সংবাদ

টোল বন্ধের দাবিতে কুষ্টিয়ায় মহাসড়ক অবরোধ


জেলা বার্তা পরিবেশক,কুষ্টিয়া
জেলা বার্তা পরিবেশক,কুষ্টিয়া
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০১:১৭ পিএম

টোল বন্ধের দাবিতে কুষ্টিয়ায় মহাসড়ক অবরোধ
কুমারখালীতে মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভকারীদের সড়ক অবরোধ। ছবি : সংবাদ

কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমারখালীর সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুতে টোল বন্ধের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের লোকজনের বিরুদ্ধে। বুধবার (২০ মে) বিকেলে সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গোলচত্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ছাত্র-জনতা।

বিক্ষোভকারীরা সড়কের ওপর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর ফলে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। কোরবানির পশু বোঝাই ট্রাকসহ শত শত যানবাহন আটকে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে গড়াই নদীর ওপর ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতুটি নির্মিত হয়। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর টোল আদায় বন্ধের দাবিতে টোল প্লাজায় আগুন দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে দীর্ঘদিন টোল আদায় বন্ধ থাকায় সরকার প্রায় ১৮ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে। সম্প্রতি ২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় ‘থ্রি স্টার এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে টোল আদায়ের ইজারা দেয় সওজ। সোমবার রাত থেকে সেতুটিতে পুনরায় টোল আদায় শুরু হয়।

বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, সাধারণ নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ঠিকাদারের লোকজনের ধস্তাধস্তি চলছে। কুষ্টিয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সমন্বয়কারী কে এম আর শাহীন অভিযোগ করেন, “শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে ঠিকাদারের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে মাইক ও ব্যানার ছিনিয়ে নিয়েছে।”

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আশরাফ হোসেন বলেন, “জনগণের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা ছোট যানবাহন বাদ দিয়ে বৈধভাবে টোল তুলছি। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”

বিক্ষোভের কারণে দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়া এক মাইক্রোবাস চালক বলেন, “ঘণ্টাব্যাপী আটকে আছি। টোল বন্ধের দাবি যৌক্তিক হতে পারে, কিন্তু সাধারণ মানুষকে এভাবে ভোগান্তিতে ফেলা ঠিক নয়।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রবিন আহমেদ জানান, সামনে ঈদ ও বুধবার হাটের দিন হওয়ায় মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে টোল আদায় বন্ধ না হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, টোল বন্ধের দাবিতে প্রায় দেড় ঘণ্টা মহাসড়ক বন্ধ ছিল। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, “অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই টোল আদায় করা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউএনও-কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


টোল বন্ধের দাবিতে কুষ্টিয়ায় মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমারখালীর সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুতে টোল বন্ধের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের লোকজনের বিরুদ্ধে। বুধবার (২০ মে) বিকেলে সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গোলচত্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ছাত্র-জনতা।

বিক্ষোভকারীরা সড়কের ওপর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর ফলে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। কোরবানির পশু বোঝাই ট্রাকসহ শত শত যানবাহন আটকে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে গড়াই নদীর ওপর ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতুটি নির্মিত হয়। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর টোল আদায় বন্ধের দাবিতে টোল প্লাজায় আগুন দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে দীর্ঘদিন টোল আদায় বন্ধ থাকায় সরকার প্রায় ১৮ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে। সম্প্রতি ২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় ‘থ্রি স্টার এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে টোল আদায়ের ইজারা দেয় সওজ। সোমবার রাত থেকে সেতুটিতে পুনরায় টোল আদায় শুরু হয়।

বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, সাধারণ নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ঠিকাদারের লোকজনের ধস্তাধস্তি চলছে। কুষ্টিয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সমন্বয়কারী কে এম আর শাহীন অভিযোগ করেন, “শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে ঠিকাদারের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে মাইক ও ব্যানার ছিনিয়ে নিয়েছে।”

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আশরাফ হোসেন বলেন, “জনগণের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা ছোট যানবাহন বাদ দিয়ে বৈধভাবে টোল তুলছি। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”

বিক্ষোভের কারণে দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়া এক মাইক্রোবাস চালক বলেন, “ঘণ্টাব্যাপী আটকে আছি। টোল বন্ধের দাবি যৌক্তিক হতে পারে, কিন্তু সাধারণ মানুষকে এভাবে ভোগান্তিতে ফেলা ঠিক নয়।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রবিন আহমেদ জানান, সামনে ঈদ ও বুধবার হাটের দিন হওয়ায় মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে টোল আদায় বন্ধ না হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, টোল বন্ধের দাবিতে প্রায় দেড় ঘণ্টা মহাসড়ক বন্ধ ছিল। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, “অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই টোল আদায় করা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউএনও-কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত