সংবাদ

সরকারি গুদামে ধান দিতে পারছেন না কৃষক, নামমাত্র মূল্যে কিনছেন ফড়িয়ারা


লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ
লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

সরকারি গুদামে ধান দিতে পারছেন না কৃষক, নামমাত্র মূল্যে কিনছেন ফড়িয়ারা
ছবি : সংবাদ

সুনামগঞ্জে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও তার সুফল পাচ্ছেন না প্রকৃত কৃষকরা। অতিবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধানের মান খারাপ হওয়া এবং আর্দ্রতার কঠোর নিয়মের কারণে প্রান্তিক চাষিরা সরকারি গুদামে ধান দিতে পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে সরকারি দরের চেয়ে প্রায় অর্ধেক দামে স্থানীয় পাইকার বা ফড়িয়াদের কাছে ধান বিক্রি করছেন তারা।

সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মে থেকে জেলায় ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। এবার ১২ উপজেলায় ২১ হাজার ৩৪৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে অভিযান শুরুর ১০ দিনে সংগৃহীত হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৪০০ টন। এ ছাড়া ১৭ হাজার ৭০৪ টন সিদ্ধ চাল ও ৯ হাজার ৩৪৭ টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এখন পর্যন্ত সংগ্রহ সন্তোষজনক নয়।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি গুদামে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে কেনা হচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে অনেক জমির ধান তলিয়ে গেছে। রোদ না থাকায় কৃষকরা ধান ঠিকমতো শুকাতে পারছেন না। সরকারি গুদামে ধান নিতে হলে আর্দ্রতা সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ থাকার নিয়ম রয়েছে। আর্দ্রতা বেশি থাকায় গুদাম কর্তৃপক্ষ ধান ফিরিয়ে দিচ্ছে। এই সুযোগে স্থানীয় ফড়িয়ারা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ দরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে নিচ্ছেন।

সুনামগঞ্জের জাউয়ার হাওরের কৃষক আবেদ আলী বলেন, ‘১৭ বিঘা জমির মধ্যে ১০ বিঘা পানির নিচে তলাইয়া গেছে। যা কাটছি, তাও রোদ নাই বইলা শুকাইতে পারি নাই। গুদামে নিলে কয় শুকনা না, আর্দ্রতা বেশি। বাধ্য হইয়া অর্ধেক দামে বাইরে বেইচা দিছি। শ্রমিকের টাকা দিমু নাকি পরিবারের খরচ চালামু?’

একই অবস্থা জেলার বেশির ভাগ কৃষকের। ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের প্রয়োজনে তারা দ্রুত ধান বিক্রি করতে চাইলেও সরকারি গুদামে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন না।

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে কুদরত পাশা বলেন, ‘আর্দ্রতার অজুহাতে কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া নিয়ে শঙ্কা আছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের স্বার্থে নিয়ম কিছুটা শিথিল করে ধান কেনার দাবি জানাচ্ছি।’

সুনামগঞ্জ জেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক বি এম মুশফেকুর রহমান বলেন, ‘সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১৪ শতাংশের বেশি আর্দ্রতা থাকলে সেই ধান দীর্ঘ মেয়াদে মজুত করা সম্ভব নয়; পোকা ধরার ঝুঁকি থাকে। তবে কৃষকদের সুবিধার্থে আমরা গুদাম প্রাঙ্গণে ধান শুকানোর সুযোগ দিচ্ছি। আশা করছি, আবহাওয়া ভালো হলে সংগ্রহ বাড়বে এবং লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


সরকারি গুদামে ধান দিতে পারছেন না কৃষক, নামমাত্র মূল্যে কিনছেন ফড়িয়ারা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও তার সুফল পাচ্ছেন না প্রকৃত কৃষকরা। অতিবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধানের মান খারাপ হওয়া এবং আর্দ্রতার কঠোর নিয়মের কারণে প্রান্তিক চাষিরা সরকারি গুদামে ধান দিতে পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে সরকারি দরের চেয়ে প্রায় অর্ধেক দামে স্থানীয় পাইকার বা ফড়িয়াদের কাছে ধান বিক্রি করছেন তারা।

সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মে থেকে জেলায় ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। এবার ১২ উপজেলায় ২১ হাজার ৩৪৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে অভিযান শুরুর ১০ দিনে সংগৃহীত হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৪০০ টন। এ ছাড়া ১৭ হাজার ৭০৪ টন সিদ্ধ চাল ও ৯ হাজার ৩৪৭ টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এখন পর্যন্ত সংগ্রহ সন্তোষজনক নয়।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি গুদামে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে কেনা হচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে অনেক জমির ধান তলিয়ে গেছে। রোদ না থাকায় কৃষকরা ধান ঠিকমতো শুকাতে পারছেন না। সরকারি গুদামে ধান নিতে হলে আর্দ্রতা সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ থাকার নিয়ম রয়েছে। আর্দ্রতা বেশি থাকায় গুদাম কর্তৃপক্ষ ধান ফিরিয়ে দিচ্ছে। এই সুযোগে স্থানীয় ফড়িয়ারা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ দরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে নিচ্ছেন।

সুনামগঞ্জের জাউয়ার হাওরের কৃষক আবেদ আলী বলেন, ‘১৭ বিঘা জমির মধ্যে ১০ বিঘা পানির নিচে তলাইয়া গেছে। যা কাটছি, তাও রোদ নাই বইলা শুকাইতে পারি নাই। গুদামে নিলে কয় শুকনা না, আর্দ্রতা বেশি। বাধ্য হইয়া অর্ধেক দামে বাইরে বেইচা দিছি। শ্রমিকের টাকা দিমু নাকি পরিবারের খরচ চালামু?’

একই অবস্থা জেলার বেশির ভাগ কৃষকের। ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের প্রয়োজনে তারা দ্রুত ধান বিক্রি করতে চাইলেও সরকারি গুদামে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন না।

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে কুদরত পাশা বলেন, ‘আর্দ্রতার অজুহাতে কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া নিয়ে শঙ্কা আছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের স্বার্থে নিয়ম কিছুটা শিথিল করে ধান কেনার দাবি জানাচ্ছি।’

সুনামগঞ্জ জেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক বি এম মুশফেকুর রহমান বলেন, ‘সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১৪ শতাংশের বেশি আর্দ্রতা থাকলে সেই ধান দীর্ঘ মেয়াদে মজুত করা সম্ভব নয়; পোকা ধরার ঝুঁকি থাকে। তবে কৃষকদের সুবিধার্থে আমরা গুদাম প্রাঙ্গণে ধান শুকানোর সুযোগ দিচ্ছি। আশা করছি, আবহাওয়া ভালো হলে সংগ্রহ বাড়বে এবং লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত