সংবাদ

নৌ-পুলিশের মানবিকতা

হারানো টাকা ফিরে পেয়ে ‘কাঁদলেন’ আইসক্রিম বিক্রেতা


শেখ রাজীব
শেখ রাজীব প্রতিনিধি, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

হারানো টাকা ফিরে পেয়ে ‘কাঁদলেন’ আইসক্রিম বিক্রেতা
টাকা ফেরত পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন আইসক্রিম বিক্রেতা। ছবি: প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় এক আইসক্রিম বিক্রেতার হারিয়ে যাওয়া নগদ টাকা উদ্ধার করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ।

বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে বরিশালের পলাশপুর এলাকার আইসক্রিম বিক্রেতা দুলাল আইসক্রিম বিক্রি করে জমানো ৮ হাজার ৯০০ টাকা নিয়ে কুষ্টিয়ায় বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ঢাকাগামী সূর্যমুখী পরিবহনে উঠেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোয়ালন্দ মোড়ে নেমে যান।

গাড়ি থেকে নামার পর হঠাৎই তিনি দেখতে পান, লুঙ্গির ভেতরে কোমরে রাখা তার কষ্টে জমানো টাকাগুলো আর নেই। তাৎক্ষণিকভাবে দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, যে সূর্যমুখী পরিবহনে তিনি এসেছিলেন সেটি ইতোমধ্যে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরি ঘাট থেকে ভাষা সৈনিক ডা. গোলাম মাওলা নামের একটি ফেরিতে উঠে নদীর মাঝপথে চলে গেছে।

বিপাকে পড়ে দুলাল দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে থাকা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহাকে জানান। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে ওসি দ্রুত ব্যবস্থা নেন। তিনি বিআরটিসির দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সহযোগিতায় ফেরির মাস্টার মো. বাবলু সিকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন।

পরে ফেরির মাস্টার বাবলু সিকদার ফেরিতে থাকা সূর্যমুখী পরিবহনটি তল্লাশি করে হারিয়ে যাওয়া টাকাগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ফেরি লোড-আনলোড শেষে উদ্ধারকৃত টাকা নিয়ে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরি ঘাটের পন্টুনে থাকা নৌ পুলিশের কাছে এসে হস্তান্তর করেন।

দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে দুলাল ও তার সঙ্গীদের কাছে পুরো টাকাটি বুঝিয়ে দেয়। টাকা ফেরত পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন আইসক্রিম বিক্রেতা।

আবেগাপ্লুত দুলাল বলেন, আমি আইসক্রিম বিক্রি করে খুব কষ্টে এই টাকা জমিয়েছিলাম। টাকা হারিয়ে আমি সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। টাকাগুলো ফিরে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। যদি এই টাকা না পেতাম, তাহলে আমার সংসারের আর ঈদের আনন্দ থাকতো না। এখন আমি পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ করতে পারব। আমি দৌলতদিয়া নৌ পুলিশের কাছে কৃতজ্ঞ।

এ বিষয়ে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, একজন সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা উদ্ধার করতে পেরে আমরা খুবই সন্তুষ্ট। মানুষের পাশে দাঁড়ানোই পুলিশের মূল দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সেবা সহ সকল ধরনের সপবা অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়দের মতে, নৌ পুলিশের এমন দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি বাড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


হারানো টাকা ফিরে পেয়ে ‘কাঁদলেন’ আইসক্রিম বিক্রেতা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় এক আইসক্রিম বিক্রেতার হারিয়ে যাওয়া নগদ টাকা উদ্ধার করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ।

বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে বরিশালের পলাশপুর এলাকার আইসক্রিম বিক্রেতা দুলাল আইসক্রিম বিক্রি করে জমানো ৮ হাজার ৯০০ টাকা নিয়ে কুষ্টিয়ায় বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ঢাকাগামী সূর্যমুখী পরিবহনে উঠেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোয়ালন্দ মোড়ে নেমে যান।

গাড়ি থেকে নামার পর হঠাৎই তিনি দেখতে পান, লুঙ্গির ভেতরে কোমরে রাখা তার কষ্টে জমানো টাকাগুলো আর নেই। তাৎক্ষণিকভাবে দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, যে সূর্যমুখী পরিবহনে তিনি এসেছিলেন সেটি ইতোমধ্যে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরি ঘাট থেকে ভাষা সৈনিক ডা. গোলাম মাওলা নামের একটি ফেরিতে উঠে নদীর মাঝপথে চলে গেছে।

বিপাকে পড়ে দুলাল দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে থাকা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহাকে জানান। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে ওসি দ্রুত ব্যবস্থা নেন। তিনি বিআরটিসির দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সহযোগিতায় ফেরির মাস্টার মো. বাবলু সিকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন।

পরে ফেরির মাস্টার বাবলু সিকদার ফেরিতে থাকা সূর্যমুখী পরিবহনটি তল্লাশি করে হারিয়ে যাওয়া টাকাগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ফেরি লোড-আনলোড শেষে উদ্ধারকৃত টাকা নিয়ে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরি ঘাটের পন্টুনে থাকা নৌ পুলিশের কাছে এসে হস্তান্তর করেন।

দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে দুলাল ও তার সঙ্গীদের কাছে পুরো টাকাটি বুঝিয়ে দেয়। টাকা ফেরত পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন আইসক্রিম বিক্রেতা।

আবেগাপ্লুত দুলাল বলেন, আমি আইসক্রিম বিক্রি করে খুব কষ্টে এই টাকা জমিয়েছিলাম। টাকা হারিয়ে আমি সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। টাকাগুলো ফিরে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। যদি এই টাকা না পেতাম, তাহলে আমার সংসারের আর ঈদের আনন্দ থাকতো না। এখন আমি পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ করতে পারব। আমি দৌলতদিয়া নৌ পুলিশের কাছে কৃতজ্ঞ।

এ বিষয়ে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, একজন সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা উদ্ধার করতে পেরে আমরা খুবই সন্তুষ্ট। মানুষের পাশে দাঁড়ানোই পুলিশের মূল দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সেবা সহ সকল ধরনের সপবা অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়দের মতে, নৌ পুলিশের এমন দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি বাড়িয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত