মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেঁতুলিয়া মৌজায় মাত্র দুই কিলোমিটার খাল পুনঃখননের অভাবে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে তলিয়ে যাচ্ছে কয়েক শ বিঘা জমির ইরি-বোরো ধান। সারা বছরের খাবার ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় হাজারো কৃষক পরিবার। তারা এলাকায় খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর সামান্য বৃষ্টিতেই তেঁতুলিয়া মৌজায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উত্তর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি উথলী বাজার ব্রিজ হয়ে ইছামতী নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। এই খালের মাত্র দুই কিলোমিটার অংশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি সরতে পারছে না। ফলে প্রান্তিক চাষিরা প্রতিবছরই বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অথচ বারবার জানানো সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা ও সাবেক শিক্ষক আবদুস সাত্তার (৭১) জানান, ব্রিটিশ আমলে সড়ক নির্মাণের সময় এই খালের সৃষ্টি হয়। ১৯৬২-৬৩ সালে রাস্তা প্রশস্ত করার সময় খালটি আরও গভীর ও চওড়া হয়েছিল। একসময় এই খালে বড় বড় নৌকা চলত এবং সত্তরের দশকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় পাম্প বসিয়ে এখান থেকে সেচ কাজ চালানো হতো। বর্তমানে দখল আর পলি জমে খালের দুই প্রান্ত ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই দুর্দশা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষক মজিবুর রহমান ও আবদুল লতিফ বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে এবার অনেকেই জমি আবাদ করতে পারেননি। প্রায় ২০ বিঘা জমি অনাবাদি পড়ে আছে। যারা আবাদ করেছেন, বৃষ্টিতে তাদের ধান এখন পানির নিচে। প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো লাভ হয়নি। দ্রুত খালটি খনন করা না হলে তেঁতুলিয়া মৌজার সমস্ত ধান নষ্ট হয়ে যাবে।
শিবালয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া তরফদার বলেন, “আমরা জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেছি। প্রতিবছরই এখানে বৃষ্টির পানি জমে কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান জরুরি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা রাণী কর্মকার বলেন, জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে এলাকাটি পরিদর্শন করা হয়েছে। সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন