সুন্দরবনে বনরক্ষীদের ওপর হামলা চালিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়া এক হরিণ শিকারিকে ছিনিয়ে নিয়েছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। হামলায় বন বিভাগের এক কর্মকর্তাসহ দুজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের কালিয়ার খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের চরখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল জাবের ও নৌকাচালক অপূর্ব কুমার সাহা। তাঁদের উদ্ধার করে রাতে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় আজ বুধবার দুপুরে শিকারি দলের মূল হোতা কুদ্দুস রাজাসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে শরণখোলা থানায় মামলা করেছে বন বিভাগ। কুদ্দুস রাজা চরদুয়ানী এলাকার মৃত হাকিম রাজার ছেলে।
বন বিভাগ জানায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে চরখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল জাবেরের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের শূয়োরগুদি এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন। এ সময় একদল হরিণ শিকারিকে দেখে তারা ধরার চেষ্টা করেন। বনরক্ষীরা কৌশলে বনের আড়ালে অবস্থান নিলে শিকারি দলের নেতা কুদ্দুস রাজা ট্রলার নিয়ে সেখানে আসেন। বনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অন্য শিকারিদের ট্রলারে তুলে লোকালয়ের দিকে পালানোর সময় বনরক্ষীরা তাদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে কালিয়ার খাল এলাকায় গিয়ে একজনকে ধরে ফেলেন বনরক্ষীরা।
আহত কর্মকর্তা মো. আল জাবের বলেন, ‘এক শিকারিকে ধরার সঙ্গে সঙ্গে ১০-১২ জনের একটি দল দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা আমাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে এবং নৌকাচালককে পিটিয়ে জখম করে আটক শিকারিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।’
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, হরিণ শিকারি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার বনরক্ষীদের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন, বনরক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন