সংবাদ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে যা আছে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ১০:৩৮ এএম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে যা আছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর একটি কাঠামোগত চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে দুই দেশ।

বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষই এই যুদ্ধবিরতি বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ সইয়ের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এই চুক্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন বা স্বাক্ষর দেননি। দুই দেশের মধ্যে কিছু ভাষাগত এবং কৌশলগত বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।

​চুক্তির অগ্রগতি ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানান, ঠিক কখন বা আদৌ প্রেসিডেন্ট এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করবেন কি না, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে আলোচনার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে ভ্যান্স বলেন, "কিছু ভাষাগত বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। তবে আমরা অনেক অগ্রগতি করেছি। এখন পর্যন্ত ইরান সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই আলোচনা করছে এবং উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু করতে চায়।" অবশ্য একই সাথে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

​এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেনসেটও সম্ভাব্য এই চুক্তি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, দুই পক্ষ হয়তো একটি চুক্তির প্রাথমিক ভিত্তি খুঁজে পেয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেধে দেওয়া কিছু শর্ত এখনো পূরণ হওয়া বাকি আছে জানিয়ে বেনসেট বলেন, "তিনি খারাপ কোনো চুক্তি করবেন না। তিনি আমেরিকান জনগণের জন্য একটি দুর্দান্ত চুক্তি করবেন।" এর আগে গত বুধবার এক মন্ত্রিসভার বৈঠকেও ট্রাম্প ইরানের দেওয়া প্রস্তাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধ অবসানের যেকোনো চুক্তির মূল শর্তই হবে ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে পুরোপুরি সরে আসতে হবে। এমনকি কাজ শেষ করতে প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি।

​মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সম্ভাব্য ৬০ দিনের চুক্তিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল বা হয়রানি ছাড়াই সাধারণ জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা। এছাড়া ইরানকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ওই অঞ্চলের সব নৌমাইন সরিয়ে ফেলতে হবে। এর বিনিময়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ধাপে ধাপে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তিতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে, তাও আলোচনার টেবিলে রাখা হয়েছে।

​গত ৭ এপ্রিল থেকে দুই দেশের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। অবশ্য মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা থাকলেও মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট দাবি করেছেন যে যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। ট্রাম্পের শান্তিপ্রিয় নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় শান্তিচুক্তিকেই অগ্রাধিকার দেন। এখন পর্যন্ত আমরা যা করেছি, সবই আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ।" শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন কি না, তা এখন দুই দেশের পরবর্তী আলোচনার ওপর নির্ভর করছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬


ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে যা আছে

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর একটি কাঠামোগত চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে দুই দেশ।

বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষই এই যুদ্ধবিরতি বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ সইয়ের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এই চুক্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন বা স্বাক্ষর দেননি। দুই দেশের মধ্যে কিছু ভাষাগত এবং কৌশলগত বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।

​চুক্তির অগ্রগতি ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানান, ঠিক কখন বা আদৌ প্রেসিডেন্ট এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করবেন কি না, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে আলোচনার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে ভ্যান্স বলেন, "কিছু ভাষাগত বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। তবে আমরা অনেক অগ্রগতি করেছি। এখন পর্যন্ত ইরান সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই আলোচনা করছে এবং উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু করতে চায়।" অবশ্য একই সাথে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

​এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেনসেটও সম্ভাব্য এই চুক্তি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, দুই পক্ষ হয়তো একটি চুক্তির প্রাথমিক ভিত্তি খুঁজে পেয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেধে দেওয়া কিছু শর্ত এখনো পূরণ হওয়া বাকি আছে জানিয়ে বেনসেট বলেন, "তিনি খারাপ কোনো চুক্তি করবেন না। তিনি আমেরিকান জনগণের জন্য একটি দুর্দান্ত চুক্তি করবেন।" এর আগে গত বুধবার এক মন্ত্রিসভার বৈঠকেও ট্রাম্প ইরানের দেওয়া প্রস্তাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধ অবসানের যেকোনো চুক্তির মূল শর্তই হবে ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে পুরোপুরি সরে আসতে হবে। এমনকি কাজ শেষ করতে প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি।

​মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সম্ভাব্য ৬০ দিনের চুক্তিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল বা হয়রানি ছাড়াই সাধারণ জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা। এছাড়া ইরানকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ওই অঞ্চলের সব নৌমাইন সরিয়ে ফেলতে হবে। এর বিনিময়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ধাপে ধাপে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তিতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে, তাও আলোচনার টেবিলে রাখা হয়েছে।

​গত ৭ এপ্রিল থেকে দুই দেশের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। অবশ্য মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা থাকলেও মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট দাবি করেছেন যে যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। ট্রাম্পের শান্তিপ্রিয় নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় শান্তিচুক্তিকেই অগ্রাধিকার দেন। এখন পর্যন্ত আমরা যা করেছি, সবই আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ।" শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন কি না, তা এখন দুই দেশের পরবর্তী আলোচনার ওপর নির্ভর করছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত