পৃথিবীর রান্নাঘরে মাংস পৌঁছানোর পেছনে কাজ করছে বিশাল এক শিল্প। চীন, যুক্তরাষ্ট্র আর ব্রাজিল- এই তিন দেশ মিলে বিশ্বের মাংস উৎপাদনের সিংহভাগ দখল করে রেখেছে। শুধু চীনই বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশের জোগান দেয়। তবে কোরবানির উপযোগী পশু (ছাগল, ভেড়া) উৎপাদনে শীর্ষে ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও পাকিস্তান।
জলবায়ু, বিশাল চারণভূমি ও জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে এসব দেশ মাংস উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে। আবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের নিজস্ব উৎপাদন কম তবে আমদানি করে বেশি।
চীন বিশ্বের বৃহত্তম মাংস উৎপাদনকারী দেশ। বার্ষিক প্রায় ৮০ মিলিয়ন টন মাংস উৎপাদন করে। দেশটির শক্তিশালী উৎপাদন কাঠামোর মূল কারণ- বিশাল জনসংখ্যা ও দ্রুত নগরায়ণ। চীনে মাংসের চাহিদা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। বিবর্তনীয় কৃষিব্যবস্থা বলছে, গ্রামীণ অর্থনীতি ও নগর কেন্দ্রিক চাহিদা একসঙ্গে মাংস উৎপাদনকে চালিত করে।
চীনা মাংস শিল্প প্রযুক্তিনির্ভর, বড় বড় ফিডলট ও ভ্যাকসিন পদ্ধতি চালু আছে। গত এক দশকে খামারের সংখ্যা কমলেও উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েছে প্রযুক্তির সহায়তায়। তবে চীনের রপ্তানি তুলনামূলক কম- অধিকাংশ উৎপাদন অভ্যন্তরীণ বাজারেই চলে যায়।
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাংস উৎপাদনকারী। এ দেশের উৎপাদন পদ্ধতি অত্যন্ত যান্ত্রিকায়িত। ফ্রিডম রেঞ্জের চেয়ে এখানে ‘কনফাইনমেন্ট ফিডিং’ বেশি প্রচলিত, যা ব্যাপক উৎপাদনে সক্ষম। তবে সম্প্রতি প্রাণী কল্যাণ ও পরিবেশ দূষণ ইস্যুতে সমালোচনার মুখে প্রথাগত উৎপাদন পদ্ধতি।
যুক্তরাষ্ট্র বছরে প্রায় ৪০ মিলিয়ন টন মাংস উৎপাদন করে। বড় বড় কোম্পানি এগিয়ে রপ্তানি বাজারে। টেক্সাস, নেব্রাস্কা ও আইওয়া অঙ্গরাজ্যগুলোতে গবাদিপশু খামার কেন্দ্রীভূত। গত কয়েক বছরে উদ্ভাবনী পদ্ধতিতে চর্বিহীন মাংস উৎপাদন বাড়ছে, যা রপ্তানির বাজার বাড়িয়েছে।
ব্রাজিলের অর্থনীতি গবাদিপশুর রপ্তানিনির্ভর। দেশটি বিশ্বের শীর্ষ গরুর মাংস রপ্তানিকারক। এখানে প্রাকৃতিক চারণভূমির আকার বিশাল। বিবর্তন ও পরিবেশগত দৃষ্টিভঙ্গি বলে, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘাসভূমি গবাদিপশুর জন্য অতি উপযোগী- ব্রাজিলের আমাজন ও সেরাদো অঞ্চলে এই সুবিধা আছে।
ব্রাজিল বছরে প্রায় ৩২ মিলিয়ন টন মাংস উৎপাদন করে। দেশটির রপ্তানি বাজার বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশে বিস্তৃত। চীন ও ইউরোপ ব্রাজিলিয়ান গরুর মাংসের অন্যতম বড় ক্রেতা।
ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও পাকিস্তান কোরবানির পশু উৎপাদনে শীর্ষ দেশ। ছাগল-ভেড়া উৎপাদনে এই দেশগুলো বিশেষ দক্ষ। জনসংখ্যার ঘনত্ব ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোরবানির পশুর চাহিদা বাড়িয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় কোরবানির পশু পালন প্রান্তিক খামারিদের আয়ের বড় উৎস।
ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘু হলেও এদেশে ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা বিশ্বে শীর্ষস্থানীয়। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৯১ লাখের বেশি পশু কোরবানি হয়, যা বিশ্বের বড় আয়োজন। এসব দেশের মাংসের অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ বাজারে খরচ হয়। রপ্তানি তুলনামূলক কম হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হালাল মাংস রপ্তানি বাড়ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মাংস উৎপাদনের ওপর প্রভাব ফেলছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি চারণভূমি ও পশুখাদ্যের উৎপাদন ব্যাহত করছে। পরিবেশবিদদের মতে, মাংস শিল্প গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে অন্যতম বড় ভূমিকা রাখে। টেকসই উৎপাদনের চ্যালেঞ্জ বড়, কিন্তু ফার্ম টেকনোলজি ও নীতিমালার উন্নয়ন এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পথ দেখাতে পারে।

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬
পৃথিবীর রান্নাঘরে মাংস পৌঁছানোর পেছনে কাজ করছে বিশাল এক শিল্প। চীন, যুক্তরাষ্ট্র আর ব্রাজিল- এই তিন দেশ মিলে বিশ্বের মাংস উৎপাদনের সিংহভাগ দখল করে রেখেছে। শুধু চীনই বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশের জোগান দেয়। তবে কোরবানির উপযোগী পশু (ছাগল, ভেড়া) উৎপাদনে শীর্ষে ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও পাকিস্তান।
জলবায়ু, বিশাল চারণভূমি ও জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে এসব দেশ মাংস উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে। আবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের নিজস্ব উৎপাদন কম তবে আমদানি করে বেশি।
চীন বিশ্বের বৃহত্তম মাংস উৎপাদনকারী দেশ। বার্ষিক প্রায় ৮০ মিলিয়ন টন মাংস উৎপাদন করে। দেশটির শক্তিশালী উৎপাদন কাঠামোর মূল কারণ- বিশাল জনসংখ্যা ও দ্রুত নগরায়ণ। চীনে মাংসের চাহিদা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। বিবর্তনীয় কৃষিব্যবস্থা বলছে, গ্রামীণ অর্থনীতি ও নগর কেন্দ্রিক চাহিদা একসঙ্গে মাংস উৎপাদনকে চালিত করে।
চীনা মাংস শিল্প প্রযুক্তিনির্ভর, বড় বড় ফিডলট ও ভ্যাকসিন পদ্ধতি চালু আছে। গত এক দশকে খামারের সংখ্যা কমলেও উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েছে প্রযুক্তির সহায়তায়। তবে চীনের রপ্তানি তুলনামূলক কম- অধিকাংশ উৎপাদন অভ্যন্তরীণ বাজারেই চলে যায়।
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাংস উৎপাদনকারী। এ দেশের উৎপাদন পদ্ধতি অত্যন্ত যান্ত্রিকায়িত। ফ্রিডম রেঞ্জের চেয়ে এখানে ‘কনফাইনমেন্ট ফিডিং’ বেশি প্রচলিত, যা ব্যাপক উৎপাদনে সক্ষম। তবে সম্প্রতি প্রাণী কল্যাণ ও পরিবেশ দূষণ ইস্যুতে সমালোচনার মুখে প্রথাগত উৎপাদন পদ্ধতি।
যুক্তরাষ্ট্র বছরে প্রায় ৪০ মিলিয়ন টন মাংস উৎপাদন করে। বড় বড় কোম্পানি এগিয়ে রপ্তানি বাজারে। টেক্সাস, নেব্রাস্কা ও আইওয়া অঙ্গরাজ্যগুলোতে গবাদিপশু খামার কেন্দ্রীভূত। গত কয়েক বছরে উদ্ভাবনী পদ্ধতিতে চর্বিহীন মাংস উৎপাদন বাড়ছে, যা রপ্তানির বাজার বাড়িয়েছে।
ব্রাজিলের অর্থনীতি গবাদিপশুর রপ্তানিনির্ভর। দেশটি বিশ্বের শীর্ষ গরুর মাংস রপ্তানিকারক। এখানে প্রাকৃতিক চারণভূমির আকার বিশাল। বিবর্তন ও পরিবেশগত দৃষ্টিভঙ্গি বলে, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘাসভূমি গবাদিপশুর জন্য অতি উপযোগী- ব্রাজিলের আমাজন ও সেরাদো অঞ্চলে এই সুবিধা আছে।
ব্রাজিল বছরে প্রায় ৩২ মিলিয়ন টন মাংস উৎপাদন করে। দেশটির রপ্তানি বাজার বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশে বিস্তৃত। চীন ও ইউরোপ ব্রাজিলিয়ান গরুর মাংসের অন্যতম বড় ক্রেতা।
ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও পাকিস্তান কোরবানির পশু উৎপাদনে শীর্ষ দেশ। ছাগল-ভেড়া উৎপাদনে এই দেশগুলো বিশেষ দক্ষ। জনসংখ্যার ঘনত্ব ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোরবানির পশুর চাহিদা বাড়িয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় কোরবানির পশু পালন প্রান্তিক খামারিদের আয়ের বড় উৎস।
ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘু হলেও এদেশে ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা বিশ্বে শীর্ষস্থানীয়। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৯১ লাখের বেশি পশু কোরবানি হয়, যা বিশ্বের বড় আয়োজন। এসব দেশের মাংসের অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ বাজারে খরচ হয়। রপ্তানি তুলনামূলক কম হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হালাল মাংস রপ্তানি বাড়ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মাংস উৎপাদনের ওপর প্রভাব ফেলছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি চারণভূমি ও পশুখাদ্যের উৎপাদন ব্যাহত করছে। পরিবেশবিদদের মতে, মাংস শিল্প গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে অন্যতম বড় ভূমিকা রাখে। টেকসই উৎপাদনের চ্যালেঞ্জ বড়, কিন্তু ফার্ম টেকনোলজি ও নীতিমালার উন্নয়ন এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পথ দেখাতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন