একসময় চট্টগ্রামের জলজটের গল্প বললে রংপুরের মানুষ অবাক হতেন। কিন্তু আজ সেই দৃশ্যই দেখা যাচ্ছে বিভাগীয় নগরী রংপুরে। মাত্র পাঁচ ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরীর ৪০টি পাড়া-মহল্লা হাঁটু থেকে কোমড় পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত ১৫ হাজার পরিবার। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা আর পানি নিষ্কাশনের পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় নগরবাসী চরম দূর্ভোগে পড়েছেন।
শুক্রবার (২২ মে) ভোর চারটা থেকে শুরু হয় অবিরাম বর্ষণ। রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সকাল নয়টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টায় ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল নয়টার পর বৃষ্টি কিছুটা কমলেও তখনও নগরীর নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামেনি। বরং জলাবদ্ধতা আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর লালবাগ, ধাপ, নিউ জুম্মাপাড়া, কুকরুল, মাস্টারপাড়া, কামারপাড়া, বাবুখাঁ (পশ্চিম ও উত্তর), গনেশপুর, বালাপাড়া, বিনোদপুর, পাঠানপাড়া, ইসলামপুর, মুন্সিপাড়াসহ ৪০টি এলাকা হাঁটু থেকে কোমড় পানিতে তলিয়ে গেছে। এমনকি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসও দেড় থেকে দুই ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের ভেতরেও পানি ঢুকে গেছে।
সড়কগুলোতে ভেসে চলেছে প্রাইভেট কার, ট্রাক, অটোরিকশা। পানি বাড়িতে ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র তলিয়ে গেছে। মাষ্টারপাড়া এলাকার বৃদ্ধ আফছার আলী বলেন, ‘জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতে এত বৃষ্টি আগে দেখিনি। ড্রেনগুলো পানি বহন করতে পারছে না। সিটি করপোরেশন কোনো পদক্ষেপ নেয় না। আর একদিন বৃষ্টি হলে আমাদের বাড়ি পুরো তলিয়ে যাবে।’
পশ্চিম ও দক্ষিণ বাবুখাঁ এবং গনেশপুর এলাকার অবস্থা আরও ভয়াবহ। সেখানে প্রতিটি বাড়ির ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। স্থানীয় দোকানদার মমতাজ বেগম জানান, দোকানের ভেতরে পানি ঢুকে হাজার হাজার টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।
অবসরপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘রংপুর সিটি করপোরেশনের পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভরাট হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। শ্যামাসুন্দরী খালে পানি ফেলার ব্যবস্থা নেই। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলে এ সমস্যা হতো না।’
নগরীর ৪০ পাড়া-মহল্লার ঘরে ঘরে পানি। ছবি: প্রতিনিধি
বিষয়টি নিয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুন্নবী ডনের বক্তব্য জানতে বারবার ফোন করেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
অপরিকল্পিত নগরায়ণ আর ড্রেনেজ ব্যবস্থার পতনের কারণে চট্টগ্রামের যে জলজটের চিত্র বহুদিনের, সেই একই ছবি এখন যেন দেখা যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের রংপুর নগরীতে। বর্ষণের কারণে হঠাৎ এই জলাবদ্ধতা নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগে ফেলে দিয়েছে।

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
একসময় চট্টগ্রামের জলজটের গল্প বললে রংপুরের মানুষ অবাক হতেন। কিন্তু আজ সেই দৃশ্যই দেখা যাচ্ছে বিভাগীয় নগরী রংপুরে। মাত্র পাঁচ ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরীর ৪০টি পাড়া-মহল্লা হাঁটু থেকে কোমড় পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত ১৫ হাজার পরিবার। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা আর পানি নিষ্কাশনের পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় নগরবাসী চরম দূর্ভোগে পড়েছেন।
শুক্রবার (২২ মে) ভোর চারটা থেকে শুরু হয় অবিরাম বর্ষণ। রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সকাল নয়টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টায় ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল নয়টার পর বৃষ্টি কিছুটা কমলেও তখনও নগরীর নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামেনি। বরং জলাবদ্ধতা আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর লালবাগ, ধাপ, নিউ জুম্মাপাড়া, কুকরুল, মাস্টারপাড়া, কামারপাড়া, বাবুখাঁ (পশ্চিম ও উত্তর), গনেশপুর, বালাপাড়া, বিনোদপুর, পাঠানপাড়া, ইসলামপুর, মুন্সিপাড়াসহ ৪০টি এলাকা হাঁটু থেকে কোমড় পানিতে তলিয়ে গেছে। এমনকি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসও দেড় থেকে দুই ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের ভেতরেও পানি ঢুকে গেছে।
সড়কগুলোতে ভেসে চলেছে প্রাইভেট কার, ট্রাক, অটোরিকশা। পানি বাড়িতে ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র তলিয়ে গেছে। মাষ্টারপাড়া এলাকার বৃদ্ধ আফছার আলী বলেন, ‘জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতে এত বৃষ্টি আগে দেখিনি। ড্রেনগুলো পানি বহন করতে পারছে না। সিটি করপোরেশন কোনো পদক্ষেপ নেয় না। আর একদিন বৃষ্টি হলে আমাদের বাড়ি পুরো তলিয়ে যাবে।’
পশ্চিম ও দক্ষিণ বাবুখাঁ এবং গনেশপুর এলাকার অবস্থা আরও ভয়াবহ। সেখানে প্রতিটি বাড়ির ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। স্থানীয় দোকানদার মমতাজ বেগম জানান, দোকানের ভেতরে পানি ঢুকে হাজার হাজার টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।
অবসরপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘রংপুর সিটি করপোরেশনের পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভরাট হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। শ্যামাসুন্দরী খালে পানি ফেলার ব্যবস্থা নেই। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলে এ সমস্যা হতো না।’
নগরীর ৪০ পাড়া-মহল্লার ঘরে ঘরে পানি। ছবি: প্রতিনিধি
বিষয়টি নিয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুন্নবী ডনের বক্তব্য জানতে বারবার ফোন করেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
অপরিকল্পিত নগরায়ণ আর ড্রেনেজ ব্যবস্থার পতনের কারণে চট্টগ্রামের যে জলজটের চিত্র বহুদিনের, সেই একই ছবি এখন যেন দেখা যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের রংপুর নগরীতে। বর্ষণের কারণে হঠাৎ এই জলাবদ্ধতা নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগে ফেলে দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন