুধু কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বড় সমাজ সংস্কারক। পতিসরে এসে তিনি কৃষকদের দুঃখ দেখে ব্যথিত হতেন। তাদের সহায়তায় তিনি ব্যাংক স্থাপন ও আধুনিক কৃষি পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এটি ছিল মানুষের প্রতি তাঁর গভীর দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ।”
রবীন্দ্রচর্চাকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “অনেকেই রবীন্দ্রনাথকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে চিত্রিত করতে চান। এটি তাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা। রবীন্দ্রনাথ বিশ্ব মানবতার কবি, তিনি একজন দার্শনিক।”
বক্তব্যে নিজের পারিবারিক স্মৃতিচারণা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমার বাবা দাপুটে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও মুসলিম লীগের নেতা হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন সকালে রবীন্দ্রনাথের ‘শাহজাহান’ কবিতা আবৃত্তি করতেন। সেই শৈশব থেকেই কবির প্রতি আমার আকর্ষণ তৈরি হয়।”
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের নেতা বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ। এই কথার গভীরতা অনেক। কেউ হয়তো ভারত, পাকিস্তান বা আমেরিকার পক্ষে থাকতে পারে, কিন্তু আমরা শুধু বাংলাদেশের পক্ষে। দেশের রাজনীতি এখনো পুরোপুরি পরিচ্ছন্ন হয়নি।”
জুলাই বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে অনেক সহযোদ্ধা প্রাণ দিয়েছেন। এই ‘জুলাই যুদ্ধ’ শেষে মানুষ এখন নতুন প্রত্যাশা নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। যারা অর্থনীতি ও প্রশাসন ধ্বংস করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই আমরা এখানে এসেছি।”
দেশে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, “একটি হতাশাগোষ্ঠী ছোট ইস্যুকে বড় করে গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমরা দেশে আর কোনো অস্থিরতা চাই না।”
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় ও ঢাকার শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
নওগাঁর পতিসরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য রবীন্দ্রজন্মোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টায় কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত কাচারিবাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতির পাশাপাশি দেশের সমসাময়িক রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও কথা বলেন।
রবীন্দ্রনাথের কৃষি-ভাবনার কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “রবীন্দ্রনাথ শুধু কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বড় সমাজ সংস্কারক। পতিসরে এসে তিনি কৃষকদের দুঃখ দেখে ব্যথিত হতেন। তাদের সহায়তায় তিনি ব্যাংক স্থাপন ও আধুনিক কৃষি পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এটি ছিল মানুষের প্রতি তাঁর গভীর দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ।”
রবীন্দ্রচর্চাকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “অনেকেই রবীন্দ্রনাথকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে চিত্রিত করতে চান। এটি তাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা। রবীন্দ্রনাথ বিশ্ব মানবতার কবি, তিনি একজন দার্শনিক।”
বক্তব্যে নিজের পারিবারিক স্মৃতিচারণা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমার বাবা দাপুটে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও মুসলিম লীগের নেতা হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন সকালে রবীন্দ্রনাথের ‘শাহজাহান’ কবিতা আবৃত্তি করতেন। সেই শৈশব থেকেই কবির প্রতি আমার আকর্ষণ তৈরি হয়।”
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের নেতা বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ। এই কথার গভীরতা অনেক। কেউ হয়তো ভারত, পাকিস্তান বা আমেরিকার পক্ষে থাকতে পারে, কিন্তু আমরা শুধু বাংলাদেশের পক্ষে। দেশের রাজনীতি এখনো পুরোপুরি পরিচ্ছন্ন হয়নি।”
জুলাই বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে অনেক সহযোদ্ধা প্রাণ দিয়েছেন। এই ‘জুলাই যুদ্ধ’ শেষে মানুষ এখন নতুন প্রত্যাশা নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। যারা অর্থনীতি ও প্রশাসন ধ্বংস করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই আমরা এখানে এসেছি।”
দেশে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, “একটি হতাশাগোষ্ঠী ছোট ইস্যুকে বড় করে গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমরা দেশে আর কোনো অস্থিরতা চাই না।”
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় ও ঢাকার শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন