সংবাদ

শখের ছাদবাগান এখন নিরাপদ খাদ্যের উৎস


প্রতিনিধি, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
প্রতিনিধি, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
প্রকাশ: ৭ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম

শখের ছাদবাগান এখন নিরাপদ খাদ্যের উৎস
নিজের বাগানের সবজি সংগ্রহ করছেন নাজমুল হোসেন। ছবি : সংবাদ

চারপাশে ইট-পাথরের দেয়াল আর কংক্রিটের জঙ্গল। তার মাঝেই এক টুকরো সবুজ অরণ্য। গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার একতলা একটি বাড়ির ছাদে পা রাখলেই মনে হবে কোনো এক গ্রামের উঠান ভুল করে উঠে এসেছে শহরের বুকে। লতানো সবজি আর বাহারি ফলের গাছে ঘেরা এই ছাদটি এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার নাম।

এই সবুজ উদ্যোগের কারিগর ত্রিশোর্ধ্ব মো. নাজমুল হোসেন। ২ বছর আগে মাত্র কয়েকটি টব দিয়ে শুরু করা এই বাগান আজ এক পরিপূর্ণ ছাদবাগানে রূপ নিয়েছে। বাগানটি কেবল নাজমুলের শখ নয়, বরং তার পরিবারের নিরাপদ খাদ্যের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ছাদজুড়ে সারি সারি টব আর মাচায় ঝুলছে লাউ ও শিমের লতা। উৎপাদিত হচ্ছে বেগুন, টমেটো, করলা, বরবটি, মিষ্টি কুমড়া ও কাঁচা মরিচ। সবজির পাশাপাশি রয়েছে ড্রাগন ফল, মালবেরি, ফিলিপাইন আখ ও পেয়ারার মতো বৈচিত্র্যময় ফলের গাছ। সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা এসব বিষমুক্ত ফসল পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবেশীদের মাঝেও বিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

উদ্যোক্তা নাজমুল হোসেন বলেন, “বাজারে এখন সবজিতে বিষ ও রাসায়নিকের ভয় থাকে। নিজের ছাদের সবজি যেমন সুস্বাদু, তেমনি স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। পরিবারের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় অনেক সবজি এখন বাজার থেকে কিনতে হয় না।”

চাষাবাদের ক্ষেত্রে নাজমুলকে নিয়মিত সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী লিমা আক্তার। মাটি প্রস্তুত থেকে গাছের পরিচর্যা সবখানেই তার ছোঁয়া। লিমা আক্তার বলেন, “প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে বাগানে সময় কাটালে মন ভালো থাকে। আমাদের পরিবারের আড্ডাগুলোও এখন ছাদের এই সবুজের মাঝেই জমে ওঠে।”

নাজমুল জানান, তিনি কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন না। বাড়ির রান্নার উচ্ছিষ্ট ও জৈব সার ব্যবহার করেই বাগানটি গড়ে তুলেছেন। নতুন তথ্য ও প্রযুক্তি জানতে তিনি নিয়মিত ইউটিউব ও কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপের সহায়তা নেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদী বলেন, “ছাদবাগান কেবল খাদ্য নিরাপত্তাই নিশ্চিত করে না, এটি নগরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও বড় ভূমিকা রাখে। নাজমুল ও লিমার এই উদ্যোগ পরিবেশ সুরক্ষায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”

দ্রুত নগরায়ণের এই সময়ে বড় কোনো জমি নয়, কেবল সদিচ্ছা ও সামান্য যত্নেই যে একটি ছাদকে নিরাপদ খাদ্যের ভাণ্ডারে রূপান্তর করা যায়; কালীগঞ্জের এই দম্পতি সেটিই প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬


শখের ছাদবাগান এখন নিরাপদ খাদ্যের উৎস

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬

featured Image

চারপাশে ইট-পাথরের দেয়াল আর কংক্রিটের জঙ্গল। তার মাঝেই এক টুকরো সবুজ অরণ্য। গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার একতলা একটি বাড়ির ছাদে পা রাখলেই মনে হবে কোনো এক গ্রামের উঠান ভুল করে উঠে এসেছে শহরের বুকে। লতানো সবজি আর বাহারি ফলের গাছে ঘেরা এই ছাদটি এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার নাম।

এই সবুজ উদ্যোগের কারিগর ত্রিশোর্ধ্ব মো. নাজমুল হোসেন। ২ বছর আগে মাত্র কয়েকটি টব দিয়ে শুরু করা এই বাগান আজ এক পরিপূর্ণ ছাদবাগানে রূপ নিয়েছে। বাগানটি কেবল নাজমুলের শখ নয়, বরং তার পরিবারের নিরাপদ খাদ্যের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ছাদজুড়ে সারি সারি টব আর মাচায় ঝুলছে লাউ ও শিমের লতা। উৎপাদিত হচ্ছে বেগুন, টমেটো, করলা, বরবটি, মিষ্টি কুমড়া ও কাঁচা মরিচ। সবজির পাশাপাশি রয়েছে ড্রাগন ফল, মালবেরি, ফিলিপাইন আখ ও পেয়ারার মতো বৈচিত্র্যময় ফলের গাছ। সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা এসব বিষমুক্ত ফসল পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবেশীদের মাঝেও বিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

উদ্যোক্তা নাজমুল হোসেন বলেন, “বাজারে এখন সবজিতে বিষ ও রাসায়নিকের ভয় থাকে। নিজের ছাদের সবজি যেমন সুস্বাদু, তেমনি স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। পরিবারের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় অনেক সবজি এখন বাজার থেকে কিনতে হয় না।”

চাষাবাদের ক্ষেত্রে নাজমুলকে নিয়মিত সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী লিমা আক্তার। মাটি প্রস্তুত থেকে গাছের পরিচর্যা সবখানেই তার ছোঁয়া। লিমা আক্তার বলেন, “প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে বাগানে সময় কাটালে মন ভালো থাকে। আমাদের পরিবারের আড্ডাগুলোও এখন ছাদের এই সবুজের মাঝেই জমে ওঠে।”

নাজমুল জানান, তিনি কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন না। বাড়ির রান্নার উচ্ছিষ্ট ও জৈব সার ব্যবহার করেই বাগানটি গড়ে তুলেছেন। নতুন তথ্য ও প্রযুক্তি জানতে তিনি নিয়মিত ইউটিউব ও কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপের সহায়তা নেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদী বলেন, “ছাদবাগান কেবল খাদ্য নিরাপত্তাই নিশ্চিত করে না, এটি নগরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও বড় ভূমিকা রাখে। নাজমুল ও লিমার এই উদ্যোগ পরিবেশ সুরক্ষায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”

দ্রুত নগরায়ণের এই সময়ে বড় কোনো জমি নয়, কেবল সদিচ্ছা ও সামান্য যত্নেই যে একটি ছাদকে নিরাপদ খাদ্যের ভাণ্ডারে রূপান্তর করা যায়; কালীগঞ্জের এই দম্পতি সেটিই প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত