সংবাদ

সুনামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, ক্ষুব্ধ কৃষকরা


জেলা বার্তা পরিবেশক, সুনামগঞ্জ
জেলা বার্তা পরিবেশক, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ: ৮ জুন ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

সুনামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, ক্ষুব্ধ কৃষকরা
ছবি : সংগৃহীত

সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতাদের আত্মীয়স্বজনদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে জেলায় জেলায় ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনা দিলেও মাঠ পর্যায়ে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নে তালিকায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা নিজেদের আত্মীয়স্বজনদের নাম তালিকায় ঢুকিয়েছেন, যাদের অনেকেরই কোনো আবাদি জমি নেই।

কুরবাননগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, তালিকায় চরম অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান এবং যুবদল নেতা সোহেল ও মনির নিজেদের পরিবারের সদস্যদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তালিকায় ৮০ থেকে ৮২ নম্বর এবং ৯৭ নম্বরে সভাপতির মেয়ে, ভাইয়ের স্ত্রী, ভাতিজা ও মেয়ের জামাইয়ের নাম রয়েছে। ৮৪ নম্বরে তালিকা প্রস্তুতকারী সোহেলের আপন বোনের নাম রয়েছে, যিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অন্য উপজেলায় বসবাস করছেন। এছাড়া তালিকায় ১০৫, ১১৭ ও ১২১ নম্বরেও নেতাদের নিকটাত্মীয়দের নাম পাওয়া গেছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বরকত বলেন, ‘তালিকা তারাই (নেতারা) তৈরি করেছেন, আমরা শুধু স্বাক্ষর করেছি।’ তবে দায় তিনিও এড়াতে পারেন না বলে স্বীকার করেন।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা জেরিন বলেন, ‘অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান জানান, যেসব উপজেলায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেখানকার ইউএনওদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জ জেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৫০৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা পাঠানো হলেও চূড়ান্ত তালিকায় ৬৪ হাজার ৩৮৪ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪ হাজার ৬৩০ জন, দিরাইয়ে ১১ হাজার ৭৫৬ জন এবং শাল্লায় ১০ হাজার ১২৫ জনসহ বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা রয়েছেন। জেলাজুড়েই তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে বঞ্চিত কৃষকরা কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬


সুনামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, ক্ষুব্ধ কৃষকরা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতাদের আত্মীয়স্বজনদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে জেলায় জেলায় ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনা দিলেও মাঠ পর্যায়ে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নে তালিকায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা নিজেদের আত্মীয়স্বজনদের নাম তালিকায় ঢুকিয়েছেন, যাদের অনেকেরই কোনো আবাদি জমি নেই।

কুরবাননগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, তালিকায় চরম অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান এবং যুবদল নেতা সোহেল ও মনির নিজেদের পরিবারের সদস্যদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তালিকায় ৮০ থেকে ৮২ নম্বর এবং ৯৭ নম্বরে সভাপতির মেয়ে, ভাইয়ের স্ত্রী, ভাতিজা ও মেয়ের জামাইয়ের নাম রয়েছে। ৮৪ নম্বরে তালিকা প্রস্তুতকারী সোহেলের আপন বোনের নাম রয়েছে, যিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অন্য উপজেলায় বসবাস করছেন। এছাড়া তালিকায় ১০৫, ১১৭ ও ১২১ নম্বরেও নেতাদের নিকটাত্মীয়দের নাম পাওয়া গেছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বরকত বলেন, ‘তালিকা তারাই (নেতারা) তৈরি করেছেন, আমরা শুধু স্বাক্ষর করেছি।’ তবে দায় তিনিও এড়াতে পারেন না বলে স্বীকার করেন।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা জেরিন বলেন, ‘অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান জানান, যেসব উপজেলায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেখানকার ইউএনওদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জ জেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৫০৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা পাঠানো হলেও চূড়ান্ত তালিকায় ৬৪ হাজার ৩৮৪ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪ হাজার ৬৩০ জন, দিরাইয়ে ১১ হাজার ৭৫৬ জন এবং শাল্লায় ১০ হাজার ১২৫ জনসহ বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা রয়েছেন। জেলাজুড়েই তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে বঞ্চিত কৃষকরা কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত