বৃষ্টির বাগড়া, গ্যালারিতে দর্শকদের টানটান উত্তেজনা, আর মাঠের ক্রিকেটে লাল-সবুজের গর্জন—সব মিলিয়ে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রচিত হলো এক মহাকাব্যিক ইতিহাস। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। তাও আবার এক ম্যাচ হাতে রেখেই! নিজেদের ঘরের মাঠে এটি টাইগারদের টানা পঞ্চম ওয়ানডে সিরিজ জয়।
সকালে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমেই অজি শিবিরে ত্রাস সৃষ্টি করেন বাংলাদেশের বোলাররা। গ্যালারিতে দর্শকরা ঠিকঠাক বসার আগেই ধস নামে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনে। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসেই প্রথমবারের মতো স্কোরবোর্ডে কোনো রান তোলার আগেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে ৬ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৩ সালের পর বিশ্ব ক্রিকেটে এমন লজ্জাজনক ঘটনা আর ঘটেনি।
তাসকিন আহমেদের করা প্রথম ওভারেই বোল্ড হয়ে ফেরেন ওপেনার ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে জোড়া আঘাত হানেন ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমান। কুপার কনোলিকে লিটন দাসের ক্যাচ বানানোর পর, ওয়ানডেতে অভিষেক হওয়া ম্যাট রেনশকে খাতা খোলার আগেই বোকা বানিয়ে সাজঘরে ফেরান মুস্তাফিজ।
শুরুর ধাক্কা সামলে অধিনায়ক জস ইংলিশ (৩৪) এবং ক্যামেরন গ্রিন (২৫) দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করলেও থিতু হতে দেননি মুস্তাফিজ ও তানজিম সাকিবরা। ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে যখন একশ রানের আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় অজিরা, তখন হাল ধরেন মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেট। দুজনের ১০৩ রানের জুটিতে লড়াইয়ে ফেরে সফরকারীরা।
দুজনেই তুলে নেন ব্যক্তিগত অর্ধশতক। তবে ৪১তম ওভারে আবারও তাসকিনের জোড়া আঘাত। ফিফটি করা বার্টলেট (৫২) এবং অ্যাডাম জাম্পাকে (০) ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান তিনি। ৪২তম ওভার শেষে যখন বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়, তখন অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ১৮৭ রান। লাবুশেন ৫৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। বৃষ্টি শেষে ম্যাচ আর শুরু করা যায়নি, ফলে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রান।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ওপেনার তানজিদ হাসানের উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও রিভিউ নিয়ে এবং জীবন পেয়ে টিকে যান। দ্বিতীয় উইকেটে দলে ফেরা সৌম্য সরকারকে নিয়ে ৮৬ রানের জুটি গড়েন শান্ত। তবে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি কেউ। সৌম্য ৪২ এবং শান্ত ৪১ রানে আউট হন।
এরপর দ্রুত লিটন দাস (২১) ও মোসাদ্দেক হোসেন (১৫) বিদায় নিলে ১০০ রানের আগেই ৫ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে দল। তবে ষষ্ঠ উইকেটে দলের হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয় এবং অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। এই দুজনের অবিচ্ছেদ্য ৫১ রানের জুটিতে ৪২ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। হৃদয় ৪০ এবং মিরাজ ২২ রানে অপরাজিত থাকেন।
অস্ট্রেলিয়া : ৪২ ওভারে ১৮৭/৮
বাংলাদেশ : ৩৫ ওভারে ১৯৫/৫
ফল : বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা : মুস্তাফিজুর রহমান

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
বৃষ্টির বাগড়া, গ্যালারিতে দর্শকদের টানটান উত্তেজনা, আর মাঠের ক্রিকেটে লাল-সবুজের গর্জন—সব মিলিয়ে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রচিত হলো এক মহাকাব্যিক ইতিহাস। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। তাও আবার এক ম্যাচ হাতে রেখেই! নিজেদের ঘরের মাঠে এটি টাইগারদের টানা পঞ্চম ওয়ানডে সিরিজ জয়।
সকালে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমেই অজি শিবিরে ত্রাস সৃষ্টি করেন বাংলাদেশের বোলাররা। গ্যালারিতে দর্শকরা ঠিকঠাক বসার আগেই ধস নামে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনে। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসেই প্রথমবারের মতো স্কোরবোর্ডে কোনো রান তোলার আগেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে ৬ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৩ সালের পর বিশ্ব ক্রিকেটে এমন লজ্জাজনক ঘটনা আর ঘটেনি।
তাসকিন আহমেদের করা প্রথম ওভারেই বোল্ড হয়ে ফেরেন ওপেনার ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে জোড়া আঘাত হানেন ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমান। কুপার কনোলিকে লিটন দাসের ক্যাচ বানানোর পর, ওয়ানডেতে অভিষেক হওয়া ম্যাট রেনশকে খাতা খোলার আগেই বোকা বানিয়ে সাজঘরে ফেরান মুস্তাফিজ।
শুরুর ধাক্কা সামলে অধিনায়ক জস ইংলিশ (৩৪) এবং ক্যামেরন গ্রিন (২৫) দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করলেও থিতু হতে দেননি মুস্তাফিজ ও তানজিম সাকিবরা। ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে যখন একশ রানের আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় অজিরা, তখন হাল ধরেন মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেট। দুজনের ১০৩ রানের জুটিতে লড়াইয়ে ফেরে সফরকারীরা।
দুজনেই তুলে নেন ব্যক্তিগত অর্ধশতক। তবে ৪১তম ওভারে আবারও তাসকিনের জোড়া আঘাত। ফিফটি করা বার্টলেট (৫২) এবং অ্যাডাম জাম্পাকে (০) ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান তিনি। ৪২তম ওভার শেষে যখন বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়, তখন অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ১৮৭ রান। লাবুশেন ৫৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। বৃষ্টি শেষে ম্যাচ আর শুরু করা যায়নি, ফলে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রান।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ওপেনার তানজিদ হাসানের উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও রিভিউ নিয়ে এবং জীবন পেয়ে টিকে যান। দ্বিতীয় উইকেটে দলে ফেরা সৌম্য সরকারকে নিয়ে ৮৬ রানের জুটি গড়েন শান্ত। তবে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি কেউ। সৌম্য ৪২ এবং শান্ত ৪১ রানে আউট হন।
এরপর দ্রুত লিটন দাস (২১) ও মোসাদ্দেক হোসেন (১৫) বিদায় নিলে ১০০ রানের আগেই ৫ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে দল। তবে ষষ্ঠ উইকেটে দলের হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয় এবং অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। এই দুজনের অবিচ্ছেদ্য ৫১ রানের জুটিতে ৪২ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। হৃদয় ৪০ এবং মিরাজ ২২ রানে অপরাজিত থাকেন।
অস্ট্রেলিয়া : ৪২ ওভারে ১৮৭/৮
বাংলাদেশ : ৩৫ ওভারে ১৯৫/৫
ফল : বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা : মুস্তাফিজুর রহমান

আপনার মতামত লিখুন