সংবাদ

শাহ আলী মাজারে গভীর রাতে তাণ্ডব: পুলিশ ও জামায়াতের দু’রকম জবানবন্দি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম

শাহ আলী মাজারে গভীর রাতে তাণ্ডব: পুলিশ ও জামায়াতের দু’রকম জবানবন্দি

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত হযরত শাহ আলী বগদাদী (রহ.)-এর মাজারে ওরশ চলাকালে একদল যুবকের অতর্কিত লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় চরম উত্তেজনা আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনায় মাজারের অনুসারী সাধারণ জিয়ারতকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

চব্বিশের আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন সুফি দরগাহে হামলার যে ধারাবাহিকতা দেখা গিয়েছিল, এই ঘটনা তারই অংশ কি না? তা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এই হামলার নেপথ্যে কারা ছিল, তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে পরস্পরবিরোধী রহস্যজনক বক্তব্য।

ওরশের আমেজে হঠাৎ লাঠিয়ালদের হানা: রক্তাক্ত জিয়ারতকারী

প্রতি বৃহস্পতিবার রাতেই শাহ আলী মাজারে সাপ্তাহিক ওরশ জিকিরের আসর বসে, যেখানে ঢাকা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত ভক্ত সমবেত হন। গত বৃহস্পতিবার রাতেও পরিবেশ ছিল আর দশটা দিনের মতোই স্বাভাবিক। কিন্তু মাঝরাতে হঠাৎ একদল উগ্র যুবক লাঠিসোঁটা হাতে মাজার প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুস সবুর বলেন, “প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে মাজারে একটি সাপ্তাহিক ওরশ হয়। সেখানে ঢাকা এবং দেশের নানা প্রান্ত থেকে লোকজন আসে। বৃহস্পতিবার রাতে সেই ওরশ চলাকালে হঠাৎ লাঠিসোঁটা হাতে কিছু লোক এসে জিয়ারতকারীদের মারধর শুরু করে।

হামলাকারীদের পিটুনিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া এক ব্যক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কিছু লোক আসছে লাঠি নিয়া একটা বিদিকিচ্ছিরি তৈয়ার কইরা দিছে। অনেক লোক দৌড়াদৌড়ি করছে, আমি মেইন গেইটে বাইরইবার গেছি, আমাকে মাথাত বাড়ি দিছে।নিজের মুঠোফোনে ধারণ করা কিছু ছবি দেখিয়ে তিনি আরও বলেন, “এই লোকগুলি নেতৃত্ব দিছে, এই যে দেখেন একটা ছেলে। ওরা নেতৃত্ব দিছে।

মাদকবিরোধী অভিযান নাকি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা?

ঘটনার সময় মাজারের গেটের বাইরে পুলিশের গাড়ি থাকলেও তারা ভেতরে কেন ঢোকেনি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। সাদা পোশাকে পুলিশের কোনো অভিযান ছিল কি না, এমন প্রশ্নে উপস্থিত জনতা সমস্বরেনা’ ‘নাবলে চিৎকার করে ওঠেন। তাদের একজন বলেন, “এরা নিশ্চই একটা পরিকল্পনা কইরা তারপরে আসছে। নাইলে পুলিশ কেন ভেতরে ঢুকল না?” পাশে থাকা অন্য এক ব্যক্তি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “সব জামায়াতের লোক।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এই ঘটনা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি করা হয়েছে। মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার দাবি করেন, “مাজার এলাকায় পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গেলে সেখানে কিছু উৎসুক মানুষ নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করে। পরে পুলিশ সেখান থেকে ফিরে আসে।

অন্যদিকে দারুস সালাম জোনের সহকারী কমিশনার ইমদাদ হোসেন বিপুল পুলিশের অভিযানের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেন, “মাজারে তো আমরা অভিযান চালাইনি। রাতে যেটা দেখলাম যে জামায়াত-শিবিরের পোলাপান মনে হয় ব্যক্তিগত উদ্যোগে অভিযান চালিয়েছে। গত সপ্তাহে বিএনপি থেকে মিরাজ যেমন নিজ উদ্যেগে অভিযান চালিয়েছিল মনে হয় জামায়াত শিবির নিজ উদ্যোগে অভিযান চালিয়েছে। এখানে পুলিশের কোনো ইনভল্ভমেন্ট নেই।

পুলিশ সেখানে গিয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নে তিনি প্রথমে বলেন, “না না না, একটা পলিটিক্যাল পার্টির সাথে আমরা কীভাবে অভিযান করব!” কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতির কথা তুলতেই তিনি সুর বদলে বলেন, “অভিযান করেছে তারাই, আমরা ভেতরে ঢুকিনি। বাইরেও থাকিনি আমরা। আমরা দেখছি যে একটি ঝামেলা... আপনাকে ক্লিয়ারকাট বলি, কোনো পলিটিক্যাল পার্টির সাথে এনগেজ হয়ে অভিযান করার মত সুযোগ নেই আমাদের। যখন আমরা আঁচ করতে পেরেছি যে এরকম একটা অভিযান উনারা করবেন, তখন আমরা আজকে কোনো অভিযান করব না বলে সিদ্ধান্ত নই। তখন আমরা আমাদের মত ব্যাক আর কি।

এদিকে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক গল্প হাজির করেছেন। তার দাবি, জিয়ারতকারীরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ওসি বলেন, “ঘটনা হচ্ছে রওজার পূর্ব পাশে যেখানে শুক্রবারে নামাজ পড়ে, সেই জায়গায় বাইরে থেকে আসা কিছু মহিলা পুরুষ মাদুর বিছিয়ে গাঁজা সেবন করতে বসেছিল। তখন মাজারের জিয়ারতকারীরাই তাদের সেখান থেকে সরিয়ে মাজার প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেয়। এটুকু ঘটনাই আমরা পাইছি। আমি গেছিলাম, আমার অফিসার গেছিল। শুক্রবারে জুম্মার নামাজ যে জায়গাটায় হয় সেখানে বসে কেউ গাঁজা খায় না। কিন্তু গতরাতে সেখানেও গাঁজা খাওয়ার আসর বসানো হয়েছিল। সে কারণে জিয়ারতিরাই তাদের সরিয়ে দেয়। পুলিশের এখানে কোনো রোল নেই।

আমার কোনো লোক ছিল না, এটি পুলিশের অ্যাকশন: ব্যারিস্টার আরমান

স্থানীয় জামায়াত নেতা সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান) এই হামলায় তার দলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি পুরো বিষয়টিকে পুলিশের মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “পুলিশ থেকে আমাকে জানানো হয়েছে সেখানে প্রতিদিন রাতে গাঁজার আসর বসে, বৃহস্পতিবার রাতে অনেক মাদকসেবীর আড্ডা হয়। এখানে একটা বড় অভিযান চালানো হবে। এতটুকুই আমাকে জানানো হয়েছিল।

জামায়াত বা স্থানীয়দের অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না। ব্যাপারটা হচ্ছে একটা ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এরকম অবৈধ অশ্লীল কাজে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ বিরক্ত। আমার নির্বাচশি ইশতেহারের সবচেয়ে বড় ওয়াদা ছিল মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। সেজন্য আমরা পুলিশকে বারবার বলেছি, পুলিশ বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় রয়েছে। এখানে বৃহস্পতিবারে যা ঘটেছে তা প্রাইমারিলি মাদককেন্দ্রিক অ্যাক্টিভিটিজ। বৃহস্পতিবার রাতে এখানে সবচেয়ে বেশি মাদক বেচা বিক্রি হয় এবং প্রকাশ্যে হয়, সেজন্য পুলিশ অ্যাকশন নিয়েছে।দলের কেউ ভিডিওতে চিহ্নিত হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার কোনো লোকজন সেখানে ছিল না। আমাকে কয়েকজন সাংবাদিক ভিডিও পাঠিয়েছেন, আমি সেগুলো দেখেছি। সেখানে আমার পরিচিত বা দলের কোনো লোক আমি দেখিনি সেখানে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


শাহ আলী মাজারে গভীর রাতে তাণ্ডব: পুলিশ ও জামায়াতের দু’রকম জবানবন্দি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত হযরত শাহ আলী বগদাদী (রহ.)-এর মাজারে ওরশ চলাকালে একদল যুবকের অতর্কিত লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় চরম উত্তেজনা আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনায় মাজারের অনুসারী সাধারণ জিয়ারতকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

চব্বিশের আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন সুফি দরগাহে হামলার যে ধারাবাহিকতা দেখা গিয়েছিল, এই ঘটনা তারই অংশ কি না? তা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এই হামলার নেপথ্যে কারা ছিল, তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে পরস্পরবিরোধী রহস্যজনক বক্তব্য।

ওরশের আমেজে হঠাৎ লাঠিয়ালদের হানা: রক্তাক্ত জিয়ারতকারী

প্রতি বৃহস্পতিবার রাতেই শাহ আলী মাজারে সাপ্তাহিক ওরশ জিকিরের আসর বসে, যেখানে ঢাকা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত ভক্ত সমবেত হন। গত বৃহস্পতিবার রাতেও পরিবেশ ছিল আর দশটা দিনের মতোই স্বাভাবিক। কিন্তু মাঝরাতে হঠাৎ একদল উগ্র যুবক লাঠিসোঁটা হাতে মাজার প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুস সবুর বলেন, “প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে মাজারে একটি সাপ্তাহিক ওরশ হয়। সেখানে ঢাকা এবং দেশের নানা প্রান্ত থেকে লোকজন আসে। বৃহস্পতিবার রাতে সেই ওরশ চলাকালে হঠাৎ লাঠিসোঁটা হাতে কিছু লোক এসে জিয়ারতকারীদের মারধর শুরু করে।

হামলাকারীদের পিটুনিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া এক ব্যক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কিছু লোক আসছে লাঠি নিয়া একটা বিদিকিচ্ছিরি তৈয়ার কইরা দিছে। অনেক লোক দৌড়াদৌড়ি করছে, আমি মেইন গেইটে বাইরইবার গেছি, আমাকে মাথাত বাড়ি দিছে।নিজের মুঠোফোনে ধারণ করা কিছু ছবি দেখিয়ে তিনি আরও বলেন, “এই লোকগুলি নেতৃত্ব দিছে, এই যে দেখেন একটা ছেলে। ওরা নেতৃত্ব দিছে।

মাদকবিরোধী অভিযান নাকি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা?

ঘটনার সময় মাজারের গেটের বাইরে পুলিশের গাড়ি থাকলেও তারা ভেতরে কেন ঢোকেনি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। সাদা পোশাকে পুলিশের কোনো অভিযান ছিল কি না, এমন প্রশ্নে উপস্থিত জনতা সমস্বরেনা’ ‘নাবলে চিৎকার করে ওঠেন। তাদের একজন বলেন, “এরা নিশ্চই একটা পরিকল্পনা কইরা তারপরে আসছে। নাইলে পুলিশ কেন ভেতরে ঢুকল না?” পাশে থাকা অন্য এক ব্যক্তি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “সব জামায়াতের লোক।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এই ঘটনা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি করা হয়েছে। মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার দাবি করেন, “مাজার এলাকায় পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গেলে সেখানে কিছু উৎসুক মানুষ নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করে। পরে পুলিশ সেখান থেকে ফিরে আসে।

অন্যদিকে দারুস সালাম জোনের সহকারী কমিশনার ইমদাদ হোসেন বিপুল পুলিশের অভিযানের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেন, “মাজারে তো আমরা অভিযান চালাইনি। রাতে যেটা দেখলাম যে জামায়াত-শিবিরের পোলাপান মনে হয় ব্যক্তিগত উদ্যোগে অভিযান চালিয়েছে। গত সপ্তাহে বিএনপি থেকে মিরাজ যেমন নিজ উদ্যেগে অভিযান চালিয়েছিল মনে হয় জামায়াত শিবির নিজ উদ্যোগে অভিযান চালিয়েছে। এখানে পুলিশের কোনো ইনভল্ভমেন্ট নেই।

পুলিশ সেখানে গিয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নে তিনি প্রথমে বলেন, “না না না, একটা পলিটিক্যাল পার্টির সাথে আমরা কীভাবে অভিযান করব!” কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতির কথা তুলতেই তিনি সুর বদলে বলেন, “অভিযান করেছে তারাই, আমরা ভেতরে ঢুকিনি। বাইরেও থাকিনি আমরা। আমরা দেখছি যে একটি ঝামেলা... আপনাকে ক্লিয়ারকাট বলি, কোনো পলিটিক্যাল পার্টির সাথে এনগেজ হয়ে অভিযান করার মত সুযোগ নেই আমাদের। যখন আমরা আঁচ করতে পেরেছি যে এরকম একটা অভিযান উনারা করবেন, তখন আমরা আজকে কোনো অভিযান করব না বলে সিদ্ধান্ত নই। তখন আমরা আমাদের মত ব্যাক আর কি।

এদিকে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক গল্প হাজির করেছেন। তার দাবি, জিয়ারতকারীরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ওসি বলেন, “ঘটনা হচ্ছে রওজার পূর্ব পাশে যেখানে শুক্রবারে নামাজ পড়ে, সেই জায়গায় বাইরে থেকে আসা কিছু মহিলা পুরুষ মাদুর বিছিয়ে গাঁজা সেবন করতে বসেছিল। তখন মাজারের জিয়ারতকারীরাই তাদের সেখান থেকে সরিয়ে মাজার প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেয়। এটুকু ঘটনাই আমরা পাইছি। আমি গেছিলাম, আমার অফিসার গেছিল। শুক্রবারে জুম্মার নামাজ যে জায়গাটায় হয় সেখানে বসে কেউ গাঁজা খায় না। কিন্তু গতরাতে সেখানেও গাঁজা খাওয়ার আসর বসানো হয়েছিল। সে কারণে জিয়ারতিরাই তাদের সরিয়ে দেয়। পুলিশের এখানে কোনো রোল নেই।

আমার কোনো লোক ছিল না, এটি পুলিশের অ্যাকশন: ব্যারিস্টার আরমান

স্থানীয় জামায়াত নেতা সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান) এই হামলায় তার দলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি পুরো বিষয়টিকে পুলিশের মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “পুলিশ থেকে আমাকে জানানো হয়েছে সেখানে প্রতিদিন রাতে গাঁজার আসর বসে, বৃহস্পতিবার রাতে অনেক মাদকসেবীর আড্ডা হয়। এখানে একটা বড় অভিযান চালানো হবে। এতটুকুই আমাকে জানানো হয়েছিল।

জামায়াত বা স্থানীয়দের অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না। ব্যাপারটা হচ্ছে একটা ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এরকম অবৈধ অশ্লীল কাজে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ বিরক্ত। আমার নির্বাচশি ইশতেহারের সবচেয়ে বড় ওয়াদা ছিল মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। সেজন্য আমরা পুলিশকে বারবার বলেছি, পুলিশ বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় রয়েছে। এখানে বৃহস্পতিবারে যা ঘটেছে তা প্রাইমারিলি মাদককেন্দ্রিক অ্যাক্টিভিটিজ। বৃহস্পতিবার রাতে এখানে সবচেয়ে বেশি মাদক বেচা বিক্রি হয় এবং প্রকাশ্যে হয়, সেজন্য পুলিশ অ্যাকশন নিয়েছে।দলের কেউ ভিডিওতে চিহ্নিত হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার কোনো লোকজন সেখানে ছিল না। আমাকে কয়েকজন সাংবাদিক ভিডিও পাঠিয়েছেন, আমি সেগুলো দেখেছি। সেখানে আমার পরিচিত বা দলের কোনো লোক আমি দেখিনি সেখানে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত