এতদিন ডাইনোসরের জীবাশ্ম আবিষ্কারের খবর এলেই চোখ যেত আফ্রিকা কিংবা আমেরিকার দিকে। পৃথিবীর সেই প্রান্তগুলো যেন ডাইনোসর গবেষণার রাজত্ব। এবার সেই আঙিনায় নতুন নাম- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।
থাইল্যান্ডের মাটি চিড়ে বেরিয়ে এসেছে এক বিশাল দানবের কঙ্কাল। যার ওজন ছিল প্রায় নয়টি হাতির সমান। দৈর্ঘ্যে ছিল ৮৮ ফুট। আর ওজনে ছিল ২৭ টন। আর এই দানবটি ঘুরে বেড়াতো আজকের থাইল্যান্ড অঞ্চলে- প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি বছর আগে।
সম্প্রতি বিজ্ঞানসাময়িকী ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এই তথ্য জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। থাইল্যান্ডে আবিষ্কৃত এই জীবাশ্মটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডাইনোসর বলে দাবি করা হচ্ছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, এটি ছিল এক তৃণভোজী ডাইনোসর। গলাটি ছিল লম্বা, লেজ ও ঘাড় লম্বাটে- সৌরোপড গোত্রের সদস্য। মোট দৈর্ঘ্য ছিল ২৭ মিটার (৮৮ ফুট)। ওজন ছিল প্রায় ২৭ টন। নয়টি পূর্ণবয়স্ক এশীয় হাতি একসঙ্গে দাঁড় করালে যত ওজন হয়, প্রায় সেটুকু।
শিল্পীর তুলিতে কোটি কোটি বছরের স্মৃতি
জীবাশ্মটির গল্প শুরু হয়েছিল প্রায় এক দশক আগে। উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম এর সন্ধান পান। পরে সেখানে খনন শুরু হয়। কিন্তু পুরো খননকাজ শেষ হয় ২০২৪ সালে।
খননের পর জীবাশ্মগুলো যাচাই করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, এটি একটি নতুন প্রজাতির ডাইনোসর। আর এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় ডাইনোসর।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের তথ্য অনুযায়ী, এই থাই পিএইচডি শিক্ষার্থী ডাইনোসরটির ডাকনাম দিয়েছেন ‘দ্য লাস্ট টাইটান’ (শেষ দানব)। কারণ এটি থাইল্যান্ডে ডাইনোসরের জীবাশ্ম পাওয়া সবচেয়ে নবীন শিলাস্তরগুলোর একটিতে আবিষ্কৃত হয়েছে।
এর মানে, এই ডাইনোসর সম্ভবত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বসবাসকারী শেষ বড় সৌরোপডগুলোর একটি। গবেষকেরা বলছেন, এর পরবর্তী সময়ে এই অঞ্চল ধীরে ধীরে অগভীর সমুদ্রে পরিণত হয়। ফলে বড় ডাইনোসরদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
যারা এই বিশাল প্রাণীটির আসল আকার দেখতে আগ্রহী, তাদের জন্য সুখবর আছে। ডাইনোসরটির পূর্ণাঙ্গ আকারের একটি প্রতিরূপ তৈরি করা হয়েছে। এটি বর্তমানে ব্যাংককের ‘থাইনোসর মিউজিয়ামে’ প্রদর্শিত হচ্ছে।
মিউজিয়ামে ঘুরে দর্শনার্থীরা এক নজরে দেখতে পাবেন, কেমন ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দানব ডাইনোসর।
এই বিস্ময় জাগানো আবিষ্কার শুধু থাইল্যান্ডের জন্যই নয়, পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রাচীন জীববৈচিত্র্য বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকেরা বলছেন, এই অঞ্চলে এত বড় ডাইনোসরের অস্তিত্ব এর আগে জানা ছিল না। এতে প্রাচীন এই ভূখণ্ডের পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কে নতুন তথ্য জানা যাবে।
এ ছাড়া ‘দ্য লাস্ট টাইটান’ আবিষ্কার প্রমাণ করে, ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষ দিকেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বেশ বড় আকারের ডাইনোসর টিকে ছিল। পরে সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে গেলে অঞ্চলটি ডুবে যায় আর ডাইনোসররাও বিলুপ্ত হয়ে যায়।
জীবাশ্ম ফসিল থেকেই ধারণা মেলে কোটি কোটি বছর আগের ডাইনোসরদের।
গবেষক দল আশা করছে, এই আবিষ্কারের ফলে অঞ্চলটিতে আরও ডাইনোসর জীবাশ্ম খোঁজার আগ্রহ বাড়বে। হয়তো সামনের বছরগুলোতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ডাইনোসর গবেষণার একটি বড় কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নাল, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন, রয়টার্স, থাইনোসর মিউজিয়াম ব্যাংকক।

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
এতদিন ডাইনোসরের জীবাশ্ম আবিষ্কারের খবর এলেই চোখ যেত আফ্রিকা কিংবা আমেরিকার দিকে। পৃথিবীর সেই প্রান্তগুলো যেন ডাইনোসর গবেষণার রাজত্ব। এবার সেই আঙিনায় নতুন নাম- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।
থাইল্যান্ডের মাটি চিড়ে বেরিয়ে এসেছে এক বিশাল দানবের কঙ্কাল। যার ওজন ছিল প্রায় নয়টি হাতির সমান। দৈর্ঘ্যে ছিল ৮৮ ফুট। আর ওজনে ছিল ২৭ টন। আর এই দানবটি ঘুরে বেড়াতো আজকের থাইল্যান্ড অঞ্চলে- প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি বছর আগে।
সম্প্রতি বিজ্ঞানসাময়িকী ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এই তথ্য জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। থাইল্যান্ডে আবিষ্কৃত এই জীবাশ্মটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডাইনোসর বলে দাবি করা হচ্ছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, এটি ছিল এক তৃণভোজী ডাইনোসর। গলাটি ছিল লম্বা, লেজ ও ঘাড় লম্বাটে- সৌরোপড গোত্রের সদস্য। মোট দৈর্ঘ্য ছিল ২৭ মিটার (৮৮ ফুট)। ওজন ছিল প্রায় ২৭ টন। নয়টি পূর্ণবয়স্ক এশীয় হাতি একসঙ্গে দাঁড় করালে যত ওজন হয়, প্রায় সেটুকু।
শিল্পীর তুলিতে কোটি কোটি বছরের স্মৃতি
জীবাশ্মটির গল্প শুরু হয়েছিল প্রায় এক দশক আগে। উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম এর সন্ধান পান। পরে সেখানে খনন শুরু হয়। কিন্তু পুরো খননকাজ শেষ হয় ২০২৪ সালে।
খননের পর জীবাশ্মগুলো যাচাই করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, এটি একটি নতুন প্রজাতির ডাইনোসর। আর এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় ডাইনোসর।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের তথ্য অনুযায়ী, এই থাই পিএইচডি শিক্ষার্থী ডাইনোসরটির ডাকনাম দিয়েছেন ‘দ্য লাস্ট টাইটান’ (শেষ দানব)। কারণ এটি থাইল্যান্ডে ডাইনোসরের জীবাশ্ম পাওয়া সবচেয়ে নবীন শিলাস্তরগুলোর একটিতে আবিষ্কৃত হয়েছে।
এর মানে, এই ডাইনোসর সম্ভবত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বসবাসকারী শেষ বড় সৌরোপডগুলোর একটি। গবেষকেরা বলছেন, এর পরবর্তী সময়ে এই অঞ্চল ধীরে ধীরে অগভীর সমুদ্রে পরিণত হয়। ফলে বড় ডাইনোসরদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
যারা এই বিশাল প্রাণীটির আসল আকার দেখতে আগ্রহী, তাদের জন্য সুখবর আছে। ডাইনোসরটির পূর্ণাঙ্গ আকারের একটি প্রতিরূপ তৈরি করা হয়েছে। এটি বর্তমানে ব্যাংককের ‘থাইনোসর মিউজিয়ামে’ প্রদর্শিত হচ্ছে।
মিউজিয়ামে ঘুরে দর্শনার্থীরা এক নজরে দেখতে পাবেন, কেমন ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দানব ডাইনোসর।
এই বিস্ময় জাগানো আবিষ্কার শুধু থাইল্যান্ডের জন্যই নয়, পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রাচীন জীববৈচিত্র্য বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকেরা বলছেন, এই অঞ্চলে এত বড় ডাইনোসরের অস্তিত্ব এর আগে জানা ছিল না। এতে প্রাচীন এই ভূখণ্ডের পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কে নতুন তথ্য জানা যাবে।
এ ছাড়া ‘দ্য লাস্ট টাইটান’ আবিষ্কার প্রমাণ করে, ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষ দিকেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বেশ বড় আকারের ডাইনোসর টিকে ছিল। পরে সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে গেলে অঞ্চলটি ডুবে যায় আর ডাইনোসররাও বিলুপ্ত হয়ে যায়।
জীবাশ্ম ফসিল থেকেই ধারণা মেলে কোটি কোটি বছর আগের ডাইনোসরদের।
গবেষক দল আশা করছে, এই আবিষ্কারের ফলে অঞ্চলটিতে আরও ডাইনোসর জীবাশ্ম খোঁজার আগ্রহ বাড়বে। হয়তো সামনের বছরগুলোতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ডাইনোসর গবেষণার একটি বড় কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নাল, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন, রয়টার্স, থাইনোসর মিউজিয়াম ব্যাংকক।

আপনার মতামত লিখুন