সংবাদ

বিধানসভা ভেঙে বিতর্ক, সাংবিধানিক সংকটে পশ্চিমবঙ্গ?


দীপক মুখার্জী, কলকাতা থেকে
দীপক মুখার্জী, কলকাতা থেকে
প্রকাশ: ৮ মে ২০২৬, ০৯:২৩ এএম

বিধানসভা ভেঙে বিতর্ক, সাংবিধানিক সংকটে পশ্চিমবঙ্গ?

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার সরকারি বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এক জটিল রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিস্থিতি। ‘দ্য কলকাতা গেজেট এক্সট্রাঅর্ডিনারি’-তে প্রকাশিত ওই নোটিফিকেশন অনুযায়ী, রাজ্যপাল আর. এন. রবি ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪(২)(খ) অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত কতটা সংবিধানসম্মত, তা নিয়েই এখন তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যপাল সাধারণত মন্ত্রিসভার পরামর্শেই এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেন। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল মনে করেন, মন্ত্রিসভার সুপারিশ ছাড়া বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জযোগ্য হতে পারে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ফালি এস নারিম্যান-এর মতে, রাজ্যপালের ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক এবং নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগে মন্ত্রিসভার পরামর্শই প্রধান। অন্যদিকে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ প্রশ্ন তুলেছেন-যদি নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট থাকে, তাহলে নতুন সরকার গঠনে বিলম্ব কেন।

এই বিতর্কের মাঝেই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভোটে অনিয়ম নিয়ে। তাঁর দাবি, ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বহু আসনে কারচুপি হয়েছে। প্রায় ২০০টি আসনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। 

এদিকে, এসআইআর নির্বাচনী ট্রাইবুনালের চীফ কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানা যাচ্ছে, যা বিচারাধীন ভোটারদের বিচারিক প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইন্টান্সিভ রিভিশন ’ বা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন সংখ্যা কয়েক লক্ষ থেকে শুরু করে “প্রায় এক কোটি” পর্যন্ত বলা হচ্ছে রাজনৈতিক বক্তব্যে, যদিও তা সরকারি ভাবে নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যার উদ্দেশ্য মৃত, স্থানান্তরিত বা অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং প্রকৃত ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা।

এই বিতর্কে আইন বিশেষজ্ঞদের মতও গুরুত্বপূর্ণ। কপিল সিব্বল মনে করেন, যদি সত্যিই বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটার বাদ পড়ে থাকে, তাহলে তা গণতান্ত্রিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন হতে পারে। ফালি এস নারিম্যান বলেছেন, ভোটার তালিকা সংশোধন স্বাভাবিক হলেও তার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রশান্ত ভূষণ-এর মতে, প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার বাদ পড়লে তা সাংবিধানিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

রাজনৈতিক মহলেও এই ইস্যুতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটছে। বিজেপির দাবি, তারা স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে এবং সরকার গঠনে বিলম্ব ইচ্ছাকৃত। কংগ্রেস এই পরিস্থিতিকে সাংবিধানিক সংকট বলে আখ্যা দিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে, আর বামফ্রন্ট নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

এই জটিলতার মধ্যেই সামনে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-যদি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দেন এবং বিরোধী দলের নির্বাচিত বিধায়করা শপথ গ্রহণ না করেন, তাহলে কি একতরফাভাবে সরকার গঠন সম্ভব? সংবিধান অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দিলে তিনি কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন, তবে রাজ্যপাল বৃহত্তম দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে নতুন সরকার গঠন সম্পূর্ণ বৈধ।

যদি বিরোধী দলের ৮০-৮১ জন বিধায়ক শপথ গ্রহণ না করেন, তাহলে তারা বিধানসভায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। ফলে বিধানসভা কার্যত একপাক্ষিক হয়ে যেতে পারে। এই প্রসঙ্গে কপিল সিব্বল মনে করেন, বিরোধী দলের অনুপস্থিতি গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর হলেও সরকার গঠনের বৈধতায় তার প্রভাব পড়ে না। ফালি এস নারিম্যান-এর মতে, অবশন না থাকলেও সরকার চলতে পারে, তবে এতে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। প্রশান্ত ভূষণ-এর কথায়, বিরোধীদের শপথ না নেওয়া একটি রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে, কিন্তু তা গণতন্ত্রকে দুর্বল করে।

আইনগতভাবে এই ধরনের পরিস্থিতিতে সরকার চালাতে সরাসরি কোনো বাধা নেই। তবে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স কমে যাওয়া, আইন প্রণয়নে বিতর্কের অভাব এবং জনমতের অসম প্রতিফলনের মতো ঝুঁকি তৈরি হয়। যদি প্রমাণ হয় যে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া লঙ্ঘন হয়েছে বা বিরোধীদের শপথ গ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে, তাহলে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে।

সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ এখন এক ত্রিমুখী সংকটের মধ্যে দাঁড়িয়ে-বিধানসভা ভাঙা নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন, ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি লড়াই, এবং সম্ভাব্য বিরোধীহীন সরকারের রাজনৈতিক বাস্তবতা। আগামী দিনে রাজ্যপালের পদক্ষেপ, আদালতের অবস্থান এবং নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যাই নির্ধারণ করবে এই সংকট কোন দিকে মোড় নেবে।

এই পরিস্থিতি শুধু একটি রাজ্যের রাজনৈতিক সঙ্কট নয়-এটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো, সংবিধানের প্রয়োগ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬


বিধানসভা ভেঙে বিতর্ক, সাংবিধানিক সংকটে পশ্চিমবঙ্গ?

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

featured Image

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার সরকারি বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এক জটিল রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিস্থিতি। ‘দ্য কলকাতা গেজেট এক্সট্রাঅর্ডিনারি’-তে প্রকাশিত ওই নোটিফিকেশন অনুযায়ী, রাজ্যপাল আর. এন. রবি ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪(২)(খ) অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত কতটা সংবিধানসম্মত, তা নিয়েই এখন তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যপাল সাধারণত মন্ত্রিসভার পরামর্শেই এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেন। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল মনে করেন, মন্ত্রিসভার সুপারিশ ছাড়া বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জযোগ্য হতে পারে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ফালি এস নারিম্যান-এর মতে, রাজ্যপালের ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক এবং নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগে মন্ত্রিসভার পরামর্শই প্রধান। অন্যদিকে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ প্রশ্ন তুলেছেন-যদি নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট থাকে, তাহলে নতুন সরকার গঠনে বিলম্ব কেন।

এই বিতর্কের মাঝেই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভোটে অনিয়ম নিয়ে। তাঁর দাবি, ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বহু আসনে কারচুপি হয়েছে। প্রায় ২০০টি আসনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। 

এদিকে, এসআইআর নির্বাচনী ট্রাইবুনালের চীফ কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানা যাচ্ছে, যা বিচারাধীন ভোটারদের বিচারিক প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইন্টান্সিভ রিভিশন ’ বা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন সংখ্যা কয়েক লক্ষ থেকে শুরু করে “প্রায় এক কোটি” পর্যন্ত বলা হচ্ছে রাজনৈতিক বক্তব্যে, যদিও তা সরকারি ভাবে নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যার উদ্দেশ্য মৃত, স্থানান্তরিত বা অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং প্রকৃত ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা।

এই বিতর্কে আইন বিশেষজ্ঞদের মতও গুরুত্বপূর্ণ। কপিল সিব্বল মনে করেন, যদি সত্যিই বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটার বাদ পড়ে থাকে, তাহলে তা গণতান্ত্রিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন হতে পারে। ফালি এস নারিম্যান বলেছেন, ভোটার তালিকা সংশোধন স্বাভাবিক হলেও তার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রশান্ত ভূষণ-এর মতে, প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার বাদ পড়লে তা সাংবিধানিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

রাজনৈতিক মহলেও এই ইস্যুতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটছে। বিজেপির দাবি, তারা স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে এবং সরকার গঠনে বিলম্ব ইচ্ছাকৃত। কংগ্রেস এই পরিস্থিতিকে সাংবিধানিক সংকট বলে আখ্যা দিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে, আর বামফ্রন্ট নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

এই জটিলতার মধ্যেই সামনে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-যদি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দেন এবং বিরোধী দলের নির্বাচিত বিধায়করা শপথ গ্রহণ না করেন, তাহলে কি একতরফাভাবে সরকার গঠন সম্ভব? সংবিধান অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দিলে তিনি কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন, তবে রাজ্যপাল বৃহত্তম দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে নতুন সরকার গঠন সম্পূর্ণ বৈধ।

যদি বিরোধী দলের ৮০-৮১ জন বিধায়ক শপথ গ্রহণ না করেন, তাহলে তারা বিধানসভায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। ফলে বিধানসভা কার্যত একপাক্ষিক হয়ে যেতে পারে। এই প্রসঙ্গে কপিল সিব্বল মনে করেন, বিরোধী দলের অনুপস্থিতি গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর হলেও সরকার গঠনের বৈধতায় তার প্রভাব পড়ে না। ফালি এস নারিম্যান-এর মতে, অবশন না থাকলেও সরকার চলতে পারে, তবে এতে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। প্রশান্ত ভূষণ-এর কথায়, বিরোধীদের শপথ না নেওয়া একটি রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে, কিন্তু তা গণতন্ত্রকে দুর্বল করে।

আইনগতভাবে এই ধরনের পরিস্থিতিতে সরকার চালাতে সরাসরি কোনো বাধা নেই। তবে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স কমে যাওয়া, আইন প্রণয়নে বিতর্কের অভাব এবং জনমতের অসম প্রতিফলনের মতো ঝুঁকি তৈরি হয়। যদি প্রমাণ হয় যে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া লঙ্ঘন হয়েছে বা বিরোধীদের শপথ গ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে, তাহলে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে।

সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ এখন এক ত্রিমুখী সংকটের মধ্যে দাঁড়িয়ে-বিধানসভা ভাঙা নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন, ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি লড়াই, এবং সম্ভাব্য বিরোধীহীন সরকারের রাজনৈতিক বাস্তবতা। আগামী দিনে রাজ্যপালের পদক্ষেপ, আদালতের অবস্থান এবং নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যাই নির্ধারণ করবে এই সংকট কোন দিকে মোড় নেবে।

এই পরিস্থিতি শুধু একটি রাজ্যের রাজনৈতিক সঙ্কট নয়-এটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো, সংবিধানের প্রয়োগ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত