ভোলার চরফ্যাশনে এক কলেজছাত্রীকে ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করে অপহরণের মামলায় গ্রেপ্তার দুই যুবককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার (৯ মে) দুপুরে তাদের চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আফজাল হোসেন এ আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন-উপজেলার আহাম্মদপুর ইউনিয়নের ইউসুফের ছেলে মেহেদী হাসান (২৬) ও সিরাজ বেপারীর ছেলে হাসনাইন (২১)।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী স্থানীয় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। জাবেদ নামে এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্ত্যক্ত ও বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। গত ৬ মে দুপুরে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে জাবেদ ও তার সহযোগীরা একটি মাইক্রোবাসে করে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর তাকে ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করে কুয়াকাটায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, একপর্যায়ে অপহরণকারীদের ফোন ব্যবহার করে কৌশলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই ছাত্রী। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চরফ্যাশন থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ অভিযানে নামে। পরে গতকাল শুক্রবার রাতে কুয়াকাটার একটি হোটেল থেকে ছাত্রীকে উদ্ধার এবং অপহরণকারী দলের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার ছাত্রীর মা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে চরফ্যাশন থানায় মামলা করেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন—জাবেদ (২৫) ও তার বাবা সালাউদ্দিন মেম্বার (৫৫)।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, উদ্ধার হওয়া ছাত্রীর জবানবন্দি গ্রহণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন