সংবাদ

পর্যটন শহরে আদিম যাতায়াত, বাঁশের সাঁকোই যখন ভরসা


সংগ্রাম দত্ত, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)
সংগ্রাম দত্ত, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

পর্যটন শহরে আদিম যাতায়াত, বাঁশের সাঁকোই যখন ভরসা
মৌলভীবাজার জেলা শহরের পশ্চিম বাজার-সাবিয়া খেয়াঘাটে দীর্ঘ ১২ বছরেও সেতু নির্মিত না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ছবি : সংবাদ

মৌলভীবাজার জেলা শহরের পশ্চিম বাজার-সাবিয়া খেয়াঘাট এলাকায় একটি সেতুর জন্য মানুষের অপেক্ষা এখন এক যুগে ঠেকেছে। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ তৎকালীন পৌর মেয়র ফজলুল করিম ময়ূন এই ঘাটে একটি সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।

কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছরেও সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে কয়েক গ্রামের মানুষের নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা এখন একটি নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো।

সরেজমিনে দেখা যায়, মনু নদীর ওপর তৈরি এই সাঁকোটি অত্যন্ত সরু এবং ভারসাম্যহীন। এক সঙ্গে দুজনের বেশি মানুষ এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে পারেন না। প্রতিদিন শত শত মানুষ জীবিকার তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এটি ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে পারাপার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। কোনো পিতাকে দেখা যায় এক হাতে শিশুকে আঁকড়ে ধরে অন্য হাতে বাঁশের খুঁটি চেপে ধরে অতি কষ্টে সাঁকো পার হচ্ছেন।

বর্ষা মৌসুমে এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। বৃষ্টিতে ভেজা বাঁশ পিচ্ছিল হয়ে পড়লে যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। অথচ এই ঘাট দিয়ে পারাপার হওয়া মানুষের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

মৌলভীবাজার বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন জেলা হিসেবে পরিচিত। একপাশে চা-বাগান ও বনাঞ্চলের চোখজুড়ানো সৌন্দর্য, আর অন্যপাশে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এক ঘাটে যাতায়াতের এমন আদিম চিত্র উন্নয়নের বৈপরীত্যকেই ফুটিয়ে তুলছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ এক যুগ ধরে শুধু প্রতিশ্রুতিই মিলেছে, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। দ্রুত এখানে একটি টেকসই সেতু বা আধুনিক খেয়াঘাট নির্মাণের মাধ্যমে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


পর্যটন শহরে আদিম যাতায়াত, বাঁশের সাঁকোই যখন ভরসা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

মৌলভীবাজার জেলা শহরের পশ্চিম বাজার-সাবিয়া খেয়াঘাট এলাকায় একটি সেতুর জন্য মানুষের অপেক্ষা এখন এক যুগে ঠেকেছে। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ তৎকালীন পৌর মেয়র ফজলুল করিম ময়ূন এই ঘাটে একটি সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।

কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছরেও সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে কয়েক গ্রামের মানুষের নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা এখন একটি নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো।

সরেজমিনে দেখা যায়, মনু নদীর ওপর তৈরি এই সাঁকোটি অত্যন্ত সরু এবং ভারসাম্যহীন। এক সঙ্গে দুজনের বেশি মানুষ এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে পারেন না। প্রতিদিন শত শত মানুষ জীবিকার তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এটি ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে পারাপার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। কোনো পিতাকে দেখা যায় এক হাতে শিশুকে আঁকড়ে ধরে অন্য হাতে বাঁশের খুঁটি চেপে ধরে অতি কষ্টে সাঁকো পার হচ্ছেন।

বর্ষা মৌসুমে এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। বৃষ্টিতে ভেজা বাঁশ পিচ্ছিল হয়ে পড়লে যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। অথচ এই ঘাট দিয়ে পারাপার হওয়া মানুষের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

মৌলভীবাজার বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন জেলা হিসেবে পরিচিত। একপাশে চা-বাগান ও বনাঞ্চলের চোখজুড়ানো সৌন্দর্য, আর অন্যপাশে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এক ঘাটে যাতায়াতের এমন আদিম চিত্র উন্নয়নের বৈপরীত্যকেই ফুটিয়ে তুলছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ এক যুগ ধরে শুধু প্রতিশ্রুতিই মিলেছে, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। দ্রুত এখানে একটি টেকসই সেতু বা আধুনিক খেয়াঘাট নির্মাণের মাধ্যমে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত