দেশে
বর্তমানে হামের সংক্রমণ বাড়লেও সঠিক সময়ে রোগ
শনাক্ত ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত
করা গেলে ৯৯ শতাংশ
রোগীই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে বলে
জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞরা।
শুক্রবার
রাজধানী ঢাকায় এক বিশেষ সংবাদ
সম্মেলনে চিকিৎসকরা এই আশার বাণী
শোনান। বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন ও
চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ যৌথভাবে
এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ
সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা জানান, সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে মৃত্যুঝুঁকি
নেই বললেই চলে, তবে অবহেলা
করলে নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা তৈরি
হয়ে বড় ধরনের বিপদ
হতে পারে।
সংবাদ
সম্মেলনে এভারকেয়ার হাসপাতালের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. জিয়াউল হক
একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি
জানান, হাম অত্যন্ত সংক্রামক
ভাইরাসজনিত রোগ। অতীতে টিকাদানের
মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও
গত দুই বছরে সেই
কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্ন ঘটায় সংক্রমণ আবার
বেড়েছে।
ডা.
জিয়াউল হক তথ্য দেন,
চলতি বছরের মার্চ থেকে ১৪ মে
পর্যন্ত দেশে ৫৪ হাজার
৪১৯ জনের মধ্যে হামের
উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর
মধ্যে ৭০ জন হামে
এবং ৩৬৯ জন হাম
সদৃশ উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন,
"হাম খুব দ্রুত ছড়িয়ে
পড়ে। তবে সঠিক সময়ে
চিকিৎসা শুরু করা গেলে
৯৯ শতাংশ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ
হয়ে ওঠে। অপতথ্যে বিভ্রান্ত
না হয়ে সবাইকে সচেতন
থাকতে হবে।"
হামজনিত
মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে শ্বাসতন্ত্র
বিকল হয়ে যাওয়াকে দায়ী
করেছেন চিকিৎসকরা। সম্মেলনে জানানো হয়, শিশুদের মধ্যে
নিউমোনিয়ার জটিলতা বেশি দেখা দেয়
মূলত অপুষ্টি ও অন্যান্য শারীরিক
ঝুঁকির কারণে। এটি শুধু ফুসফুস
নয়, বরং মস্তিষ্ক ও
অন্যান্য অঙ্গেও প্রভাব ফেলতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসায় দেরি হলে এবং
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।
গবেষণার
উদ্ধৃতি দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন,
আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৫ থেকে ৮
শতাংশের নিউমোনিয়া হয়, কিন্তু একবার
গুরুতর জটিলতা তৈরি হলে মৃত্যুর
হার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত
পৌঁছাতে পারে।
হামের
বিস্তার রোধে বিশেষজ্ঞরা সরকারকে
চারটি পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি সচল রাখা, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে
‘ফিভার কর্নার’ চালু করা, বিশ্ব
স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন সবার কাছে পৌঁছে
দেওয়া এবং জনসচেতনতা বাড়ানো।
শিশু
রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন
মোল্লা বলেন, "হামে আক্রান্ত হওয়ার
পর হাসপাতালে আনতে দেরি হলে
জটিলতা বাড়ে। হাম শরীরের রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই আক্রান্ত
শিশুকে যত দ্রুত সম্ভব
চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে।"
সংবাদ
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন
প্রফেসর ডা. আসিফ মুজতাবা
মাহমুদ, অধ্যাপক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন
বেন্নুর, অধ্যাপক রুহুল আমিন, অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল আনাম
কিবরিয়া ও অধ্যাপক ডা.
গোলাম সরওয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁইয়াসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকরা দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত
চিকিৎসা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
দেশে
বর্তমানে হামের সংক্রমণ বাড়লেও সঠিক সময়ে রোগ
শনাক্ত ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত
করা গেলে ৯৯ শতাংশ
রোগীই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে বলে
জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞরা।
শুক্রবার
রাজধানী ঢাকায় এক বিশেষ সংবাদ
সম্মেলনে চিকিৎসকরা এই আশার বাণী
শোনান। বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন ও
চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ যৌথভাবে
এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ
সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা জানান, সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে মৃত্যুঝুঁকি
নেই বললেই চলে, তবে অবহেলা
করলে নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা তৈরি
হয়ে বড় ধরনের বিপদ
হতে পারে।
সংবাদ
সম্মেলনে এভারকেয়ার হাসপাতালের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. জিয়াউল হক
একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি
জানান, হাম অত্যন্ত সংক্রামক
ভাইরাসজনিত রোগ। অতীতে টিকাদানের
মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও
গত দুই বছরে সেই
কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্ন ঘটায় সংক্রমণ আবার
বেড়েছে।
ডা.
জিয়াউল হক তথ্য দেন,
চলতি বছরের মার্চ থেকে ১৪ মে
পর্যন্ত দেশে ৫৪ হাজার
৪১৯ জনের মধ্যে হামের
উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর
মধ্যে ৭০ জন হামে
এবং ৩৬৯ জন হাম
সদৃশ উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন,
"হাম খুব দ্রুত ছড়িয়ে
পড়ে। তবে সঠিক সময়ে
চিকিৎসা শুরু করা গেলে
৯৯ শতাংশ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ
হয়ে ওঠে। অপতথ্যে বিভ্রান্ত
না হয়ে সবাইকে সচেতন
থাকতে হবে।"
হামজনিত
মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে শ্বাসতন্ত্র
বিকল হয়ে যাওয়াকে দায়ী
করেছেন চিকিৎসকরা। সম্মেলনে জানানো হয়, শিশুদের মধ্যে
নিউমোনিয়ার জটিলতা বেশি দেখা দেয়
মূলত অপুষ্টি ও অন্যান্য শারীরিক
ঝুঁকির কারণে। এটি শুধু ফুসফুস
নয়, বরং মস্তিষ্ক ও
অন্যান্য অঙ্গেও প্রভাব ফেলতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসায় দেরি হলে এবং
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।
গবেষণার
উদ্ধৃতি দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন,
আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৫ থেকে ৮
শতাংশের নিউমোনিয়া হয়, কিন্তু একবার
গুরুতর জটিলতা তৈরি হলে মৃত্যুর
হার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত
পৌঁছাতে পারে।
হামের
বিস্তার রোধে বিশেষজ্ঞরা সরকারকে
চারটি পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি সচল রাখা, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে
‘ফিভার কর্নার’ চালু করা, বিশ্ব
স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন সবার কাছে পৌঁছে
দেওয়া এবং জনসচেতনতা বাড়ানো।
শিশু
রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন
মোল্লা বলেন, "হামে আক্রান্ত হওয়ার
পর হাসপাতালে আনতে দেরি হলে
জটিলতা বাড়ে। হাম শরীরের রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই আক্রান্ত
শিশুকে যত দ্রুত সম্ভব
চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে।"
সংবাদ
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন
প্রফেসর ডা. আসিফ মুজতাবা
মাহমুদ, অধ্যাপক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন
বেন্নুর, অধ্যাপক রুহুল আমিন, অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল আনাম
কিবরিয়া ও অধ্যাপক ডা.
গোলাম সরওয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁইয়াসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকরা দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত
চিকিৎসা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন