কিউবাকে ঘিরে নতুন করে একাধিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আল- জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো কিউবার সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন বৃহৎ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গ্রুপো দে অ্যাডমিনিস্ট্রাসিওন এমপ্রেসারিয়াল এসএ (জিএইএসএ)-কে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে দেশটির অর্থনীতির প্রায় সব খাতের সংযোগ রয়েছে। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে আনিয়া গুইয়ের্মিনা লাস্ত্রেস মোরেরাকে। তিনি জিএইএসএ ও মোয়া নিকেল এসএর (এমএনএসএ) নির্বাহী প্রেসিডেন্ট। এমএনএসএ হলো টরন্টোভিত্তিক শেরিট ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন এবং কিউবার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন নিকেল কোম্পানির যৌথ উদ্যোগ।
শেরিটের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবায় যৌথ উদ্যোগে সরাসরি অংশগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, কিউবার কমিউনিস্ট সরকার আমাদের অঞ্চলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করলে ট্রাম্প প্রশাসন চুপচাপ বসে থাকবে না। কিউবার সরকার প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার না আনা পর্যন্ত আমরা পদক্ষেপ নিতে থাকব।
কিউবার সরকার তাৎক্ষণিকভাবে নতুন নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে চলতি সপ্তাহে ঘোষিত আগের নিষেধাজ্ঞাগুলোকে ‘একতরফা জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা’ এবং ‘কিউবার জনগণের ওপর সমষ্টিগত শাস্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
গত ৩ জানুয়ারি নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছে। এর পর থেকেই ওয়াশিংটন কিউবায় ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এটি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির জন্য ‘লাইফলাইন’ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। পাশাপাশি ট্রাম্প এমন একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যার মাধ্যমে কিউবায় জ্বালানি সরবরাহকারী যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ তৈরি হয়। ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপে কার্যত কিউবার ওপর জ্বালানি অবরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, ট্রাম্প একাধিকবার কিউবার সরকার উৎখাতে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের তিন বিশেষ প্রতিনিধি এই ‘অবৈধ অবরোধের’ নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি শুধু দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করছে না, বরং নানা মৌলিক মানবাধিকারের ভোগকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর ফলে জ্বালানির অভাবে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক সেবাগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে মাত্র একটি রুশ তেলবাহী জাহাজ কিউবায় পৌঁছাতে পেরেছে। এতে করে দেশটির বিদ্যমান জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
আলজাজিরা জানিয়েছে, জ্বালানির সংকটের কারণে মানুষ হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছে না, শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না। এছাড়া কিউবায় ৯৬ হাজারের বেশি অস্ত্রোপচার এখনো অপেক্ষমাণ রয়েছে, যার মধ্যে ১১ হাজার শিশু।

শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
কিউবাকে ঘিরে নতুন করে একাধিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আল- জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো কিউবার সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন বৃহৎ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গ্রুপো দে অ্যাডমিনিস্ট্রাসিওন এমপ্রেসারিয়াল এসএ (জিএইএসএ)-কে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে দেশটির অর্থনীতির প্রায় সব খাতের সংযোগ রয়েছে। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে আনিয়া গুইয়ের্মিনা লাস্ত্রেস মোরেরাকে। তিনি জিএইএসএ ও মোয়া নিকেল এসএর (এমএনএসএ) নির্বাহী প্রেসিডেন্ট। এমএনএসএ হলো টরন্টোভিত্তিক শেরিট ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন এবং কিউবার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন নিকেল কোম্পানির যৌথ উদ্যোগ।
শেরিটের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবায় যৌথ উদ্যোগে সরাসরি অংশগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, কিউবার কমিউনিস্ট সরকার আমাদের অঞ্চলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করলে ট্রাম্প প্রশাসন চুপচাপ বসে থাকবে না। কিউবার সরকার প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার না আনা পর্যন্ত আমরা পদক্ষেপ নিতে থাকব।
কিউবার সরকার তাৎক্ষণিকভাবে নতুন নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে চলতি সপ্তাহে ঘোষিত আগের নিষেধাজ্ঞাগুলোকে ‘একতরফা জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা’ এবং ‘কিউবার জনগণের ওপর সমষ্টিগত শাস্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
গত ৩ জানুয়ারি নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছে। এর পর থেকেই ওয়াশিংটন কিউবায় ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এটি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির জন্য ‘লাইফলাইন’ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। পাশাপাশি ট্রাম্প এমন একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যার মাধ্যমে কিউবায় জ্বালানি সরবরাহকারী যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ তৈরি হয়। ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপে কার্যত কিউবার ওপর জ্বালানি অবরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, ট্রাম্প একাধিকবার কিউবার সরকার উৎখাতে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের তিন বিশেষ প্রতিনিধি এই ‘অবৈধ অবরোধের’ নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি শুধু দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করছে না, বরং নানা মৌলিক মানবাধিকারের ভোগকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর ফলে জ্বালানির অভাবে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক সেবাগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে মাত্র একটি রুশ তেলবাহী জাহাজ কিউবায় পৌঁছাতে পেরেছে। এতে করে দেশটির বিদ্যমান জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
আলজাজিরা জানিয়েছে, জ্বালানির সংকটের কারণে মানুষ হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছে না, শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না। এছাড়া কিউবায় ৯৬ হাজারের বেশি অস্ত্রোপচার এখনো অপেক্ষমাণ রয়েছে, যার মধ্যে ১১ হাজার শিশু।

আপনার মতামত লিখুন