পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার হাটবাজারগুলোতে গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মধ্যে জমে উঠেছে মৌসুমী ফল কচি তালের শাঁস বিক্রি। তীব্র গরমে একটু স্বস্তি পেতে এবং শরীরকে সজল রাখতে সব বয়সী মানুষের কাছে এখন তালের শাঁসের কদর বেড়েছে। তবে একদিকে যেমন বাড়ছে এর বিক্রি ও জনপ্রিয়তা, অন্যদিকে আশঙ্কাজনক হারে কমছে বজ্রনিরোধক তালগাছের সংখ্যা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার দুমকি বাজার, নতুন বাজার, থানা ব্রিজ, লেবুখালী পাগলা গোলচত্বর এলাকা, বোর্ড অফিস বাজার, তালুকদার বাজার, পাঙ্গাশিয়া মাদ্রাসা ব্রিজ, আঙ্গারিয়া বন্দর ও চরগরবদি ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মৌসুমী বিক্রেতারা কচি তালের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। নানা পেশার ও বয়সের মানুষ অত্যন্ত আগ্রহের সাথে ভিড় জমিয়ে এসব শাঁস কিনছেন কিংবা দাঁড়িয়েই খাচ্ছেন।
উত্তর শ্রীরামপুর গ্রামের মৌসুমী তাল বিক্রেতা মো. ফারুক হোসেন জানান, এই গরমে বাড়তি কিছু উপার্জনের জন্য তিনি মাঠপর্যায়ে ঘুরে গাছমালিকদের কাছ থেকে চুক্তিতে কচি তাল কিনে নেন। প্রতিটি গাছের জন্য আকারভেদে ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা চুক্তি করতে হয়। তবে ফারুক আক্ষেপ করে বলেন, "আগে ঘরের পাশেই পর্যাপ্ত তালগাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন গাছ কমে যাওয়ায় অনেক দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে কচি তাল সংগ্রহ করতে হয়। এতে যাতায়াত ও সংগ্রহের খরচ অনেক বেড়েছে।"
থানা ব্রিজ এলাকার আরেক বিক্রেতা মো. মুসা খান জানান, "আমরা আকার অনুযায়ী একেকটি কচি তাল ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করি। গরমে প্রচুর চাহিদা থাকায় সন্ধ্যার পরেও থানা ব্রিজের ওপর মানুষের আনাগোনা থাকে। কম পুঁজি খাটিয়ে ভালো বিক্রি হচ্ছে। লাভও মোটামুটি ভালো।"
বাজার ঘুরে দেখা যায় ক্রেতাদের বিপুল আগ্রহ। স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোসা. ফাতেমা জাহান বলেন, "কচি তালের শাঁস অত্যন্ত লোভনীয় ও সুস্বাদু খাবার। ছেলেমেয়েদের ভীষণ প্রিয়। তাই জনতা কলেজ মোড়ের দোকান থেকে প্রায়ই এটি কিনে বাড়ি নিয়ে যাই। তবে অন্য বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে।" দক্ষিণ মুরাদিয়ার বাসিন্দা জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, "পরিবারের আনন্দ আর সুস্বাদু খাবারের তাগিদে ৪০০ টাকা দিয়ে ২০টি কচি তাল কিনলাম। ছেলেমেয়েরা খুব খুশি হবে, কারণ তারা রসালো তালের শাঁস দারুণ পছন্দ করে।"
কালের বিবর্তনে বাড়ির চারপাশ, পুকুরপাড় কিংবা সড়কের ধার থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বজ্রপাতের প্রাকৃতিক ঢাল এই প্রাচীন তালগাছ। সচেতন মহল মনে করেন, বজ্রপাত নিরোধক হিসেবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তালবীজ বপনের যে কার্যক্রম সচল রয়েছে, তা বর্তমান পরিবেশগত সংকটের তুলনায় অপ্রতুল।
দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক মীর শহিদুল হাসান শাহীন বলেন, "তালের শাঁসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণ ও পানি। এটি আঁশযুক্ত হওয়ার কারণে গরমে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এই তীব্র গরমে শরীরের কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে এবং পানিশূন্যতা রোধ করতে নিয়মিত কচি তালের শাঁস খাওয়া অত্যন্ত উপকারী ও স্বাস্থ্যসম্মত।"

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার হাটবাজারগুলোতে গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মধ্যে জমে উঠেছে মৌসুমী ফল কচি তালের শাঁস বিক্রি। তীব্র গরমে একটু স্বস্তি পেতে এবং শরীরকে সজল রাখতে সব বয়সী মানুষের কাছে এখন তালের শাঁসের কদর বেড়েছে। তবে একদিকে যেমন বাড়ছে এর বিক্রি ও জনপ্রিয়তা, অন্যদিকে আশঙ্কাজনক হারে কমছে বজ্রনিরোধক তালগাছের সংখ্যা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার দুমকি বাজার, নতুন বাজার, থানা ব্রিজ, লেবুখালী পাগলা গোলচত্বর এলাকা, বোর্ড অফিস বাজার, তালুকদার বাজার, পাঙ্গাশিয়া মাদ্রাসা ব্রিজ, আঙ্গারিয়া বন্দর ও চরগরবদি ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মৌসুমী বিক্রেতারা কচি তালের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। নানা পেশার ও বয়সের মানুষ অত্যন্ত আগ্রহের সাথে ভিড় জমিয়ে এসব শাঁস কিনছেন কিংবা দাঁড়িয়েই খাচ্ছেন।
উত্তর শ্রীরামপুর গ্রামের মৌসুমী তাল বিক্রেতা মো. ফারুক হোসেন জানান, এই গরমে বাড়তি কিছু উপার্জনের জন্য তিনি মাঠপর্যায়ে ঘুরে গাছমালিকদের কাছ থেকে চুক্তিতে কচি তাল কিনে নেন। প্রতিটি গাছের জন্য আকারভেদে ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা চুক্তি করতে হয়। তবে ফারুক আক্ষেপ করে বলেন, "আগে ঘরের পাশেই পর্যাপ্ত তালগাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন গাছ কমে যাওয়ায় অনেক দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে কচি তাল সংগ্রহ করতে হয়। এতে যাতায়াত ও সংগ্রহের খরচ অনেক বেড়েছে।"
থানা ব্রিজ এলাকার আরেক বিক্রেতা মো. মুসা খান জানান, "আমরা আকার অনুযায়ী একেকটি কচি তাল ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করি। গরমে প্রচুর চাহিদা থাকায় সন্ধ্যার পরেও থানা ব্রিজের ওপর মানুষের আনাগোনা থাকে। কম পুঁজি খাটিয়ে ভালো বিক্রি হচ্ছে। লাভও মোটামুটি ভালো।"
বাজার ঘুরে দেখা যায় ক্রেতাদের বিপুল আগ্রহ। স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোসা. ফাতেমা জাহান বলেন, "কচি তালের শাঁস অত্যন্ত লোভনীয় ও সুস্বাদু খাবার। ছেলেমেয়েদের ভীষণ প্রিয়। তাই জনতা কলেজ মোড়ের দোকান থেকে প্রায়ই এটি কিনে বাড়ি নিয়ে যাই। তবে অন্য বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে।" দক্ষিণ মুরাদিয়ার বাসিন্দা জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, "পরিবারের আনন্দ আর সুস্বাদু খাবারের তাগিদে ৪০০ টাকা দিয়ে ২০টি কচি তাল কিনলাম। ছেলেমেয়েরা খুব খুশি হবে, কারণ তারা রসালো তালের শাঁস দারুণ পছন্দ করে।"
কালের বিবর্তনে বাড়ির চারপাশ, পুকুরপাড় কিংবা সড়কের ধার থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বজ্রপাতের প্রাকৃতিক ঢাল এই প্রাচীন তালগাছ। সচেতন মহল মনে করেন, বজ্রপাত নিরোধক হিসেবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তালবীজ বপনের যে কার্যক্রম সচল রয়েছে, তা বর্তমান পরিবেশগত সংকটের তুলনায় অপ্রতুল।
দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক মীর শহিদুল হাসান শাহীন বলেন, "তালের শাঁসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণ ও পানি। এটি আঁশযুক্ত হওয়ার কারণে গরমে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এই তীব্র গরমে শরীরের কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে এবং পানিশূন্যতা রোধ করতে নিয়মিত কচি তালের শাঁস খাওয়া অত্যন্ত উপকারী ও স্বাস্থ্যসম্মত।"

আপনার মতামত লিখুন