ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ‘জীবনরেখা’ হিসেবে পরিচিত মহেশপুর-বাগাডাঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের সংস্কারকাজ চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫.১৭ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের দুটি প্রকল্প অনুমোদন ও চুক্তি হলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও কাজ শুরু হয়নি। এতে বাগাডাঙ্গা ও জিন্নানগর সীমান্ত এলাকার লাখো মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সড়কের ৪,৭৩০ থেকে ৭,৩৩০ মিটার অংশ সংস্কারের দায়িত্ব পায় ঝিনাইদহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাঈদ এন্টারপ্রাইজ। বাকি অংশ অর্থাৎ ৭,৩৩০ থেকে ৯,৯০০ মিটার অংশের কাজ পায় মেসার্স সহজ কনস্ট্রাকশন। চুক্তি অনুযায়ী, গত ১৪ ও ১৬ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়ে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জুন মাস পেরিয়ে গেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ শুরু করেনি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা, যশোর ও খুলনামুখী দূরপাল্লার বাসসহ পণ্যবাহী ট্রাক ও শত শত ছোট যানবাহন চলাচলের এই একমাত্র পথটি এখন বিশাল গর্তে ভরা। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও গুরুতর রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা বজলুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও কাজের কোনো চিহ্ন নেই। এটি আমাদের জন্য লজ্জাজনক।”
তালপট্টি গ্রামের আহাদ হোসেন জানান, সীমান্তবাসীর শিক্ষা, কৃষি ও চিকিৎসার একমাত্র ভরসা এই সড়ক। অথচ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী ও কৃষকদের চলাচল করতে হচ্ছে। নস্তরি এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আশরাফ হোসেন একে ‘প্রশাসনিক ব্যর্থতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আবুল ফজেল দাবি করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক সপ্তাহ আগে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে চিঠির অনুলিপি দেখাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। কেন নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু হলো না বা ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো না এমন প্রশ্নে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই টালবাহানা বন্ধ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক।

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ‘জীবনরেখা’ হিসেবে পরিচিত মহেশপুর-বাগাডাঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের সংস্কারকাজ চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫.১৭ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের দুটি প্রকল্প অনুমোদন ও চুক্তি হলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও কাজ শুরু হয়নি। এতে বাগাডাঙ্গা ও জিন্নানগর সীমান্ত এলাকার লাখো মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সড়কের ৪,৭৩০ থেকে ৭,৩৩০ মিটার অংশ সংস্কারের দায়িত্ব পায় ঝিনাইদহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাঈদ এন্টারপ্রাইজ। বাকি অংশ অর্থাৎ ৭,৩৩০ থেকে ৯,৯০০ মিটার অংশের কাজ পায় মেসার্স সহজ কনস্ট্রাকশন। চুক্তি অনুযায়ী, গত ১৪ ও ১৬ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়ে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জুন মাস পেরিয়ে গেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ শুরু করেনি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা, যশোর ও খুলনামুখী দূরপাল্লার বাসসহ পণ্যবাহী ট্রাক ও শত শত ছোট যানবাহন চলাচলের এই একমাত্র পথটি এখন বিশাল গর্তে ভরা। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও গুরুতর রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা বজলুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও কাজের কোনো চিহ্ন নেই। এটি আমাদের জন্য লজ্জাজনক।”
তালপট্টি গ্রামের আহাদ হোসেন জানান, সীমান্তবাসীর শিক্ষা, কৃষি ও চিকিৎসার একমাত্র ভরসা এই সড়ক। অথচ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী ও কৃষকদের চলাচল করতে হচ্ছে। নস্তরি এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আশরাফ হোসেন একে ‘প্রশাসনিক ব্যর্থতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আবুল ফজেল দাবি করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক সপ্তাহ আগে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে চিঠির অনুলিপি দেখাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। কেন নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু হলো না বা ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো না এমন প্রশ্নে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই টালবাহানা বন্ধ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক।

আপনার মতামত লিখুন