দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন, জল্পনা এবং উত্তেজনার পর আজ শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে চলেছে।
কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড-এ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে তুঙ্গে প্রস্তুতি। উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা ও এনডিএ শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। ফলে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুধু রাজ্য নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও বড় বার্তা বহন করতে চলেছে।
শপথের আগে থেকেই পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী-এই সরকার চলবে “কথা কম, কাজ বেশি” নীতিতে। ঘরছাড়া কর্মী, রাজনৈতিক হিংসার শিকার পরিবার, মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত সমর্থকদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আবেগঘন সুরে নিজের দায়িত্বের কথা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে নারী সুরক্ষা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন।
সন্দেশখালি এবং আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ-এর মতো ঘটনাগুলির তদন্তে পৃথক কমিশন গঠনের ঘোষণা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট করেছে-নতুন সরকার অতীতের অভিযোগগুলিকে সামনে এনে জবাবদিহির রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। পাশাপাশি দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নেতৃত্বে তদন্তের কথাও জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র দেওয়া নির্বাচনী গ্যারান্টি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুভেন্দু স্পষ্ট করেছেন-কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়নের গতি বাড়ানোই হবে মূল লক্ষ্য। বিজেপির জনসমর্থন আরও বাড়িয়ে ৬০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, শুভেন্দু অধিকারী-র রাজনৈতিক যাত্রাপথ নিজেই এক নাটকীয় উত্থানের গল্প। কাঁথি পৌরসভা থেকে শুরু করে নন্দীগ্রাম আন্দোলন-এর নেতৃত্ব, তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র তৃণমূল কংগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা-সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন রাজ্যের শাসক দলের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন তিনি। তবে ২০২০ সালে দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি বিরোধী রাজনীতির কেন্দ্রীয় মুখ হয়ে ওঠেন।
সবচেয়ে বড় প্রতীকী মুহূর্ত আসে যখন ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে এবং ২০২৬ সালে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন তিনি। এই দুই জয় শুধু নির্বাচনী সাফল্য নয়-বরং বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের প্রতীক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এদিকে শপথকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে উৎসবের আবহ। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে মিছিল, আবির, পতাকা আর স্লোগানে মুখরিত পরিবেশ।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গ-এর রাজনীতিতে আজকের শপথ শুধু সরকার পরিবর্তনের ঘটনা নয়, এটি এক বড় রাজনৈতিক পরীক্ষার শুরু।
শুভেন্দু অধিকারী এখন আর শুধু বিরোধী রাজনীতির মুখ নন, তিনি প্রশাসনের সর্বোচ্চ দায়িত্বে। ফলে তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি পদক্ষেপ সরাসরি প্রভাব ফেলবে রাজ্যের কোটি মানুষের জীবনে।
রাজনৈতিক পালাবদল যতটা নাটকীয় ছিল, তার থেকেও কঠিন হবে প্রত্যাশা পূরণ করা। আইন-শৃঙ্খলা, নারী সুরক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা-এই প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবে কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়, সেটাই নির্ধারণ করবে এই সরকারের ভবিষ্যৎ।
সবচেয়ে বড় কথা পরিবর্তনের রাজনীতি থেকে শাসনের রাজনীতিতে সফল রূপান্তরই হবে আসল চ্যালেঞ্জ।
বাংলা এখন অপেক্ষায়। এই নতুন অধ্যায় কি শুধুই ক্ষমতার পালাবদল হয়ে থাকবে,
নাকি সত্যিই বদলে দেবে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ?

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন, জল্পনা এবং উত্তেজনার পর আজ শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে চলেছে।
কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড-এ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে তুঙ্গে প্রস্তুতি। উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা ও এনডিএ শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। ফলে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুধু রাজ্য নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও বড় বার্তা বহন করতে চলেছে।
শপথের আগে থেকেই পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী-এই সরকার চলবে “কথা কম, কাজ বেশি” নীতিতে। ঘরছাড়া কর্মী, রাজনৈতিক হিংসার শিকার পরিবার, মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত সমর্থকদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আবেগঘন সুরে নিজের দায়িত্বের কথা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে নারী সুরক্ষা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন।
সন্দেশখালি এবং আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ-এর মতো ঘটনাগুলির তদন্তে পৃথক কমিশন গঠনের ঘোষণা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট করেছে-নতুন সরকার অতীতের অভিযোগগুলিকে সামনে এনে জবাবদিহির রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। পাশাপাশি দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নেতৃত্বে তদন্তের কথাও জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র দেওয়া নির্বাচনী গ্যারান্টি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুভেন্দু স্পষ্ট করেছেন-কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়নের গতি বাড়ানোই হবে মূল লক্ষ্য। বিজেপির জনসমর্থন আরও বাড়িয়ে ৬০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, শুভেন্দু অধিকারী-র রাজনৈতিক যাত্রাপথ নিজেই এক নাটকীয় উত্থানের গল্প। কাঁথি পৌরসভা থেকে শুরু করে নন্দীগ্রাম আন্দোলন-এর নেতৃত্ব, তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র তৃণমূল কংগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা-সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন রাজ্যের শাসক দলের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন তিনি। তবে ২০২০ সালে দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি বিরোধী রাজনীতির কেন্দ্রীয় মুখ হয়ে ওঠেন।
সবচেয়ে বড় প্রতীকী মুহূর্ত আসে যখন ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে এবং ২০২৬ সালে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন তিনি। এই দুই জয় শুধু নির্বাচনী সাফল্য নয়-বরং বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের প্রতীক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এদিকে শপথকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে উৎসবের আবহ। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে মিছিল, আবির, পতাকা আর স্লোগানে মুখরিত পরিবেশ।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গ-এর রাজনীতিতে আজকের শপথ শুধু সরকার পরিবর্তনের ঘটনা নয়, এটি এক বড় রাজনৈতিক পরীক্ষার শুরু।
শুভেন্দু অধিকারী এখন আর শুধু বিরোধী রাজনীতির মুখ নন, তিনি প্রশাসনের সর্বোচ্চ দায়িত্বে। ফলে তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি পদক্ষেপ সরাসরি প্রভাব ফেলবে রাজ্যের কোটি মানুষের জীবনে।
রাজনৈতিক পালাবদল যতটা নাটকীয় ছিল, তার থেকেও কঠিন হবে প্রত্যাশা পূরণ করা। আইন-শৃঙ্খলা, নারী সুরক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা-এই প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবে কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়, সেটাই নির্ধারণ করবে এই সরকারের ভবিষ্যৎ।
সবচেয়ে বড় কথা পরিবর্তনের রাজনীতি থেকে শাসনের রাজনীতিতে সফল রূপান্তরই হবে আসল চ্যালেঞ্জ।
বাংলা এখন অপেক্ষায়। এই নতুন অধ্যায় কি শুধুই ক্ষমতার পালাবদল হয়ে থাকবে,
নাকি সত্যিই বদলে দেবে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ?

আপনার মতামত লিখুন