সংবাদ

স্পিকার বাছাইয়ে চমক দেখালো বিজেপি


দীপক মুখার্জী, কলকাতা থেকে
দীপক মুখার্জী, কলকাতা থেকে
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ১০:২৭ পিএম

স্পিকার বাছাইয়ে চমক দেখালো বিজেপি
কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসু

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন স্পিকার হলেন কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসু। তাকে বেছে নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চমক দিল শাসকদল। প্রথমবার বিধায়ক হওয়া রথীন্দ্র শুক্রবার (১৫ মে) ধ্বনি ভোটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্পিকার নির্বাচিত হন। প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয় পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া।

শুরু থেকেই জল্পনা ছিল- স্পিকারের আসনে কাকে বসাবে বিজেপি? অভিজ্ঞ কোনও মুখ নয়, তুলনায় কম পরিচিত কিন্তু সংগঠনে সক্রিয় রথীন্দ্র বসুর উপরেই শেষ পর্যন্ত আস্থা রাখল দল। বিধানসভায় তার নাম প্রস্তাব করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, সমর্থন জানান দিলীপ ঘোষ। বিরোধীদের তরফে কোনও প্রার্থী না থাকায় ধ্বনি ভোটেই নিশ্চিত হয় তাঁর জয়।

অধিবেশন শুরু হয় ‘বন্দে মাতরম্’ গান দিয়ে। স্পিকার নির্বাচনের সময় তৃণমূল বিধায়কেরা অনুপস্থিত থাকলেও পরে তারা অধিবেশনে যোগ দেন। তবে নতুন স্পিকারের নির্বাচনের বিরোধিতা করেননি বিরোধী শিবির। নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে স্পিকারের আসনে বসেন রথীন্দ্র- সেই মুহূর্তে করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে বিধানসভা। প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাকে শুভেচ্ছা জানান।

দায়িত্ব গ্রহণের পর রীতি মেনে প্রথমেই মুখ্যমন্ত্রীকে বক্তব্য রাখার অনুমতি দেন নতুন স্পিকার। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে বিধানসভা আরও গঠনমূলক পরিবেশে চলবে। বিরোধীদের বক্তব্য রাখার পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। পাশাপাশি অযথা হট্টগোল এড়িয়ে গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এরপর বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এবং সিপিএমের মোস্তাফিজুর রহমান রানাও নতুন স্পিকারকে শুভেচ্ছা জানান।

উল্লেখযোগ্যভাবে, পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট রথীন্দ্র বসু দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিককে ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করে জয়ী হন তিনি।

সাধারণত বর্ষীয়ান ও অভিজ্ঞ বিধায়কদের স্পিকার পদে বসানোর প্রচলিত রীতি থাকলেও, সেই ধারা ভেঙে প্রথমবারের বিধায়ককে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে বিজেপি স্পষ্ট বার্তা দিল- দল এখন নতুন মুখ, সাংগঠনিক শক্তি এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের উপরেই বেশি জোর দিচ্ছে।

এই সিদ্ধান্ত শুধু স্পিকার নির্বাচন নয়, বরং বাংলার রাজনীতিতে বিজেপির নতুন কৌশলের ইঙ্গিত- যেখানে অভিজ্ঞতার চেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে সংগঠনের প্রতি আনুগত্য ও নতুন নেতৃত্ব।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


স্পিকার বাছাইয়ে চমক দেখালো বিজেপি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

featured Image

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন স্পিকার হলেন কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসু। তাকে বেছে নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চমক দিল শাসকদল। প্রথমবার বিধায়ক হওয়া রথীন্দ্র শুক্রবার (১৫ মে) ধ্বনি ভোটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্পিকার নির্বাচিত হন। প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয় পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া।

শুরু থেকেই জল্পনা ছিল- স্পিকারের আসনে কাকে বসাবে বিজেপি? অভিজ্ঞ কোনও মুখ নয়, তুলনায় কম পরিচিত কিন্তু সংগঠনে সক্রিয় রথীন্দ্র বসুর উপরেই শেষ পর্যন্ত আস্থা রাখল দল। বিধানসভায় তার নাম প্রস্তাব করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, সমর্থন জানান দিলীপ ঘোষ। বিরোধীদের তরফে কোনও প্রার্থী না থাকায় ধ্বনি ভোটেই নিশ্চিত হয় তাঁর জয়।

অধিবেশন শুরু হয় ‘বন্দে মাতরম্’ গান দিয়ে। স্পিকার নির্বাচনের সময় তৃণমূল বিধায়কেরা অনুপস্থিত থাকলেও পরে তারা অধিবেশনে যোগ দেন। তবে নতুন স্পিকারের নির্বাচনের বিরোধিতা করেননি বিরোধী শিবির। নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে স্পিকারের আসনে বসেন রথীন্দ্র- সেই মুহূর্তে করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে বিধানসভা। প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাকে শুভেচ্ছা জানান।

দায়িত্ব গ্রহণের পর রীতি মেনে প্রথমেই মুখ্যমন্ত্রীকে বক্তব্য রাখার অনুমতি দেন নতুন স্পিকার। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে বিধানসভা আরও গঠনমূলক পরিবেশে চলবে। বিরোধীদের বক্তব্য রাখার পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। পাশাপাশি অযথা হট্টগোল এড়িয়ে গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এরপর বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এবং সিপিএমের মোস্তাফিজুর রহমান রানাও নতুন স্পিকারকে শুভেচ্ছা জানান।

উল্লেখযোগ্যভাবে, পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট রথীন্দ্র বসু দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিককে ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করে জয়ী হন তিনি।

সাধারণত বর্ষীয়ান ও অভিজ্ঞ বিধায়কদের স্পিকার পদে বসানোর প্রচলিত রীতি থাকলেও, সেই ধারা ভেঙে প্রথমবারের বিধায়ককে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে বিজেপি স্পষ্ট বার্তা দিল- দল এখন নতুন মুখ, সাংগঠনিক শক্তি এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের উপরেই বেশি জোর দিচ্ছে।

এই সিদ্ধান্ত শুধু স্পিকার নির্বাচন নয়, বরং বাংলার রাজনীতিতে বিজেপির নতুন কৌশলের ইঙ্গিত- যেখানে অভিজ্ঞতার চেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে সংগঠনের প্রতি আনুগত্য ও নতুন নেতৃত্ব।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত