তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করা কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের মানুষের কাছে ঝড়-বৃষ্টির আগমন যেন খানিকটা স্বস্তি নিয়ে এসেছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি ছিল ক্ষণিকেরই। মুহূর্তের মধ্যেই প্রকৃতির রুদ্ররূপে বদলে যায় পরিস্থিতি। কলকাতা-সহ বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ের দাপটে অন্তত ৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। প্রবল ঝড়ে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ভেঙে পড়েছে অসংখ্য গাছ—যার জেরে কার্যত বিপর্যস্ত জনজীবন।
স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার (২৯ মে) দুপুর গড়াতেই দক্ষিণবঙ্গের আকাশ আচমকাই ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। কলকাতা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র কালবৈশাখীর তাণ্ডবে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭ জন। ঝড়, বজ্রপাত, গাছ ভেঙে পড়া এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এই মৃত্যুগুলি ঘটেছে, যা মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় সাধারণ মানুষের মধ্যে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শোকপ্রকাশ করে ঘোষণা করেছেন, মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। নবান্ন থেকে জানানো হয়েছে—আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার এবং দ্রুত সুস্থ করে তোলাই এখন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। পাশাপাশি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখে দ্রুত মেরামতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনকে, আর বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে রাখা হয়েছে সর্বক্ষণ সতর্ক অবস্থায়।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটারে পৌঁছায়, যা এই ঝড়ের ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করে। মুহূর্তের মধ্যেই কলকাতা এবং শহরতলির একাধিক এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয় এবং জনজীবন কার্যত থমকে যায়। শহরের অন্তত ৩৬টি জায়গায় গাছ ভেঙে পড়ার খবর মিলেছে। আউট্রাম ঘাট এলাকায় এক যুবক আম কুড়োতে গিয়ে ভেঙে পড়া ডাল চক্ররেলের ওভারহেড তারের ওপর পড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান। একই সঙ্গে দক্ষিণ কলকাতার ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশনের ছাদের একাংশ ভেঙে বৃষ্টির জল ভিতরে ঢুকে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে, আর সাউথ সিটি মলেও কাচ ভেঙে জল ঢুকে পড়ায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
ঝড়ের প্রভাব পরিবহণ ব্যবস্থাতেও মারাত্মকভাবে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা কলকাতা বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। মধ্যমগ্রাম স্টেশনের কাছে লাইনে গাছ পড়ে যাওয়ায় বনগাঁ শাখায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়, একইভাবে ব্যান্ডেল-কাটোয়া শাখাতেও পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে আবহাওয়া দফতর দক্ষিণবঙ্গের ছয়টি জেলায় ‘লাল সতর্কতা’ জারি করেছে এবং আগামী ঘণ্টাগুলিতে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারের তরফে দ্রুত আর্থিক সহায়তা ঘোষণা এবং আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া নিঃসন্দেহে স্বস্তির বার্তা দিলেও, প্রতি বছর এই ধরনের ঝড়ে একই চিত্র সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে প্রস্তুতি এবং পরিকাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও, আগাম সতর্কতা, গাছের রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সুরক্ষা আরও জোরদার করা গেলে এমন প্রাণহানি অনেকটাই কমানো যেত—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন নজর প্রশাসনের তৎপরতা কত দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে কতটা কার্যকরভাবে দাঁড়াতে পারে।

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬
তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করা কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের মানুষের কাছে ঝড়-বৃষ্টির আগমন যেন খানিকটা স্বস্তি নিয়ে এসেছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি ছিল ক্ষণিকেরই। মুহূর্তের মধ্যেই প্রকৃতির রুদ্ররূপে বদলে যায় পরিস্থিতি। কলকাতা-সহ বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ের দাপটে অন্তত ৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। প্রবল ঝড়ে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ভেঙে পড়েছে অসংখ্য গাছ—যার জেরে কার্যত বিপর্যস্ত জনজীবন।
স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার (২৯ মে) দুপুর গড়াতেই দক্ষিণবঙ্গের আকাশ আচমকাই ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। কলকাতা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র কালবৈশাখীর তাণ্ডবে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭ জন। ঝড়, বজ্রপাত, গাছ ভেঙে পড়া এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এই মৃত্যুগুলি ঘটেছে, যা মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় সাধারণ মানুষের মধ্যে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শোকপ্রকাশ করে ঘোষণা করেছেন, মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। নবান্ন থেকে জানানো হয়েছে—আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার এবং দ্রুত সুস্থ করে তোলাই এখন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। পাশাপাশি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখে দ্রুত মেরামতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনকে, আর বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে রাখা হয়েছে সর্বক্ষণ সতর্ক অবস্থায়।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটারে পৌঁছায়, যা এই ঝড়ের ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করে। মুহূর্তের মধ্যেই কলকাতা এবং শহরতলির একাধিক এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয় এবং জনজীবন কার্যত থমকে যায়। শহরের অন্তত ৩৬টি জায়গায় গাছ ভেঙে পড়ার খবর মিলেছে। আউট্রাম ঘাট এলাকায় এক যুবক আম কুড়োতে গিয়ে ভেঙে পড়া ডাল চক্ররেলের ওভারহেড তারের ওপর পড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান। একই সঙ্গে দক্ষিণ কলকাতার ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশনের ছাদের একাংশ ভেঙে বৃষ্টির জল ভিতরে ঢুকে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে, আর সাউথ সিটি মলেও কাচ ভেঙে জল ঢুকে পড়ায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
ঝড়ের প্রভাব পরিবহণ ব্যবস্থাতেও মারাত্মকভাবে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা কলকাতা বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। মধ্যমগ্রাম স্টেশনের কাছে লাইনে গাছ পড়ে যাওয়ায় বনগাঁ শাখায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়, একইভাবে ব্যান্ডেল-কাটোয়া শাখাতেও পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে আবহাওয়া দফতর দক্ষিণবঙ্গের ছয়টি জেলায় ‘লাল সতর্কতা’ জারি করেছে এবং আগামী ঘণ্টাগুলিতে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারের তরফে দ্রুত আর্থিক সহায়তা ঘোষণা এবং আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া নিঃসন্দেহে স্বস্তির বার্তা দিলেও, প্রতি বছর এই ধরনের ঝড়ে একই চিত্র সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে প্রস্তুতি এবং পরিকাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও, আগাম সতর্কতা, গাছের রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সুরক্ষা আরও জোরদার করা গেলে এমন প্রাণহানি অনেকটাই কমানো যেত—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন নজর প্রশাসনের তৎপরতা কত দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে কতটা কার্যকরভাবে দাঁড়াতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন