সুনামগঞ্জ জেলাজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়া। স্মার্টফোন ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতাকে পুঁজি করে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই এখন এই মরণনেশা বিস্তৃত। এর ফলে একদিকে যেমন অনেক পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে, অন্যদিকে চুরি, ছিনতাই ও মাদক আসক্তির মতো অপরাধ বাড়ছে। এতে জনমনে চরম উদ্বেগ ও সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে গ্রামের চায়ের দোকান বা মুদি দোকানেও এখন অনলাইন জুয়ার আসর বসছে। বাইরে থেকে সাধারণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মনে হলেও ভেতরে মোবাইল ফোনের পর্দায় চলে হাজার হাজার টাকার বাজি। ক্রিকেট, ফুটবল, আইপিএল বেটিং ও এভিয়েটর গেমের পাশাপাশি জনপ্রিয় লুডু খেলাও এখন অনলাইন জুয়ার বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দ্রুত অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে পড়ে তরুণ ও যুব সমাজের একটি বড় অংশ এতে আসক্ত হচ্ছে। সমাজকর্মী সালেহীন চৌধুরী শুভ বলেন, ‘অনলাইন জুয়ার কারণে অনেক পরিবার নীরবে ধ্বংস হচ্ছে। ঋণের চাপ সামলাতে না পেরে অনেকে এলাকা ছেড়েছেন, এমনকি বিদেশেও পাড়ি জমিয়েছেন।’
দিরাই সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম তালুকদার মনে করেন, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তদারকি ছাড়া এই প্রবণতা রোধ করা কঠিন। সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শামস শামীম বলেন, অনলাইন জুয়া এখন একটি বড় সামাজিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। এটি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হলেও আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি সামনে আসছে। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, জুয়াড়িদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হলেও তারা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসে, যা পুলিশের জন্য হতাশাজনক।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন বলেন, ‘পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে ও মামলা দিচ্ছে। তবে শুধু পুলিশের পক্ষে এটি নির্মূল করা সম্ভব নয়। অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং সামাজিকভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
/

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
সুনামগঞ্জ জেলাজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়া। স্মার্টফোন ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতাকে পুঁজি করে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই এখন এই মরণনেশা বিস্তৃত। এর ফলে একদিকে যেমন অনেক পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে, অন্যদিকে চুরি, ছিনতাই ও মাদক আসক্তির মতো অপরাধ বাড়ছে। এতে জনমনে চরম উদ্বেগ ও সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে গ্রামের চায়ের দোকান বা মুদি দোকানেও এখন অনলাইন জুয়ার আসর বসছে। বাইরে থেকে সাধারণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মনে হলেও ভেতরে মোবাইল ফোনের পর্দায় চলে হাজার হাজার টাকার বাজি। ক্রিকেট, ফুটবল, আইপিএল বেটিং ও এভিয়েটর গেমের পাশাপাশি জনপ্রিয় লুডু খেলাও এখন অনলাইন জুয়ার বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দ্রুত অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে পড়ে তরুণ ও যুব সমাজের একটি বড় অংশ এতে আসক্ত হচ্ছে। সমাজকর্মী সালেহীন চৌধুরী শুভ বলেন, ‘অনলাইন জুয়ার কারণে অনেক পরিবার নীরবে ধ্বংস হচ্ছে। ঋণের চাপ সামলাতে না পেরে অনেকে এলাকা ছেড়েছেন, এমনকি বিদেশেও পাড়ি জমিয়েছেন।’
দিরাই সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম তালুকদার মনে করেন, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তদারকি ছাড়া এই প্রবণতা রোধ করা কঠিন। সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শামস শামীম বলেন, অনলাইন জুয়া এখন একটি বড় সামাজিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। এটি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হলেও আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি সামনে আসছে। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, জুয়াড়িদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হলেও তারা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসে, যা পুলিশের জন্য হতাশাজনক।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন বলেন, ‘পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে ও মামলা দিচ্ছে। তবে শুধু পুলিশের পক্ষে এটি নির্মূল করা সম্ভব নয়। অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং সামাজিকভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
/

আপনার মতামত লিখুন