যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় বিজয়ের দাবি করলেও খোদ আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সেই দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের পডকাস্ট ‘দ্য হেডলাইনস’-এ বুধবার (১৩ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ট্রাম্প প্রশাসনের দাবির চেয়ে অনেকটাই বেশি।
গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে, যুদ্ধ শেষে ইরানের কাছে এখনও প্রাক-যুদ্ধকালীন মিসাইল মজুতের প্রায় ৭০ শতাংশ রয়েছে। দেশটি হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি ৩৩টি মিসাইল সাইটের মধ্যে ৩০টিতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে। ভূগর্ভস্থ মিসাইল সুবিধার ৯০ শতাংশই ‘আংশিক বা পূর্ণ সচল’ অবস্থায় আছে।
অর্থাৎ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দাবি সত্ত্বেও যে ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান ইরানের সামরিক বাহিনীকে বহু বছরের জন্য অকার্যকর করে দিয়েছে- বাস্তবতা সম্পূর্ণ বিপরীত। হোয়াইট হাউজ অবশ্য এ তথ্য ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
একই পডকাস্ট পর্বে ফ্লোরিডার এভারগ্লেডসের আলোচিত অভিবাসন আটক কেন্দ্র ‘আলিগেটর অ্যালকাট্রাজ’-এর ব্যয়বহুল ব্যর্থতার চিত্রও উঠে এসেছে। কুখ্যাত এই কারাগারটি আগামী জুনের শুরুতেই বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্লোরিডা প্রশাসন।
প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ডলার খরচ সত্ত্বেও এখানে ‘পাশবিক’ অবস্থার অভিযোগ ছিল। বন্দিদের খাঁচায় বন্দি করে রাখা, জ্বর-জ্বালা ও পোকামাকড়ের উপদ্রবের অভিযোগ ওঠে। মিয়ামি হেরাল্ডের এক তদন্তে দেখা গেছে, এই কেন্দ্রের শত শত বন্দির অবস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছিল না।
পরিবেশবাদী সংগঠন ও মাইকোসুকি উপজাতিও এই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল, দাবি করে এটি বিপন্ন প্রজাতি ও জলাভূমির ব্যাপক ক্ষতি করছে।
পডকাস্টের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল ইউরোভিশন গান প্রতিযোগিতা। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত বছর ইসরায়েল বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্রচার চালিয়ে প্রতিযোগিতার ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বিদেশি প্রচার বিভাগ থেকে এই অর্থায়ন করা হয়। এতটাই সূক্ষ্মভাবে কাজ করেছিল ইসরায়েলি প্রচারযন্ত্র যে দেশটি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে এবং জনপ্রিয় ভোটে জয়ী হয়- এমনকি যেসব দেশে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব প্রবল, সেখানেও।
এ বছর স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও আইসল্যান্ডসহ পাঁচটি দেশ ইসরায়েলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে ইউরোভিশন বয়কট করছে। প্রতিযোগিতাটি স্পনসর ও দর্শক হারানোর ঝুঁকিতে আছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি।

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় বিজয়ের দাবি করলেও খোদ আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সেই দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের পডকাস্ট ‘দ্য হেডলাইনস’-এ বুধবার (১৩ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ট্রাম্প প্রশাসনের দাবির চেয়ে অনেকটাই বেশি।
গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে, যুদ্ধ শেষে ইরানের কাছে এখনও প্রাক-যুদ্ধকালীন মিসাইল মজুতের প্রায় ৭০ শতাংশ রয়েছে। দেশটি হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি ৩৩টি মিসাইল সাইটের মধ্যে ৩০টিতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে। ভূগর্ভস্থ মিসাইল সুবিধার ৯০ শতাংশই ‘আংশিক বা পূর্ণ সচল’ অবস্থায় আছে।
অর্থাৎ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দাবি সত্ত্বেও যে ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান ইরানের সামরিক বাহিনীকে বহু বছরের জন্য অকার্যকর করে দিয়েছে- বাস্তবতা সম্পূর্ণ বিপরীত। হোয়াইট হাউজ অবশ্য এ তথ্য ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
একই পডকাস্ট পর্বে ফ্লোরিডার এভারগ্লেডসের আলোচিত অভিবাসন আটক কেন্দ্র ‘আলিগেটর অ্যালকাট্রাজ’-এর ব্যয়বহুল ব্যর্থতার চিত্রও উঠে এসেছে। কুখ্যাত এই কারাগারটি আগামী জুনের শুরুতেই বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্লোরিডা প্রশাসন।
প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ডলার খরচ সত্ত্বেও এখানে ‘পাশবিক’ অবস্থার অভিযোগ ছিল। বন্দিদের খাঁচায় বন্দি করে রাখা, জ্বর-জ্বালা ও পোকামাকড়ের উপদ্রবের অভিযোগ ওঠে। মিয়ামি হেরাল্ডের এক তদন্তে দেখা গেছে, এই কেন্দ্রের শত শত বন্দির অবস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছিল না।
পরিবেশবাদী সংগঠন ও মাইকোসুকি উপজাতিও এই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল, দাবি করে এটি বিপন্ন প্রজাতি ও জলাভূমির ব্যাপক ক্ষতি করছে।
পডকাস্টের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল ইউরোভিশন গান প্রতিযোগিতা। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত বছর ইসরায়েল বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্রচার চালিয়ে প্রতিযোগিতার ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বিদেশি প্রচার বিভাগ থেকে এই অর্থায়ন করা হয়। এতটাই সূক্ষ্মভাবে কাজ করেছিল ইসরায়েলি প্রচারযন্ত্র যে দেশটি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে এবং জনপ্রিয় ভোটে জয়ী হয়- এমনকি যেসব দেশে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব প্রবল, সেখানেও।
এ বছর স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও আইসল্যান্ডসহ পাঁচটি দেশ ইসরায়েলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে ইউরোভিশন বয়কট করছে। প্রতিযোগিতাটি স্পনসর ও দর্শক হারানোর ঝুঁকিতে আছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি।

আপনার মতামত লিখুন