গাইবান্ধা পৌর শহরকে জলাতঙ্কমুক্ত করার লক্ষ্যে বেওয়ারিশ কুকুরকে প্রতিষেধক (অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন) দেওয়ার বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গত ১৬ মে ভোর থেকে গাইবান্ধা পৌরসভার উদ্যোগে ও জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সহযোগিতায় এই গণ-টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, অভিযানের প্রথম দিনে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ২০টি বেওয়ারিশ কুকুরকে টিকা দেওয়া হয়েছে। যেসব কুকুরকে টিকা দেওয়া হচ্ছে, চেনার সুবিধার্থে তাদের শরীরে লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডেই এই কর্মসূচি চালানো হবে।
সম্প্রতি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে ৫ জনের মৃত্যু এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় জেলাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত এই পদক্ষেপ নিল স্থানীয় প্রশাসন। সিরাজগঞ্জ থেকে আসা বিশেষায়িত একটি দল (ভ্যাকসিনেটর টিম) এই কার্যক্রমে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ১১ মে এক গণশুনানিতে নাগরিকেরা বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব ও জলাতঙ্কের ঝুঁকির বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছিলেন। এর পরপরই এমন দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ায় পৌর কর্তৃপক্ষ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তারা।
টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও), পৌরসভার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক তুহিন দেওয়ান বলেন, ‘পৌরসভার এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে ভ্যাকসিনের মেয়াদ শেষে পুনরায় যেন বুস্টার ডোজের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে এই সুরক্ষা দীর্ঘস্থায়ী হবে।’
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো সপ্তাহজুড়ে এই টিকাদান ও তদারকি কার্যক্রম চলমান থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন