এক বছর আগে পর্যন্ত বিদ্যালয়টির মাঠ ছিল প্রাণচঞ্চল। টিফিনের সময় ছুটে আসা শিশুদের কলরবে মুখর থাকত পুরো পরিবেশ। এখন সেই মাঠে ইট, বালি আর শুড়কির স্তূপ। শ্রেণিকক্ষের ভেতর শিক্ষকের বসার চেয়ারের পেছনে স্তূপ করে রাখা রডের বান্ডেল। যেকোনো মুহূর্তে সেগুলো পড়ে গিয়ে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা।
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ৫৯ নম্বর কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। দীর্ঘ এক বছর ধরে এখানে পড়ালেখার পরিবেশ পুরোপুরি বিঘ্নিত করে রেখেছে নির্মাণ কাজ।
বিদ্যালয়ের মাঠটি প্রায় ৫০ শতক জমির ওপর। তার বেশির ভাগ জুড়ে একটি পুকুর। সামনে ছোট খেলার মাঠ। গত এক বছর ধরে ওয়াশ ব্লক ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে।
‘নূর ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৮ লাখ টাকায় কাজটি পেয়েছে। শুরুতে কাজ ছিল গতিশীল। কিন্তু একপর্যায়ে গতি কমে যায়। এখন নির্মাণের যাবতীয় উপকরণ মাঠজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। প্রধান ফটকের পাশে পড়ে আছে প্রতিবেশীর একটি ট্রাক্টর। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলফিকার আলী ভূঁইয়া জানান, কাজ শুরুর সময়ই ঠিকাদারকে নির্মাণসামগ্রী শ্রেণিকক্ষে ও মাঠে যত্রতত্র না রাখতে বলেছিলেন। সেই নিষেধাজ্ঞা আমলে নেয়নি ঠিকাদারের লোকজন। পরে সরিয়ে নিতে বললেও কর্ণপাত করেনি।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিজা জানায়, মাঠ না থাকায় টিফিনের সময় তারা আর খেলতে পারে না। বাধ্য হয়ে পাশের ব্যস্ত সড়কে গিয়ে খেলাধুলা করে। স্কুলের মাঠ বন্ধ থাকায় তাদের পড়ালেখার মনোযোগও নষ্ট হচ্ছে। অন্য শিক্ষার্থীরাও একই কথা জানায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে বাচ্চাদের রাস্তায় খেলতে বাধ্য করা মোটেই ঠিক নয়। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কে নেবে? তারা প্রশ্ন তোলেন, একটি ওয়াশ ব্লক ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ঠিক কত দিন সময় লাগে? কেন দীর্ঘ এক বছরেও কাজ শেষ হচ্ছে না?
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার হুমায়ুন কবীরের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। জনস্বাস্থ্য বিভাগের নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘মাঠে বা শ্রেণিকক্ষে মালামাল রেখে কাজ করার কোনো নিয়ম নেই। আমি দ্রুত মালামাল সরানোর ব্যবস্থা করব।’
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা আক্তার জানান, বিষয়টি আগে তার নজরে আসেনি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিদ্যালয়ের পড়ালেখার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তিনি দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, শুধু পাঠদানই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না, ঝুঁকিও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। রডের বান্ডেল শ্রেণিকক্ষের ভেতরে রাখায় সেগুলো পড়ে গেলে ঘটে যেতে পারে বড় দুর্ঘটনা। মাঠ দখল করে রাখায় ফুরফুরে পরিবেশ হারিয়ে গেছে অনেক আগেই। টিফিনের বিরতিতে এখন রাস্তার ধুলো আর যানবাহনের শব্দের মধ্যেই কাটছে শিশুদের সময়।
এক বছর ধরে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে ও ঝুঁকি দূর করতে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
এক বছর আগে পর্যন্ত বিদ্যালয়টির মাঠ ছিল প্রাণচঞ্চল। টিফিনের সময় ছুটে আসা শিশুদের কলরবে মুখর থাকত পুরো পরিবেশ। এখন সেই মাঠে ইট, বালি আর শুড়কির স্তূপ। শ্রেণিকক্ষের ভেতর শিক্ষকের বসার চেয়ারের পেছনে স্তূপ করে রাখা রডের বান্ডেল। যেকোনো মুহূর্তে সেগুলো পড়ে গিয়ে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা।
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ৫৯ নম্বর কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। দীর্ঘ এক বছর ধরে এখানে পড়ালেখার পরিবেশ পুরোপুরি বিঘ্নিত করে রেখেছে নির্মাণ কাজ।
বিদ্যালয়ের মাঠটি প্রায় ৫০ শতক জমির ওপর। তার বেশির ভাগ জুড়ে একটি পুকুর। সামনে ছোট খেলার মাঠ। গত এক বছর ধরে ওয়াশ ব্লক ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে।
‘নূর ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৮ লাখ টাকায় কাজটি পেয়েছে। শুরুতে কাজ ছিল গতিশীল। কিন্তু একপর্যায়ে গতি কমে যায়। এখন নির্মাণের যাবতীয় উপকরণ মাঠজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। প্রধান ফটকের পাশে পড়ে আছে প্রতিবেশীর একটি ট্রাক্টর। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলফিকার আলী ভূঁইয়া জানান, কাজ শুরুর সময়ই ঠিকাদারকে নির্মাণসামগ্রী শ্রেণিকক্ষে ও মাঠে যত্রতত্র না রাখতে বলেছিলেন। সেই নিষেধাজ্ঞা আমলে নেয়নি ঠিকাদারের লোকজন। পরে সরিয়ে নিতে বললেও কর্ণপাত করেনি।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিজা জানায়, মাঠ না থাকায় টিফিনের সময় তারা আর খেলতে পারে না। বাধ্য হয়ে পাশের ব্যস্ত সড়কে গিয়ে খেলাধুলা করে। স্কুলের মাঠ বন্ধ থাকায় তাদের পড়ালেখার মনোযোগও নষ্ট হচ্ছে। অন্য শিক্ষার্থীরাও একই কথা জানায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে বাচ্চাদের রাস্তায় খেলতে বাধ্য করা মোটেই ঠিক নয়। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কে নেবে? তারা প্রশ্ন তোলেন, একটি ওয়াশ ব্লক ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ঠিক কত দিন সময় লাগে? কেন দীর্ঘ এক বছরেও কাজ শেষ হচ্ছে না?
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার হুমায়ুন কবীরের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। জনস্বাস্থ্য বিভাগের নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘মাঠে বা শ্রেণিকক্ষে মালামাল রেখে কাজ করার কোনো নিয়ম নেই। আমি দ্রুত মালামাল সরানোর ব্যবস্থা করব।’
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা আক্তার জানান, বিষয়টি আগে তার নজরে আসেনি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিদ্যালয়ের পড়ালেখার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তিনি দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, শুধু পাঠদানই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না, ঝুঁকিও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। রডের বান্ডেল শ্রেণিকক্ষের ভেতরে রাখায় সেগুলো পড়ে গেলে ঘটে যেতে পারে বড় দুর্ঘটনা। মাঠ দখল করে রাখায় ফুরফুরে পরিবেশ হারিয়ে গেছে অনেক আগেই। টিফিনের বিরতিতে এখন রাস্তার ধুলো আর যানবাহনের শব্দের মধ্যেই কাটছে শিশুদের সময়।
এক বছর ধরে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে ও ঝুঁকি দূর করতে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।

আপনার মতামত লিখুন