সংবাদ

ট্রাম্পের পর পুতিনও যাচ্ছেন চীনে, ঘটনা কী?


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

ট্রাম্পের পর পুতিনও যাচ্ছেন চীনে, ঘটনা কী?
শি জিনপিং, ট্রাম্প ও পুতিন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চীন সফরে রয়েছেন। এর মধ্যেই হঠাৎ করে চীন সফরের পরিকল্পনা করছেন বিশ্বের আরেক পরাশক্তি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট শিগগির চীনে যাচ্ছেন। তার ভ্রমণের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

গত কয়েক বছরে ৪০ বারেরও বেশি বার সাক্ষাৎ ঘটেছে পুতিন ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে। এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সর্বশেষ গেল বছরের সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ে দুজনের সাক্ষাৎ ঘটেছিল।

২০২২ সালে চীন-রাশিয়ার ‘সীমাহীন কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ স্বাক্ষর করেছিলেন দুই প্রেসিডেন্ট। সেই সাক্ষাতের তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যেই মস্কো ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করেছিল।

এবার এমন এক সময়ে ক্রেমলিন পুতিনের পরবর্তী চীন সফরের কথা নিশ্চিত করল, যখন চিরশত্রু  দেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে সফরে রয়েছেন।

এবারের সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট শি-র সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি তাইওয়ান, ইরানসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তবে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে বৈঠকগুলোতে ইউক্রেইন নিয়ে কোনো আলাপ হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্প যখন চীন সফরে তখন হঠাৎ করেই কেন পুতিন চীন সফরের পরিকল্পনা করলেন।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বেইজিং এখন বৈশ্বিক কূটনীতির মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্প আর পুতিনের এই পরপর সফর প্রমাণ করে, ওয়াশিংটন আর মস্কো—উভয় পক্ষের জন্যই নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় চীনের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চীন এখানে দুই পরাশক্তির সঙ্গেই ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুতিন ও শি জিনপিং 'সীমাহীন কৌশলগত অংশীদারত্ব' চুক্তিতে সই করেছিলেন। ট্রাম্পের বেইজিং সফরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য বা প্রযুক্তিগত সম্পর্ক যদি নতুন মোড় নেয়, তবে মস্কো নিশ্চিত করতে চায় যেন চীনের সঙ্গে রাশিয়ার কৌশলগত ও সামরিক জোটে কোনো ফাটল না ধরে।

ট্রাম্পের চীন সফরের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব খাটিয়ে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা। শান্তিচুক্তি করানো। অন্যদিকে, ইরান রাশিয়ার একটি বড় মিত্র। পুতিন তার সফরে ইরানের ওপর মার্কিন চাপ মোকাবিলার কৌশল নিয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন।

ক্রেমলিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, চীনের মাটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আর রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই। পুতিনের এই সফরটি সম্পূর্ণ আলাদা। ট্রাম্পের সফর শেষ হওয়ার পরপরই, মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহের দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এক কথায়, ট্রাম্প যখন বেইজিংকে পাশে টেনে অর্থনৈতিক ও যুদ্ধসংক্রান্ত সমাধান খুঁজছেন, পুতিন তখন বেইজিংয়ের সঙ্গে তার জোটকে আরও শক্ত করে আমেরিকার ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টির কৌশল নিচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬


ট্রাম্পের পর পুতিনও যাচ্ছেন চীনে, ঘটনা কী?

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চীন সফরে রয়েছেন। এর মধ্যেই হঠাৎ করে চীন সফরের পরিকল্পনা করছেন বিশ্বের আরেক পরাশক্তি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট শিগগির চীনে যাচ্ছেন। তার ভ্রমণের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

গত কয়েক বছরে ৪০ বারেরও বেশি বার সাক্ষাৎ ঘটেছে পুতিন ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে। এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সর্বশেষ গেল বছরের সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ে দুজনের সাক্ষাৎ ঘটেছিল।

২০২২ সালে চীন-রাশিয়ার ‘সীমাহীন কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ স্বাক্ষর করেছিলেন দুই প্রেসিডেন্ট। সেই সাক্ষাতের তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যেই মস্কো ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করেছিল।

এবার এমন এক সময়ে ক্রেমলিন পুতিনের পরবর্তী চীন সফরের কথা নিশ্চিত করল, যখন চিরশত্রু  দেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে সফরে রয়েছেন।

এবারের সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট শি-র সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি তাইওয়ান, ইরানসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তবে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে বৈঠকগুলোতে ইউক্রেইন নিয়ে কোনো আলাপ হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্প যখন চীন সফরে তখন হঠাৎ করেই কেন পুতিন চীন সফরের পরিকল্পনা করলেন।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বেইজিং এখন বৈশ্বিক কূটনীতির মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্প আর পুতিনের এই পরপর সফর প্রমাণ করে, ওয়াশিংটন আর মস্কো—উভয় পক্ষের জন্যই নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় চীনের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চীন এখানে দুই পরাশক্তির সঙ্গেই ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুতিন ও শি জিনপিং 'সীমাহীন কৌশলগত অংশীদারত্ব' চুক্তিতে সই করেছিলেন। ট্রাম্পের বেইজিং সফরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য বা প্রযুক্তিগত সম্পর্ক যদি নতুন মোড় নেয়, তবে মস্কো নিশ্চিত করতে চায় যেন চীনের সঙ্গে রাশিয়ার কৌশলগত ও সামরিক জোটে কোনো ফাটল না ধরে।

ট্রাম্পের চীন সফরের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব খাটিয়ে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা। শান্তিচুক্তি করানো। অন্যদিকে, ইরান রাশিয়ার একটি বড় মিত্র। পুতিন তার সফরে ইরানের ওপর মার্কিন চাপ মোকাবিলার কৌশল নিয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন।

ক্রেমলিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, চীনের মাটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আর রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই। পুতিনের এই সফরটি সম্পূর্ণ আলাদা। ট্রাম্পের সফর শেষ হওয়ার পরপরই, মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহের দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এক কথায়, ট্রাম্প যখন বেইজিংকে পাশে টেনে অর্থনৈতিক ও যুদ্ধসংক্রান্ত সমাধান খুঁজছেন, পুতিন তখন বেইজিংয়ের সঙ্গে তার জোটকে আরও শক্ত করে আমেরিকার ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টির কৌশল নিচ্ছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত