বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও প্রগতিশীল সংবাদপত্র দৈনিক ‘সংবাদ’ বর্ণাঢ্য ৭৫ বছর পেরিয়ে ৭৬তম বছরে পা রাখলো। রোববার (১৭ মে) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনের সংবাদ কার্যালয়ে কেক কেটে এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদযাপন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম ও হেড অব নিউজ রাশেদ আহমেদ কেক কাটেন। এ সময় প্রিন্ট ও ডিজিটাল ভার্সনে কর্মরত সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজনের আগে সংবাদ কার্যালয় সুসজ্জিত করা হয়। ব্যানার টানা হয়। ডিজিটাল সংস্করণে প্রকাশ করা হয় বিশেষ ই-ম্যাগাজিন। সেখানে সংবাদপত্রটির গৌরবময় পথচলার স্মৃতিচারণমূলক লেখা স্থান পায়।
উদ্বোধনীতে অংশ নেন সহকারী সম্পাদক সাকী আহসান, বার্তা সম্পাদক নিয়ন মতিয়ুল, চিফ রিপোর্টার সালাম জুবায়ের, সিনিয়র রিপোর্টার ফয়েজ আহমেদ তুষার, মহসীন ইসলাম টুটুল, মাসুদ রানা, রেজাউল করিম, চিফ ফটো জার্নালিস্ট সোহরাব আলম, চিফ অফ আইটি নিজাম উদ্দিনসহ অনেকেই।
ডিজিটাল সংস্করণ থেকে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর আতাউর রহমান সোহাগ, সোশ্যাল মিডিয়া এডিটর মোহাম্মদ নেসার, চিফ ভিডিও এডিটর ওয়াসিম খান রানা, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর শামীম রিজভী, রোজিনা রোজী, মোজো রিপোর্টার গাজী মহিনউদ্দিন, আজিজ চৌধুরী, সাদ্দাম হোসেন, মুক্তার আহম্মেদ ইয়াসিন ও জাবির আহম্মেদ জিহাদ। আরও উপস্থিত ছিলেন ভিডিও এডিটর আসফাক এহসান আলভী ও আলিফ রহমান ইয়ামিন।
এছাড়া সার্কুলেশন ম্যানেজার শওকত আলী সাজু, কমার্শিয়াল ম্যানেজার মাহবুব আলম, হিসাব বিভাগের বিধান দত্ত, সানজানা কবির, আব্দুল হান্নান, নূর মুহাম্মাদ, সাইফুদ্দিন শাহীনসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম ইতিহাসে ‘সংবাদ’-এর অবস্থান অনন্য। ‘বাংলাদেশের মুখপত্র’ খ্যাত এই পত্রিকাটি এখন প্রিন্ট ও ডিজিটাল- দুই ভার্সনেই পাঠকের আস্থা ধরে রেখেছে।
১৯৫১ সালের ১৭ মে প্রথম প্রকাশিত হয় ‘সংবাদ’। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার- প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছে এই পত্রিকা। বাংলাদেশের প্রাচীন সংবাদপত্রগুলোর মধ্যে ‘সংবাদ’ এখনও সগৌরবে টিকে আছে।
পঞ্চাশের দশক, ষাটের দশক, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান- প্রত্যেকটি ঘটনায় ‘সংবাদ’ ছিল সাহসী ভূমিকার প্রতীক। পত্রিকাটি কখনো সাম্প্রদায়িকতার পক্ষে অবস্থান নেয়নি, কখনো অসত্যের পক্ষে কলম ধরেনি।
কেক কেটে ৭৬ বছরে পদার্পণের মুহূর্তে সংবাদের সহকর্মীরা প্রতিক্রিয়া জানান। পত্রিকাটির ঐতিহ্য, সাহসিকতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন। তারা বলেন, বাংলাদেশে এমন একটি প্রাচীন পত্রিকা আর নেই, যেটি এত বছর ধরে একটানা প্রকাশিত হয়ে আসছে। সংবাদ সেটা করেছে। এটি আমাদের গর্ব ও দায়িত্ব।’
হেড অব নিউজ রাশেদ আহমেদ বলেন, সংবাদ শুধু একটি পত্রিকা নয়, এটি একটি প্রতিষ্ঠান। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ-প্রত্যেকটি সংকটে সংবাদ পাশে ছিল। আজও আছে। পত্রিকাটির অন্যতম প্রধান সম্পাদক আহমদুল কবির ছিলেন কিংবদন্তি। তার নেতৃত্বেই সংবাদ এতদূর এসেছে।’
বার্তা সম্পাদক নিয়ন মতিয়ুল বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সংবাদে ইতিহাস। প্রজন্মের পর প্রজন্মের সামনে দৃষ্টান্ত হয়ে আছে সংবাদ। সব বাধা পেরিয়ে এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।’
চিফ রিপোর্টার সালাম জুবায়ের বলেন, ‘সংবাদের ৭৬ বছর মানে বাংলাদেশের ৭৬ বছরের গণমাধ্যমের ইতিহাস। আমি এটার অংশ হতে পেরে গর্বিত।’
ডিজিটাল সংস্করণের ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর আতাউর রহমান সোহাগ বলেন, ‘সংবাদের যাত্রা প্রিন্ট দিয়ে শুরু, কিন্তু আমরা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমেও সক্রিয়। এখনো পাঠকদের আস্থার জায়গা আমরা।’
সোশ্যাল মিডিয়া এডিটর মোহাম্মদ নেসার বলেন, ‘পাঠকেরা এখন দ্রুত খবর চান। আমরা ডিজিটাল ভার্সনে সেই চাহিদা পূরণ করছি, কিন্তু সংবাদের পুরনো বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রেখেছি।’চিফ ভিডিও এডিটর ওয়াসিম খান রানা বলেন, ‘সংবাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মানে আমাদের উৎসব। এখানে কাজ করা প্রতিটি মানুষের মনে একটি গর্ব কাজ করে।’
সিনিয়র নিউজরুম এডিটর শামীম রিজভী বলেন, ‘সংবাদের পাতায় আমরা প্রতিনিয়ত ইতিহাস লিখছি। এটা বড় পাওয়া।’

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও প্রগতিশীল সংবাদপত্র দৈনিক ‘সংবাদ’ বর্ণাঢ্য ৭৫ বছর পেরিয়ে ৭৬তম বছরে পা রাখলো। রোববার (১৭ মে) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনের সংবাদ কার্যালয়ে কেক কেটে এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদযাপন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম ও হেড অব নিউজ রাশেদ আহমেদ কেক কাটেন। এ সময় প্রিন্ট ও ডিজিটাল ভার্সনে কর্মরত সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজনের আগে সংবাদ কার্যালয় সুসজ্জিত করা হয়। ব্যানার টানা হয়। ডিজিটাল সংস্করণে প্রকাশ করা হয় বিশেষ ই-ম্যাগাজিন। সেখানে সংবাদপত্রটির গৌরবময় পথচলার স্মৃতিচারণমূলক লেখা স্থান পায়।
উদ্বোধনীতে অংশ নেন সহকারী সম্পাদক সাকী আহসান, বার্তা সম্পাদক নিয়ন মতিয়ুল, চিফ রিপোর্টার সালাম জুবায়ের, সিনিয়র রিপোর্টার ফয়েজ আহমেদ তুষার, মহসীন ইসলাম টুটুল, মাসুদ রানা, রেজাউল করিম, চিফ ফটো জার্নালিস্ট সোহরাব আলম, চিফ অফ আইটি নিজাম উদ্দিনসহ অনেকেই।
ডিজিটাল সংস্করণ থেকে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর আতাউর রহমান সোহাগ, সোশ্যাল মিডিয়া এডিটর মোহাম্মদ নেসার, চিফ ভিডিও এডিটর ওয়াসিম খান রানা, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর শামীম রিজভী, রোজিনা রোজী, মোজো রিপোর্টার গাজী মহিনউদ্দিন, আজিজ চৌধুরী, সাদ্দাম হোসেন, মুক্তার আহম্মেদ ইয়াসিন ও জাবির আহম্মেদ জিহাদ। আরও উপস্থিত ছিলেন ভিডিও এডিটর আসফাক এহসান আলভী ও আলিফ রহমান ইয়ামিন।
এছাড়া সার্কুলেশন ম্যানেজার শওকত আলী সাজু, কমার্শিয়াল ম্যানেজার মাহবুব আলম, হিসাব বিভাগের বিধান দত্ত, সানজানা কবির, আব্দুল হান্নান, নূর মুহাম্মাদ, সাইফুদ্দিন শাহীনসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম ইতিহাসে ‘সংবাদ’-এর অবস্থান অনন্য। ‘বাংলাদেশের মুখপত্র’ খ্যাত এই পত্রিকাটি এখন প্রিন্ট ও ডিজিটাল- দুই ভার্সনেই পাঠকের আস্থা ধরে রেখেছে।
১৯৫১ সালের ১৭ মে প্রথম প্রকাশিত হয় ‘সংবাদ’। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার- প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছে এই পত্রিকা। বাংলাদেশের প্রাচীন সংবাদপত্রগুলোর মধ্যে ‘সংবাদ’ এখনও সগৌরবে টিকে আছে।
পঞ্চাশের দশক, ষাটের দশক, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান- প্রত্যেকটি ঘটনায় ‘সংবাদ’ ছিল সাহসী ভূমিকার প্রতীক। পত্রিকাটি কখনো সাম্প্রদায়িকতার পক্ষে অবস্থান নেয়নি, কখনো অসত্যের পক্ষে কলম ধরেনি।
কেক কেটে ৭৬ বছরে পদার্পণের মুহূর্তে সংবাদের সহকর্মীরা প্রতিক্রিয়া জানান। পত্রিকাটির ঐতিহ্য, সাহসিকতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন। তারা বলেন, বাংলাদেশে এমন একটি প্রাচীন পত্রিকা আর নেই, যেটি এত বছর ধরে একটানা প্রকাশিত হয়ে আসছে। সংবাদ সেটা করেছে। এটি আমাদের গর্ব ও দায়িত্ব।’
হেড অব নিউজ রাশেদ আহমেদ বলেন, সংবাদ শুধু একটি পত্রিকা নয়, এটি একটি প্রতিষ্ঠান। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ-প্রত্যেকটি সংকটে সংবাদ পাশে ছিল। আজও আছে। পত্রিকাটির অন্যতম প্রধান সম্পাদক আহমদুল কবির ছিলেন কিংবদন্তি। তার নেতৃত্বেই সংবাদ এতদূর এসেছে।’
বার্তা সম্পাদক নিয়ন মতিয়ুল বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সংবাদে ইতিহাস। প্রজন্মের পর প্রজন্মের সামনে দৃষ্টান্ত হয়ে আছে সংবাদ। সব বাধা পেরিয়ে এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।’
চিফ রিপোর্টার সালাম জুবায়ের বলেন, ‘সংবাদের ৭৬ বছর মানে বাংলাদেশের ৭৬ বছরের গণমাধ্যমের ইতিহাস। আমি এটার অংশ হতে পেরে গর্বিত।’
ডিজিটাল সংস্করণের ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর আতাউর রহমান সোহাগ বলেন, ‘সংবাদের যাত্রা প্রিন্ট দিয়ে শুরু, কিন্তু আমরা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমেও সক্রিয়। এখনো পাঠকদের আস্থার জায়গা আমরা।’
সোশ্যাল মিডিয়া এডিটর মোহাম্মদ নেসার বলেন, ‘পাঠকেরা এখন দ্রুত খবর চান। আমরা ডিজিটাল ভার্সনে সেই চাহিদা পূরণ করছি, কিন্তু সংবাদের পুরনো বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রেখেছি।’চিফ ভিডিও এডিটর ওয়াসিম খান রানা বলেন, ‘সংবাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মানে আমাদের উৎসব। এখানে কাজ করা প্রতিটি মানুষের মনে একটি গর্ব কাজ করে।’
সিনিয়র নিউজরুম এডিটর শামীম রিজভী বলেন, ‘সংবাদের পাতায় আমরা প্রতিনিয়ত ইতিহাস লিখছি। এটা বড় পাওয়া।’

আপনার মতামত লিখুন