ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলায় পৃথক ঘটনায় চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে পারিবারিক কলহ ও অভিমানে বিষপানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এক অজ্ঞাত যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া কসবায় প্রেমঘটিত বিরোধে এক যুবক নিজের গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। সোমবার (১১ মে) এসব ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীনগর উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে বিষপান করেন মোহন মিয়া (৪৪) নামে এক ভ্যানচালক। তিনি উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। গতকাল সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
একই দিনে পারিবারিক কলহের জেরে পৃথক ঘটনায় কীটনাশক বড়ি (কেঁরির ট্যাবলেট) খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন দুই নারী। তারা হলেন নবীনগরের কৃষ্ণনগর গ্রামের নজুপা বেগম (৫০) ও আখাউড়ার চান্দুপুর গ্রামের জরিনা বেগম (৬০)। গুরুতর অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে গতকাল বিকেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মরিচাকান্দি-উলুকান্দি এলাকার কলেজ রোডের পাশ থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের (২৫) গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা রাস্তার পাশে রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্য কোনো স্থানে ওই যুবককে গুলি করে হত্যা করে লাশ এখানে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। তবে হত্যার কারণ ও নিহতের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
অন্যদিকে কসবা উপজেলার বাউরখন্ড গ্রামে প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন তানভীর (২৪) নামের এক যুবক। তিনি প্রেমিকার বাড়িতে গিয়ে বিষপান করার পর ব্লেড দিয়ে নিজের গলা কাটেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে তিনি এই চরম পথ বেছে নেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে জেলায় এমন একাধিক মর্মান্তিক ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে পারিবারিক কলহ ও সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে আত্মঘাতী হওয়ার প্রবণতা ভাবিয়ে তুলছে সচেতন মহলকে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ জানায়, প্রতিটি ঘটনাই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাঞ্ছারামপুরের হত্যাকাণ্ডটির রহস্য উদ্ঘাটন ও নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
আপনার মতামত লিখুন