সংবাদ

আইন থাকলেও কমছে না ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম


প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

আইন থাকলেও কমছে না ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম
ক্ষুদে শ্রমিকের জীবনসংগ্রাম। ছবি : সংবাদ

১২ জুন বিশ্বজুড়ে শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়। শিশুদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশের মৌলিক অধিকার থাকলেও বাংলাদেশের বাস্তবতা এখনো প্রতিকূল। রাষ্ট্রীয় আইন ও নানা উদ্যোগের অভাব এবং সামাজিক ও পারিবারিক নেতিবাচক পরিস্থিতির কারণে দেশের শতভাগ শিশুর জন্য নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। শিশুশ্রম বন্ধে দেশে কঠোর আইন থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং ইউনিসেফের সর্বশেষ যৌথ জরিপ অনুযায়ী, দেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে শিশুশ্রমের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ৯ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় নতুন করে প্রায় ১২ লাখ শিশু প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শিশুশ্রমের এই ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়। জেলা সদরের মিলন মিয়ার মোটরসাইকেল গ্যারেজে কাজ করছে আনুমানিক ১২-১৩ বছর বয়সী দুটি শিশু। তারা জানায়, চরম দারিদ্র্যের কারণে বাবা-মা পড়াশোনা বন্ধ করে তাদের এখানে কাজ শিখতে পাঠিয়েছেন। গ্রামীণ জনপদেও চিত্রটি একই। সাঘাটা উপজেলার যোগীপাড়া গ্রামে দেখা যায়, আলিমুদ্দিন নামের এক কৃষক তার ৯ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে জমিতে চাষের কাজ করছেন। তিনি জানান, অভাবের সংসারে একটু সহায়তার জন্যই মেয়েকে সাথে আনা।

অন্যদিকে, ফুলছড়ির বালাসীঘাটে দেখা যায় আরও করুণ দৃশ্য। চরাঞ্চল থেকে বাবা-মা বা স্বজনদের সাথে অসংখ্য শিশু খড়ি (জ্বালানি কাঠ) সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসছে। শুধু কৃষিকাজই নয়, শহরের হোটেল-রেস্তোরাঁ, কলকারখানা ও ইটের ভাটাসহ প্রায় সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানেই শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ জহুরুল কাউয়ুম বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করতে হবে। প্রাথমিক বা মাধ্যমিক পর্যায় থেকে একবার ঝরে পড়লে শিশুরা সহজেই ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে জড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি শিশু নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে। প্রয়োজনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পুনর্বাসন ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি।’

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)-এর প্রধান নির্বাহী এম আবদুস সালাম বলেন, ‘শিশুশ্রমের মূল কারণ দারিদ্র্য। পরিবারের অভাব মেটাতেই অভিভাবকরা কোমলমতি শিশুদের উপার্জনের পথে ঠেলে দেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিচ্ছে। অনেক সময় বাবা-মা কর্মসংস্থানের খোঁজে শিশুদের বাড়িতে দাদা-দাদি বা নানা-নানির কাছে রেখে যান। তদারকির অভাবেও অনেক শিশু শ্রমে জড়িয়ে পড়ে।’

এম আবদুস সালাম আরও বলেন, ‘শিশুশ্রম নিরসনে আইনের পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য স্থায়ী মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা উচিত। যতক্ষণ পর্যন্ত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, খাদ্য ও বাসস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যাবে, ততক্ষণ দেশ থেকে শিশুশ্রম নির্মূল করা সম্ভব নয়।’

/

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


আইন থাকলেও কমছে না ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

১২ জুন বিশ্বজুড়ে শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়। শিশুদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশের মৌলিক অধিকার থাকলেও বাংলাদেশের বাস্তবতা এখনো প্রতিকূল। রাষ্ট্রীয় আইন ও নানা উদ্যোগের অভাব এবং সামাজিক ও পারিবারিক নেতিবাচক পরিস্থিতির কারণে দেশের শতভাগ শিশুর জন্য নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। শিশুশ্রম বন্ধে দেশে কঠোর আইন থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং ইউনিসেফের সর্বশেষ যৌথ জরিপ অনুযায়ী, দেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে শিশুশ্রমের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ৯ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় নতুন করে প্রায় ১২ লাখ শিশু প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শিশুশ্রমের এই ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়। জেলা সদরের মিলন মিয়ার মোটরসাইকেল গ্যারেজে কাজ করছে আনুমানিক ১২-১৩ বছর বয়সী দুটি শিশু। তারা জানায়, চরম দারিদ্র্যের কারণে বাবা-মা পড়াশোনা বন্ধ করে তাদের এখানে কাজ শিখতে পাঠিয়েছেন। গ্রামীণ জনপদেও চিত্রটি একই। সাঘাটা উপজেলার যোগীপাড়া গ্রামে দেখা যায়, আলিমুদ্দিন নামের এক কৃষক তার ৯ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে জমিতে চাষের কাজ করছেন। তিনি জানান, অভাবের সংসারে একটু সহায়তার জন্যই মেয়েকে সাথে আনা।

অন্যদিকে, ফুলছড়ির বালাসীঘাটে দেখা যায় আরও করুণ দৃশ্য। চরাঞ্চল থেকে বাবা-মা বা স্বজনদের সাথে অসংখ্য শিশু খড়ি (জ্বালানি কাঠ) সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসছে। শুধু কৃষিকাজই নয়, শহরের হোটেল-রেস্তোরাঁ, কলকারখানা ও ইটের ভাটাসহ প্রায় সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানেই শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ জহুরুল কাউয়ুম বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করতে হবে। প্রাথমিক বা মাধ্যমিক পর্যায় থেকে একবার ঝরে পড়লে শিশুরা সহজেই ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে জড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি শিশু নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে। প্রয়োজনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পুনর্বাসন ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি।’

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)-এর প্রধান নির্বাহী এম আবদুস সালাম বলেন, ‘শিশুশ্রমের মূল কারণ দারিদ্র্য। পরিবারের অভাব মেটাতেই অভিভাবকরা কোমলমতি শিশুদের উপার্জনের পথে ঠেলে দেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিচ্ছে। অনেক সময় বাবা-মা কর্মসংস্থানের খোঁজে শিশুদের বাড়িতে দাদা-দাদি বা নানা-নানির কাছে রেখে যান। তদারকির অভাবেও অনেক শিশু শ্রমে জড়িয়ে পড়ে।’

এম আবদুস সালাম আরও বলেন, ‘শিশুশ্রম নিরসনে আইনের পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য স্থায়ী মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা উচিত। যতক্ষণ পর্যন্ত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, খাদ্য ও বাসস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যাবে, ততক্ষণ দেশ থেকে শিশুশ্রম নির্মূল করা সম্ভব নয়।’

/


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত