বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা সুন্দরবনের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে। অথচ এই উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে চলা চিত্রা নদীর পাড়েই এখন ডানা মেলছে এক টুকরো সুন্দরবন। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘মিনি সুন্দরবন’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। নদীর দুই পাড়ে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চর আর পাশের গ্রামগুলো জুড়ে প্রাকৃতিকভাবেই গড়ে উঠেছে সুন্দরবনের চিরচেনা সব গাছপালা। যতদূর চোখ যায়, এখন শুধু সবুজের হাতছানি আর পাখির কলকাকলি।
একসময়ের খরস্রোতা চিত্রা নদী এখন আর আগের মতো বেগবান নেই। তবে এর দুই পাড়ের প্রায় আট কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক বিশাল ম্যানগ্রোভ বন। কোনো কৃত্রিম বনায়ন ছাড়াই মাত্র ১৫-২০ বছরের ব্যবধানে নদীর চরে প্রাকৃতিকভাবে জন্মেছে সুন্দরী, কেওড়া, গরান ও গোলপাতার মতো অসংখ্য প্রজাতির গাছ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সুন্দরবন থেকে আসা পশুর, বলেশ্বর ও দড়াটানা নদীর সঙ্গে চিত্রার সংযোগ থাকায় জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা বীজ থেকেই এই বনের সৃষ্টি হয়েছে।
সবুজের এই মহাসমারোহে এখন পাখির মেলা। বনটি পাখিদের নিরাপদ অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে এখানে অতিথি পাখিদের বিচরণ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। সন্ধ্যা নামলেই পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। শুধু পাখিই নয়, এই বনে দেখা মেলে ১০-১২ ফুট লম্বা গুইসাপ, মেছোবাঘ, বনবিড়াল ও বেজি। দেখা যায় বিভিন্ন প্রজাতির সরীসৃপও। নদীতে ডলফিনের লুকোচুরি আর চিতল মাছের ভেসে ওঠার দৃশ্যও নজর কাড়ে।
প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিপাসু মানুষ যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে ছুটে আসছেন এই নির্জন বন ও নদীর মোহনায়। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে এখানে একটি ইকোপার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। নারী ও শিশুদের ভ্রমণের জন্য এই এলাকাটি বেশ নিরাপদ। পর্যটকরা চাইলে নৌকা বা ট্রলারে করে চিত্রা নদীর বুক চিরে বনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী বাবলু মণ্ডল জানান, শীত মৌসুমে অতিথি পাখি আর সুন্দরবনের আদলে গড়ে ওঠা এই বন দেখতে অসংখ্য মানুষ ভিড় করেন। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই মহামূল্যবান বন ও বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে, অঞ্চলটি পর্যটন শিল্পের এক সম্ভাবনাময় কেন্দ্রে পরিণত হবে।
আপনার মতামত লিখুন