সংবাদ

তথ্য সুরক্ষা ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে তোপের মুখে ওপেনএআই, তদন্তে নামছেন অ্যাটর্নি জেনারেলরা


মোহাম্মদ নেসার
মোহাম্মদ নেসার ডিজিটাল গ্রোথ এডিটর
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম

তথ্য সুরক্ষা ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে তোপের মুখে ওপেনএআই, তদন্তে নামছেন অ্যাটর্নি জেনারেলরা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দুনিয়ায় আলোড়ন তোলা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে এবার একজোট হয়ে তদন্ত শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা। ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই বড় পরিসরের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, গত শুক্রবার নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে ওপেনএআইকে একটি আইনি নোটিশ বা সাবপেনা পাঠানো হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞাপন প্রচারের ধরন, গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে রাখার কৌশল, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার এবং শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আচরণ সংক্রান্ত বিস্তারিত নথিপত্র তলব করা হয়েছে।

তবে ঠিক কোন কোন অঙ্গরাজ্য এই তদন্তের সঙ্গে যুক্ত, সে বিষয়ে ওপেনএআইয়ের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বিবৃতিতে জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি নতুন এবং শক্তিশালী প্রযুক্তি। অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিরাপদে মানুষের কাছে এর সুফল পৌঁছে দিতে তারা প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। অ্যাটর্নি জেনারেলদের উদ্বেগগুলো সমাধানের জন্য তাদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

নিজেদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ওই মুখপাত্র আরও বলেন, "বর্তমান চ্যাটজিপিটি শিশু ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষদের জন্য আরও বেশি সুরক্ষিত। আমরা বিশ্বাস করি শিশুদের শিশুদের মতোই বিবেচনা করা উচিত। সে কারণেই আমরা বয়স নির্ধারণের প্রযুক্তি এবং অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ টুল তৈরি করেছি। পাশাপাশি শিশুদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন প্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।"

সম্প্রতি ওপেনএআইকে নানা দিক থেকেই আইনি ও নৈতিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতেই ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমায়ার ওপেনএআই এবং এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি অভ্যন্তরীণ ও বাইরের সুরক্ষাজনিত সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ফ্লোরিডার লাখো মানুষের কাছে একটি বিপজ্জনক পণ্য পৌঁছে দিয়েছে।

এর বাইরেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘন এবং চ্যাটজিপিটির কারণে ব্যবহারকারীর আত্মহত্যার মতো গুরুতর অভিযোগে মামলা চলছে। সম্প্রতি কানাডার টাম্বলার রিজ এলাকায় এক বন্দুক হামলার ঘটনার পর জনসমক্ষে দুঃখপ্রকাশ করেন স্যাম অল্টম্যান। তিনি স্বীকার করে নেন, সন্দেহভাজন ওই হামলাকারীর চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে বাতিল করা হলেও, সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক করতে ওপেনএআই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিল।

এতসব আইনি জটিলতা ও বিতর্কের মধ্যেও ব্যবসায়িক দিক দিয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওপেনএআই। সম্প্রতি সহপ্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের করা এক আলোচিত মামলায় জয় পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি (যদিও মাস্কের আইনজীবী রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন)। পাশাপাশি, এই সপ্তাহেই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য গোপনীয়তার সঙ্গে আবেদন করার ঘোষণাও দিয়েছে চ্যাটজিপিটির এই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


তথ্য সুরক্ষা ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে তোপের মুখে ওপেনএআই, তদন্তে নামছেন অ্যাটর্নি জেনারেলরা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দুনিয়ায় আলোড়ন তোলা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে এবার একজোট হয়ে তদন্ত শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা। ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই বড় পরিসরের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, গত শুক্রবার নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে ওপেনএআইকে একটি আইনি নোটিশ বা সাবপেনা পাঠানো হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞাপন প্রচারের ধরন, গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে রাখার কৌশল, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার এবং শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আচরণ সংক্রান্ত বিস্তারিত নথিপত্র তলব করা হয়েছে।

তবে ঠিক কোন কোন অঙ্গরাজ্য এই তদন্তের সঙ্গে যুক্ত, সে বিষয়ে ওপেনএআইয়ের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বিবৃতিতে জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি নতুন এবং শক্তিশালী প্রযুক্তি। অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিরাপদে মানুষের কাছে এর সুফল পৌঁছে দিতে তারা প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। অ্যাটর্নি জেনারেলদের উদ্বেগগুলো সমাধানের জন্য তাদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

নিজেদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ওই মুখপাত্র আরও বলেন, "বর্তমান চ্যাটজিপিটি শিশু ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষদের জন্য আরও বেশি সুরক্ষিত। আমরা বিশ্বাস করি শিশুদের শিশুদের মতোই বিবেচনা করা উচিত। সে কারণেই আমরা বয়স নির্ধারণের প্রযুক্তি এবং অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ টুল তৈরি করেছি। পাশাপাশি শিশুদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন প্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।"

সম্প্রতি ওপেনএআইকে নানা দিক থেকেই আইনি ও নৈতিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতেই ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমায়ার ওপেনএআই এবং এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি অভ্যন্তরীণ ও বাইরের সুরক্ষাজনিত সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ফ্লোরিডার লাখো মানুষের কাছে একটি বিপজ্জনক পণ্য পৌঁছে দিয়েছে।

এর বাইরেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘন এবং চ্যাটজিপিটির কারণে ব্যবহারকারীর আত্মহত্যার মতো গুরুতর অভিযোগে মামলা চলছে। সম্প্রতি কানাডার টাম্বলার রিজ এলাকায় এক বন্দুক হামলার ঘটনার পর জনসমক্ষে দুঃখপ্রকাশ করেন স্যাম অল্টম্যান। তিনি স্বীকার করে নেন, সন্দেহভাজন ওই হামলাকারীর চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে বাতিল করা হলেও, সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক করতে ওপেনএআই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিল।

এতসব আইনি জটিলতা ও বিতর্কের মধ্যেও ব্যবসায়িক দিক দিয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওপেনএআই। সম্প্রতি সহপ্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের করা এক আলোচিত মামলায় জয় পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি (যদিও মাস্কের আইনজীবী রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন)। পাশাপাশি, এই সপ্তাহেই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য গোপনীয়তার সঙ্গে আবেদন করার ঘোষণাও দিয়েছে চ্যাটজিপিটির এই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত