যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের তীব্র সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালিতে নতুন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দাবি অনুযায়ী, তাদের সরাসরি সহায়তায় মাত্র এক দিনেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে ২৬টি আন্তর্জাতিক জাহাজ নিরাপদ দূরত্বে পার হয়েছে।
বুধবার (২০
মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ-তে প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে এই তথ্য
জানানো হয়। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করেছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখন আইআরজিসি
নৌবাহিনীর অনুমতি ও সমন্বয়ের মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে, এই গুরুত্বপূর্ণ
নৌপথে স্বাভাবিক চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা এখনও
গভীর অচলাবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে। খবর আল-জাজিরার।
পরিস্থিতি আরও
জটিল করে ইরানের পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ (পিজিএসএ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
এক্সে (সাবেক টুইটার) হরমুজ প্রণালির একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে। ওই মানচিত্রে
একটি সুনির্দিষ্ট ‘নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক অঞ্চল’ চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে কর্তৃপক্ষের
অনুমতি ছাড়া যেকোনো ধরনের জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি
রপ্তানির প্রায় পাঁচভাগের একভাগ (২০%) এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো। যুদ্ধ
শুরু হওয়ার পরপরই তেহরান কৌশলগত এই নৌপথটি বন্ধ করে দেয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে, যা
দেশটির আয়ের প্রধান উৎস তেল রপ্তানিকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে।
এই অবরোধের
জেরে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের খাদ্য সংকটের পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা
(এফএও)। বুধবার সংস্থাটি এক সতর্কবার্তায় জানায়, মার্কিন অবরোধের কারণে আগামী ৬ থেকে
১২ মাসের মধ্যে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্যে মারাত্মক সংকট তৈরি হতে পারে।
এফএও এই পরিস্থিতিকে
একটি "ব্যবস্থাগত কৃষি-খাদ্য ধাক্কা" হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের
মতে, এই সংকটটি ধাপে ধাপে বিস্তৃত হচ্ছে প্রথমে জ্বালানি ও সার, এরপর বীজ, কম উৎপাদন,
পণ্যমূল্য বৃদ্ধি এবং সবশেষে তা চূড়ান্ত খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে রূপ নিচ্ছে।
এদিকে উদ্ভূত
পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে
আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হচ্ছে। তবে তিনি একই সাথে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি চূড়ান্ত
কোনো চুক্তি না হয়, তবে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের
এই হুমকির পর পাল্টা জবাব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তেহরানের
অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি অত্যন্ত সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন যদি আবারও যুদ্ধে
ফিরে যাওয়ার পথ বেছে নেয়, তবে তাদের জন্য সামনে আরও অনেক বড় বড় ‘চমক’ অপেক্ষা করছে।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের তীব্র সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালিতে নতুন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দাবি অনুযায়ী, তাদের সরাসরি সহায়তায় মাত্র এক দিনেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে ২৬টি আন্তর্জাতিক জাহাজ নিরাপদ দূরত্বে পার হয়েছে।
বুধবার (২০
মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ-তে প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে এই তথ্য
জানানো হয়। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করেছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখন আইআরজিসি
নৌবাহিনীর অনুমতি ও সমন্বয়ের মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে, এই গুরুত্বপূর্ণ
নৌপথে স্বাভাবিক চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা এখনও
গভীর অচলাবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে। খবর আল-জাজিরার।
পরিস্থিতি আরও
জটিল করে ইরানের পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ (পিজিএসএ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
এক্সে (সাবেক টুইটার) হরমুজ প্রণালির একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে। ওই মানচিত্রে
একটি সুনির্দিষ্ট ‘নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক অঞ্চল’ চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে কর্তৃপক্ষের
অনুমতি ছাড়া যেকোনো ধরনের জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি
রপ্তানির প্রায় পাঁচভাগের একভাগ (২০%) এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো। যুদ্ধ
শুরু হওয়ার পরপরই তেহরান কৌশলগত এই নৌপথটি বন্ধ করে দেয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে, যা
দেশটির আয়ের প্রধান উৎস তেল রপ্তানিকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে।
এই অবরোধের
জেরে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের খাদ্য সংকটের পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা
(এফএও)। বুধবার সংস্থাটি এক সতর্কবার্তায় জানায়, মার্কিন অবরোধের কারণে আগামী ৬ থেকে
১২ মাসের মধ্যে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্যে মারাত্মক সংকট তৈরি হতে পারে।
এফএও এই পরিস্থিতিকে
একটি "ব্যবস্থাগত কৃষি-খাদ্য ধাক্কা" হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের
মতে, এই সংকটটি ধাপে ধাপে বিস্তৃত হচ্ছে প্রথমে জ্বালানি ও সার, এরপর বীজ, কম উৎপাদন,
পণ্যমূল্য বৃদ্ধি এবং সবশেষে তা চূড়ান্ত খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে রূপ নিচ্ছে।
এদিকে উদ্ভূত
পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে
আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হচ্ছে। তবে তিনি একই সাথে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি চূড়ান্ত
কোনো চুক্তি না হয়, তবে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের
এই হুমকির পর পাল্টা জবাব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তেহরানের
অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি অত্যন্ত সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন যদি আবারও যুদ্ধে
ফিরে যাওয়ার পথ বেছে নেয়, তবে তাদের জন্য সামনে আরও অনেক বড় বড় ‘চমক’ অপেক্ষা করছে।

আপনার মতামত লিখুন