ময়মনসিংহের নান্দাইলে জুয়াবিরোধী অভিযান চলাকালে পুলিশের হাত থেকে পাঁচ ব্যক্তি হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ধস্তাধস্তির জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পালিয়ে যাওয়া পাঁচজনসহ মোট ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (১০ মে) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের বারঘড়িয়া নতুন বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ১১টার দিকে বারঘড়িয়া বাজারের লাল মিয়ার চায়ের দোকানে অভিযান চালায় নান্দাইল মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সম্রাজ ও এসআই পলাশের নেতৃত্বাধীন একটি দল। সেখানে লুডু খেলা অবস্থায় বেশ কয়েকজনকে আটক করে দোকানের সাটার লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও পিকআপ ভ্যান পৌঁছালে আটক ব্যক্তিদের গাড়িতে তোলার সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে পাঁচজন হাতকড়াসহ দৌড়ে পালিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাতকড়াসহ পালানোর ঘটনায় পুলিশ ক্ষুব্ধ হয়ে লাঠিচার্জ শুরু করলে স্থানীয় জনতাও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
পরে রাত একটার দিকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় পালিয়ে যাওয়া সাইদুল ইসলাম, কিরণ, উজ্জ্বল ও মোবারক হোসেনসহ আরও ১০ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন বা টিভি দেখছিলেন এমন অনেক নিরীহ ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে। এমনকি পুলিশের আচরণের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি জাহাঙ্গীর মিয়া ও তার দুই ভাইকেও আটক করেছে পুলিশ। দোকানের মালিক লাল মিয়া দাবি করেন, তার দোকানে জুয়া নয়, বরং নিয়মিত টিভি দেখা ও লুডু খেলা হতো।
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম হাতকড়া নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সরাসরি স্বীকার না করে বলেন, ‘আসামিরা পালিয়ে যায়নি; পিকআপে তোলার সময় নিচে নেমে পড়েছিল।’
তিনি জানান, এ ঘটনায় মোট ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জনকে জুয়া আইনে এবং ৩ জনকে ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন