সংবাদ

শাহরুখ-কাজলের সেই বলিউড কি শেষ!


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

শাহরুখ-কাজলের সেই বলিউড কি শেষ!
কাজল-শাহরুখ।

নব্বই দশকের বলিউড মানেই ছিল এক মায়াজাল। শাহরুখ খানের দুই হাত প্রসারিত করা রোমান্স, সালমানের টানটান পেশি আর আমিরের চকোলেট বয় ইমেজ। পর্দায় মাধুরী ও কাজলের চোখ জুড়ানো নাচের শৈলী। আর ক্যাসেটের দোকানে বাজত নদীম-শ্রাবণ, জতিন-ললিত আর এ আর রহমানের সুর করা কালজয়ী গান।

সিনেমাগুলোর গল্পে থাকত মধ্যবিত্তের আবেগ। পারিবারিক মূল্যবোধ। খাঁটি ভারতীয় মাটির গন্ধ। থিয়েটারগুলোতে থাকত উপচে পড়া ভিড়। ‘দিওয়ানা’, ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’, ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে যায়েঙ্গে’- সেসব সিনেমার ডায়লগ আজও মুখস্থ অগণিত দর্শকের।

শাহরুখ-রানী

কিন্তু সেই বলিউড আজ কোথায়? এমন প্রশ্ন প্রায়ই উঠে আসছে। বিশেষ করে তরুণরা তো সেই ইতিহাস জানেনই না।সত্যিই, আজকের বলিউড জৌলুস হারিয়েছে। শতকোটি টাকার ক্লাবে ঢোকার প্রতিযোগিতা আর করপোরেট নির্ভরতা বাড়ছে। গল্পের চেয়ে বড় তারকা, অ্যাকশনের চেয়ে বড় ভিএফএক্স, আর দর্শক টানতে আইটেম গানের ওপর ভরসাও বেশ।

বিগত বছরগুলোতে ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’, ‘টাইগার ৩’- দুর্দান্ত ব্যবসা করেছে। কিন্তু দর্শক সেখানে শাহরুখ-সালমানের কারিশমা দেখেছেন, গল্প দেখেননি। সিনেমা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে মনে পড়ছে না কোন ডায়লগ, কোন দৃশ্য কাঁদিয়েছে। আগে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর ‘তুম পাস আয়ে তো’ আজও বাজলে চোখ ভিজে যায়। আর আজকের সিনেমার গান দু-সপ্তাহ পরেই মানুষ ভুলে যায়।

কারিশমা-শাহরুখ-মাধুরী

গানের জগৎটা আজ আরও করুণ। একের পর এক পুরনো গানের বেহুদা রিমিক্স বাজছে। ‘দি কাল ভইরা’, ‘মুন্নি বদনাম হুই’, ‘কাতি কাম কর লে’- এসব গান সপ্তাহ খানেক ট্রেন্ড করে। এরপর আর কেউ গায় না।

নব্বই দশকে গান বেরোলেই হতো আলোচনা। ‘ছোলি কে পিছে’, ‘ঈসা মুসকায়া তো’, ‘পেয়ার কিয়া তো ডরনা ক্যায়া’- এসব গানের মিউজিক ভিডিও বারবার দেখতাম। ক্যাসেটের দোকানে লাইন লেগে যেত। অডিও ক্যাসেটের ব্যবসা জমজমাট। আজকের যুগে স্পটিফাই-এ গান এলেও মন ভরে না। সুর আজ আর অমর হয়ে থাকে না।

বলিউডের আরেক বড় রোগ- গল্প চুরি। দক্ষিণের ছবির রিমেক, হলিউডের ছবির অনুকরণ, পুরনো হিন্দি ছবির পুনর্নির্মাণ- এই নিয়েই এখন পুরো বাণিজ্য দাঁড়িয়ে। ‘ড্রিম গার্ল’ থেকে ‘ভুল ভুলাইয়া’, ‘ড. গগন কি নাগিন’- মৌলিকত্বের অভাব প্রকট।

শাহরুখ-মাধুরী

কয়েক বছর আগে ‘কাশ্মীর ফাইলস’ বা ‘সার্দার উধম’ ব্যতিক্রম- কিন্তু সেই ধারা টিকিয়ে রাখতে পারছে না বলিউড। অথচ সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমা ‘পুষ্পা’, ‘আরআরআর’, ‘কেএফসি’র মতো ছবি দিয়ে বিশ্বজয় করছে। তারা বাজেট বাড়িয়েছে, কিন্তু মাটির গল্প ছাড়েনি। বলিউড পশ্চিমের অনুকরণে ছুটছে।

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম দর্শককে ঘরে বসেই দিচ্ছে বিশ্বমানের গল্প। ‘পঞ্চায়েত’, ‘হোস্টেল ডেজ’, ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’- এসব ওয়েব সিরিজ প্রমাণ করছে, দর্শক এখন গল্প চায়, চাকচিক্য নয়।

ফলে হলে দর্শক কমছে। আগে ডিডি ন্যাশনাল বা জি টিভিতে সিনেমা দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকত সবাই।এখন হাতে ক্লিক দিলেই হাজার হাজার কনটেন্ট। সেই ‘থিয়েটারে গিয়ে সিনেমা দেখা’ উৎসব যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

তারকাদের বিয়ে, ডিভোর্স, নাচ-গানের ঝকমারির খবরে এখন ভর্তি সিনে মিডিয়া। কিন্তু সেটা সিনেমার গুণমান ফিরিয়ে আনছে না।

শাহরুখ-কাজল

বলিউডের এই পতনের জন্য অনেক কারণ দাঁড় করানো যায়। করপোরেট হস্তক্ষেপ, টাকার অন্ধ প্রতিযোগিতা, প্রতিভাহীন পরিচালক-প্রযোজক, আর দর্শকের বদলে যাওয়া রুচি। কিন্তু মূল প্রশ্ন- নব্বইয়ের সেই বলিউড কি ফিরে আসবে? যেখানে গানের সুর জীবনের অংশ ছিল, ডায়লগ মুখস্থ ছিল, আর নায়ক-নায়িকার ভালোবাসা আমাদের স্বপ্ন দেখাত।

নতুন প্রজন্ম হয়তো বলবে- এসব নস্টালজিক।কিন্তু যারা নব্বই পার করেছে, তারা জানে, সেসব দিনগুলো কোনো ফর্মুলায় ফেরত আসবে না। ক্যাসেট এখন মিউজিয়ামে। ভিএইচএস প্লেয়ারও এখন অতীত। শাহরুখ-কাজলের সেই জুটি আর নতুন সিনেমায় দেখা যায় না। মাধুরী এখন জাজ। আমির বছর পরপর একটা ছবি করেন। সলমনের বয়স হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


শাহরুখ-কাজলের সেই বলিউড কি শেষ!

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

featured Image

নব্বই দশকের বলিউড মানেই ছিল এক মায়াজাল। শাহরুখ খানের দুই হাত প্রসারিত করা রোমান্স, সালমানের টানটান পেশি আর আমিরের চকোলেট বয় ইমেজ। পর্দায় মাধুরী ও কাজলের চোখ জুড়ানো নাচের শৈলী। আর ক্যাসেটের দোকানে বাজত নদীম-শ্রাবণ, জতিন-ললিত আর এ আর রহমানের সুর করা কালজয়ী গান।

সিনেমাগুলোর গল্পে থাকত মধ্যবিত্তের আবেগ। পারিবারিক মূল্যবোধ। খাঁটি ভারতীয় মাটির গন্ধ। থিয়েটারগুলোতে থাকত উপচে পড়া ভিড়। ‘দিওয়ানা’, ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’, ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে যায়েঙ্গে’- সেসব সিনেমার ডায়লগ আজও মুখস্থ অগণিত দর্শকের।

শাহরুখ-রানী

কিন্তু সেই বলিউড আজ কোথায়? এমন প্রশ্ন প্রায়ই উঠে আসছে। বিশেষ করে তরুণরা তো সেই ইতিহাস জানেনই না।সত্যিই, আজকের বলিউড জৌলুস হারিয়েছে। শতকোটি টাকার ক্লাবে ঢোকার প্রতিযোগিতা আর করপোরেট নির্ভরতা বাড়ছে। গল্পের চেয়ে বড় তারকা, অ্যাকশনের চেয়ে বড় ভিএফএক্স, আর দর্শক টানতে আইটেম গানের ওপর ভরসাও বেশ।

বিগত বছরগুলোতে ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’, ‘টাইগার ৩’- দুর্দান্ত ব্যবসা করেছে। কিন্তু দর্শক সেখানে শাহরুখ-সালমানের কারিশমা দেখেছেন, গল্প দেখেননি। সিনেমা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে মনে পড়ছে না কোন ডায়লগ, কোন দৃশ্য কাঁদিয়েছে। আগে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর ‘তুম পাস আয়ে তো’ আজও বাজলে চোখ ভিজে যায়। আর আজকের সিনেমার গান দু-সপ্তাহ পরেই মানুষ ভুলে যায়।

কারিশমা-শাহরুখ-মাধুরী

গানের জগৎটা আজ আরও করুণ। একের পর এক পুরনো গানের বেহুদা রিমিক্স বাজছে। ‘দি কাল ভইরা’, ‘মুন্নি বদনাম হুই’, ‘কাতি কাম কর লে’- এসব গান সপ্তাহ খানেক ট্রেন্ড করে। এরপর আর কেউ গায় না।

নব্বই দশকে গান বেরোলেই হতো আলোচনা। ‘ছোলি কে পিছে’, ‘ঈসা মুসকায়া তো’, ‘পেয়ার কিয়া তো ডরনা ক্যায়া’- এসব গানের মিউজিক ভিডিও বারবার দেখতাম। ক্যাসেটের দোকানে লাইন লেগে যেত। অডিও ক্যাসেটের ব্যবসা জমজমাট। আজকের যুগে স্পটিফাই-এ গান এলেও মন ভরে না। সুর আজ আর অমর হয়ে থাকে না।

বলিউডের আরেক বড় রোগ- গল্প চুরি। দক্ষিণের ছবির রিমেক, হলিউডের ছবির অনুকরণ, পুরনো হিন্দি ছবির পুনর্নির্মাণ- এই নিয়েই এখন পুরো বাণিজ্য দাঁড়িয়ে। ‘ড্রিম গার্ল’ থেকে ‘ভুল ভুলাইয়া’, ‘ড. গগন কি নাগিন’- মৌলিকত্বের অভাব প্রকট।

শাহরুখ-মাধুরী

কয়েক বছর আগে ‘কাশ্মীর ফাইলস’ বা ‘সার্দার উধম’ ব্যতিক্রম- কিন্তু সেই ধারা টিকিয়ে রাখতে পারছে না বলিউড। অথচ সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমা ‘পুষ্পা’, ‘আরআরআর’, ‘কেএফসি’র মতো ছবি দিয়ে বিশ্বজয় করছে। তারা বাজেট বাড়িয়েছে, কিন্তু মাটির গল্প ছাড়েনি। বলিউড পশ্চিমের অনুকরণে ছুটছে।

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম দর্শককে ঘরে বসেই দিচ্ছে বিশ্বমানের গল্প। ‘পঞ্চায়েত’, ‘হোস্টেল ডেজ’, ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’- এসব ওয়েব সিরিজ প্রমাণ করছে, দর্শক এখন গল্প চায়, চাকচিক্য নয়।

ফলে হলে দর্শক কমছে। আগে ডিডি ন্যাশনাল বা জি টিভিতে সিনেমা দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকত সবাই।এখন হাতে ক্লিক দিলেই হাজার হাজার কনটেন্ট। সেই ‘থিয়েটারে গিয়ে সিনেমা দেখা’ উৎসব যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

তারকাদের বিয়ে, ডিভোর্স, নাচ-গানের ঝকমারির খবরে এখন ভর্তি সিনে মিডিয়া। কিন্তু সেটা সিনেমার গুণমান ফিরিয়ে আনছে না।

শাহরুখ-কাজল

বলিউডের এই পতনের জন্য অনেক কারণ দাঁড় করানো যায়। করপোরেট হস্তক্ষেপ, টাকার অন্ধ প্রতিযোগিতা, প্রতিভাহীন পরিচালক-প্রযোজক, আর দর্শকের বদলে যাওয়া রুচি। কিন্তু মূল প্রশ্ন- নব্বইয়ের সেই বলিউড কি ফিরে আসবে? যেখানে গানের সুর জীবনের অংশ ছিল, ডায়লগ মুখস্থ ছিল, আর নায়ক-নায়িকার ভালোবাসা আমাদের স্বপ্ন দেখাত।

নতুন প্রজন্ম হয়তো বলবে- এসব নস্টালজিক।কিন্তু যারা নব্বই পার করেছে, তারা জানে, সেসব দিনগুলো কোনো ফর্মুলায় ফেরত আসবে না। ক্যাসেট এখন মিউজিয়ামে। ভিএইচএস প্লেয়ারও এখন অতীত। শাহরুখ-কাজলের সেই জুটি আর নতুন সিনেমায় দেখা যায় না। মাধুরী এখন জাজ। আমির বছর পরপর একটা ছবি করেন। সলমনের বয়স হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত