ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম সফল দল জার্মানি। ৪ বারের চ্যাম্পিয়নদের হালকা ভাবে নেয়ার কথা ভাবে না বিশ্বের কোনো দলই। লড়াকু চরিত্র, হারার আগে হাল না ছাড়ার মানসিকতা এবং আক্রমনাত্মক মনোভাব জার্মানদের সবার থেকে আলাদা করে দেয়। এবারের বিশ্বকাপেও জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার।
ইংল্যান্ডেরসাবেক অধিনায়ক গ্যারি
লিনেকার এক বার হতাশায় বলেছিলেন, ‘ফুটবল খুব সাধারণ খেলা। ৯০ মিনিট ধরে ২২জন একটা বলের
জন্য দৌড়োয়। খেলার শেষে সবসময় জার্মানিই জেতে।’ জার্মানদের সঙ্গে ইংরেজদের দারুণ সখ্যতা
রয়েছে, এমন নয়। লিনেকারের ওই মন্তব্যই প্রমাণ করে ফুটবল দুনিয়ায় জার্মানিকে বাকি দলগুলি
কতটা সমীহ করে। অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যে ভরা এ বারের জার্মানিও যে কোনো দলের বিশ্বজয়ের
স্বপ্নে জল ঢেলে দিতে পারে।
শক্তি: বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ড-
জার্মানির মাঝমাঠ আক্রমণাত্মক এবং আকর্ষণীয়। খেলা তৈরি করতে এবং ছড়িয়ে দিতে দক্ষ। নিখুঁত
ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় জার্মানির মাঝমাঠ।
কোচ নাগেলসম্যান দায়িত্ব নেয়ার
পর দলের খেলায় কিছু কৌশলগত পরিবর্তন করেছেন। রক্ষণ, মধ্যমাঠ এবং আক্রমণের মধ্যে বোঝাপড়ায়
নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। প্রয়োজন বুঝে দ্রুত ফর্মেশন পরিবর্তন করেন ফুটবলারেরা। যা
প্রতিপক্ষ দলগুলিকে বিভ্রান্ত করে দেয়। বলের কাছাকাছি এবং সম্ভাব্য পথে ৮-৯ জন ফুটবলার
সবসময় থাকেন। খালি জায়গা তৈরি হতে দেন না।
দুর্বলতা: জার্মানির রক্ষণ দুর্বল
না হলেও হঠাৎ হঠাৎ রাশ আলগা করে দেয়ার প্রবণতা রয়েছে।
প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে অধিকাংশ খেলোয়াড় সেন্টার লাইনের কাছে উঠে যান। তাতে দ্রুতগতির
আক্রমণ সামলানোর ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয় মাঝে মধ্যে। এই কারণে গোলও হজম করতে হয় জার্মানিকে।
দলের একাধিক বিশ্বমানের খেলোয়াড়
থাকা সত্ত্বেও মাঠে কখনও কখনও ভারসাম্যহীন হয়ে যায় দল। ব্যক্তিগত দক্ষতার ওপর নির্ভরতা
এবং একক চেষ্টায় বাজিমাত করার প্রবণতা সমস্যা তৈরি করে। ফর্মেশনে প্রভাব পড়ে। বিশেষ
করে মধ্যমাঠ এবং রক্ষণের মধ্যে ফাঁক তৈরি হয়।
মানসিক চাপ: গত কয়েক বছর ধরে
নতুন রোগ দেখা দিয়েছে জার্মানি দলে। নক আউট ম্যাচে স্নায়ুর চাপ সামলাতে পারছেন না তরুণ
ফুটবলারেরা। ফলে বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় তাড়াতাড়ি ছিটকে গিয়েছে তারা। তার মধ্যে রয়েছে
শেষ দুটি বিশ্বকাপও। বড় প্রতিযোগিতায় মানসিক ভাবে শক্তিশালী থাকতে না পারলে সমস্যা
পড়তে পারে নাগেলসম্যানের দল।
সম্ভাবনা: গ্রুপ ‘ই’ তে রয়েছে
জার্মানি। গ্রুপ পর্বে ৪ বারের চ্যাম্পিয়নদের খেলতে হবে আইভোরি কোস্ট, ইকুয়েডর এবং
কুরাসাও। দলের আসল পরীক্ষা শুরু কবে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে।
আশঙ্কা: গোল খাওয়ার বদ অভ্যাস
ত্যাগ করতে হবে জার্মানিকে। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ড, ঘানার মতো দলও দেখিয়ে দিয়েছে জার্মানির
রক্ষণ ভাঙা কঠিন নয়। সমস্যায় ফেলতে পারে ফুটবলারদের ক্লান্তিও।
প্রধান খেলোয়াড়: জার্মানির সাফল্য
অনেকটাই নির্ভর করবে ৩ জন ফুটবলারের পারফরম্যান্সের ওপর। তারা হলেন জামাল মুসিয়ালা,
ফ্লোরিয়ান উইর্টজ এবং জসুয়া কিমিচ। গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়েরের অভিজ্ঞতাও জার্মানির
জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম সফল দল জার্মানি। ৪ বারের চ্যাম্পিয়নদের হালকা ভাবে নেয়ার কথা ভাবে না বিশ্বের কোনো দলই। লড়াকু চরিত্র, হারার আগে হাল না ছাড়ার মানসিকতা এবং আক্রমনাত্মক মনোভাব জার্মানদের সবার থেকে আলাদা করে দেয়। এবারের বিশ্বকাপেও জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার।
ইংল্যান্ডেরসাবেক অধিনায়ক গ্যারি
লিনেকার এক বার হতাশায় বলেছিলেন, ‘ফুটবল খুব সাধারণ খেলা। ৯০ মিনিট ধরে ২২জন একটা বলের
জন্য দৌড়োয়। খেলার শেষে সবসময় জার্মানিই জেতে।’ জার্মানদের সঙ্গে ইংরেজদের দারুণ সখ্যতা
রয়েছে, এমন নয়। লিনেকারের ওই মন্তব্যই প্রমাণ করে ফুটবল দুনিয়ায় জার্মানিকে বাকি দলগুলি
কতটা সমীহ করে। অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যে ভরা এ বারের জার্মানিও যে কোনো দলের বিশ্বজয়ের
স্বপ্নে জল ঢেলে দিতে পারে।
শক্তি: বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ড-
জার্মানির মাঝমাঠ আক্রমণাত্মক এবং আকর্ষণীয়। খেলা তৈরি করতে এবং ছড়িয়ে দিতে দক্ষ। নিখুঁত
ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় জার্মানির মাঝমাঠ।
কোচ নাগেলসম্যান দায়িত্ব নেয়ার
পর দলের খেলায় কিছু কৌশলগত পরিবর্তন করেছেন। রক্ষণ, মধ্যমাঠ এবং আক্রমণের মধ্যে বোঝাপড়ায়
নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। প্রয়োজন বুঝে দ্রুত ফর্মেশন পরিবর্তন করেন ফুটবলারেরা। যা
প্রতিপক্ষ দলগুলিকে বিভ্রান্ত করে দেয়। বলের কাছাকাছি এবং সম্ভাব্য পথে ৮-৯ জন ফুটবলার
সবসময় থাকেন। খালি জায়গা তৈরি হতে দেন না।
দুর্বলতা: জার্মানির রক্ষণ দুর্বল
না হলেও হঠাৎ হঠাৎ রাশ আলগা করে দেয়ার প্রবণতা রয়েছে।
প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে অধিকাংশ খেলোয়াড় সেন্টার লাইনের কাছে উঠে যান। তাতে দ্রুতগতির
আক্রমণ সামলানোর ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয় মাঝে মধ্যে। এই কারণে গোলও হজম করতে হয় জার্মানিকে।
দলের একাধিক বিশ্বমানের খেলোয়াড়
থাকা সত্ত্বেও মাঠে কখনও কখনও ভারসাম্যহীন হয়ে যায় দল। ব্যক্তিগত দক্ষতার ওপর নির্ভরতা
এবং একক চেষ্টায় বাজিমাত করার প্রবণতা সমস্যা তৈরি করে। ফর্মেশনে প্রভাব পড়ে। বিশেষ
করে মধ্যমাঠ এবং রক্ষণের মধ্যে ফাঁক তৈরি হয়।
মানসিক চাপ: গত কয়েক বছর ধরে
নতুন রোগ দেখা দিয়েছে জার্মানি দলে। নক আউট ম্যাচে স্নায়ুর চাপ সামলাতে পারছেন না তরুণ
ফুটবলারেরা। ফলে বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় তাড়াতাড়ি ছিটকে গিয়েছে তারা। তার মধ্যে রয়েছে
শেষ দুটি বিশ্বকাপও। বড় প্রতিযোগিতায় মানসিক ভাবে শক্তিশালী থাকতে না পারলে সমস্যা
পড়তে পারে নাগেলসম্যানের দল।
সম্ভাবনা: গ্রুপ ‘ই’ তে রয়েছে
জার্মানি। গ্রুপ পর্বে ৪ বারের চ্যাম্পিয়নদের খেলতে হবে আইভোরি কোস্ট, ইকুয়েডর এবং
কুরাসাও। দলের আসল পরীক্ষা শুরু কবে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে।
আশঙ্কা: গোল খাওয়ার বদ অভ্যাস
ত্যাগ করতে হবে জার্মানিকে। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ড, ঘানার মতো দলও দেখিয়ে দিয়েছে জার্মানির
রক্ষণ ভাঙা কঠিন নয়। সমস্যায় ফেলতে পারে ফুটবলারদের ক্লান্তিও।
প্রধান খেলোয়াড়: জার্মানির সাফল্য
অনেকটাই নির্ভর করবে ৩ জন ফুটবলারের পারফরম্যান্সের ওপর। তারা হলেন জামাল মুসিয়ালা,
ফ্লোরিয়ান উইর্টজ এবং জসুয়া কিমিচ। গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়েরের অভিজ্ঞতাও জার্মানির
জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন