যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তীব্র গরমের মধ্যে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের 'সি' গ্রুপের ম্যাচে মরক্কোর মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। তবে ম্যাচের মাঠে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চেনা ছন্দে দেখা যায়নি, বরং পুরো ম্যাচেই দাপটের সঙ্গে খেলেছে আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কো।
শেষ পর্যন্ত আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে দুই দলকে। ২০০২ সালের পর থেকে দীর্ঘ পাঁচ টুর্নামেন্ট ধরে চলা ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শিরোপার খরা ঘোচানোর মিশনে শুরুতেই এই ড্র কিছুটা ধাক্কা দিল সেলেসাও শিবিরে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে মরক্কো। বল দখলে ব্রাজিল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও আক্রমণের ধার ছিল অ্যাটলাস লায়ন্সদেরই বেশি। সপ্তম মিনিটে মাজরাউইয়ের ক্রস থেকে নিল এল আয়নাউইয়ের শট ব্রুনো গিমারায়েস ব্লক না করলে শুরুতেই বিপদে পড়তে পারত ব্রাজিল। এর ঠিক পরপরই আশরাফ হাকিমির নিচু শট গোলের খুব কাছ দিয়ে বাইরে চলে যায়।
ম্যাচের ১৪ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পায় ব্রাজিল। বাম দিক থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের চমৎকার ক্রসে ফাঁকায় হেডের সুযোগ পেয়েও বলের সঙ্গে ঠিকমতো সংযোগ করতে পারেননি ইগর থিয়াগো। এরপর ১৯ মিনিটে রাফিনিয়ার দারুণ পাস থেকে ভিনিসিয়ুস গোলমুখে পজিশন নিলেও সময়মতো ট্যাকল করে বিপদ কাটান হাকিমি।
ধারাবাহিক আক্রমণের ফল মরক্কো পেয়ে যায় ম্যাচের ২১ মিনিটেই। ব্রাহিম দিয়াজ মাঝমাঠ থেকে অসাধারণ একটি থ্রু পাস দেন মারকিনিওস ও গ্যাব্রিয়েলের মাঝখান দিয়ে। সেই সুযোগটি দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে ইসমাইল সাইবারি আলিসনের মাথার ওপর দিয়ে লব করে বল জালে জড়ান মরক্কোর এই শুরুর দাপটের পর কিছুটা ছন্দ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করে ব্রাজিল।
তবে ২৯ মিনিটে আবারও বিপদে পড়েছিল তারা, যখন হাকিমির ফ্রি-কিক থেকে এল আয়নাউইয়ের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর পরপরই সাইবারির আরেকটি শট ব্লক করে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ এবং ৩১ মিনিটে হাকিমির আরও একটি সুযোগ ডান দিক দিয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়।
ম্যাচের ৩২ মিনিটে ঘুরে দাঁড়ায় ব্রাজিল। ব্রুনো গিমারায়েসের পাস পেয়ে বাম দিক থেকে কাট ইন করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এরপর ডান পায়ের দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে বল পাঠিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক বুনুর নাগালের বাইরে, ডানদিকের জালে। জাতীয় দলের হয়ে নিজের ৫০তম ম্যাচে এই বিশেষ গোলটি করে দলকে সমতায় ফেরান ভিনি।
তবে সমতায় ফেরার পরও মরক্কো দমে যায়নি। ব্রাহিম দিয়াজকে থামাতে গিয়ে ৩৭ মিনিটে কাসেমিরো হলুদ কার্ড দেখেন এবং ৪৩ মিনিটে ব্রাহিমকে আবারও শক্ত ট্যাকল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পান রজার ইবানেজ। প্রথমার্ধের শেষদিকে ব্রাজিলের চাপ আরও বাড়ে। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে পাকেতার ঘুরে দাঁড়িয়ে নেওয়া ভলি দারুণভাবে সেভ করেন বুনু।
এরপর কর্নার থেকে মারকিনিওসের ফ্লিক করা বলও গোলের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৪৫+৪ মিনিটে ভিনিসিয়ুস ফাউলের দাবি করলেও রেফারি খেলতে দেন এবং ১-১ সমতা নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ হয়। প্রথমার্ধের পরিসংখ্যান বলছে প্রথম ৩০ মিনিটেই মরক্কো ১২টি শট নেয়, যা ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ওপর তাদের দাপট স্পষ্ট করে।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল অনেকটা হোল্ডিং পজিশনে থাকলেও তেমন কোনো গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত মরক্কোর সাহসী ফুটবল আর ব্রাজিলের ব্যক্তিগত ঝলকের ম্যাচটি ড্রয়েই শেষ হয়।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তীব্র গরমের মধ্যে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের 'সি' গ্রুপের ম্যাচে মরক্কোর মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। তবে ম্যাচের মাঠে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চেনা ছন্দে দেখা যায়নি, বরং পুরো ম্যাচেই দাপটের সঙ্গে খেলেছে আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কো।
শেষ পর্যন্ত আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে দুই দলকে। ২০০২ সালের পর থেকে দীর্ঘ পাঁচ টুর্নামেন্ট ধরে চলা ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শিরোপার খরা ঘোচানোর মিশনে শুরুতেই এই ড্র কিছুটা ধাক্কা দিল সেলেসাও শিবিরে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে মরক্কো। বল দখলে ব্রাজিল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও আক্রমণের ধার ছিল অ্যাটলাস লায়ন্সদেরই বেশি। সপ্তম মিনিটে মাজরাউইয়ের ক্রস থেকে নিল এল আয়নাউইয়ের শট ব্রুনো গিমারায়েস ব্লক না করলে শুরুতেই বিপদে পড়তে পারত ব্রাজিল। এর ঠিক পরপরই আশরাফ হাকিমির নিচু শট গোলের খুব কাছ দিয়ে বাইরে চলে যায়।
ম্যাচের ১৪ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পায় ব্রাজিল। বাম দিক থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের চমৎকার ক্রসে ফাঁকায় হেডের সুযোগ পেয়েও বলের সঙ্গে ঠিকমতো সংযোগ করতে পারেননি ইগর থিয়াগো। এরপর ১৯ মিনিটে রাফিনিয়ার দারুণ পাস থেকে ভিনিসিয়ুস গোলমুখে পজিশন নিলেও সময়মতো ট্যাকল করে বিপদ কাটান হাকিমি।
ধারাবাহিক আক্রমণের ফল মরক্কো পেয়ে যায় ম্যাচের ২১ মিনিটেই। ব্রাহিম দিয়াজ মাঝমাঠ থেকে অসাধারণ একটি থ্রু পাস দেন মারকিনিওস ও গ্যাব্রিয়েলের মাঝখান দিয়ে। সেই সুযোগটি দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে ইসমাইল সাইবারি আলিসনের মাথার ওপর দিয়ে লব করে বল জালে জড়ান মরক্কোর এই শুরুর দাপটের পর কিছুটা ছন্দ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করে ব্রাজিল।
তবে ২৯ মিনিটে আবারও বিপদে পড়েছিল তারা, যখন হাকিমির ফ্রি-কিক থেকে এল আয়নাউইয়ের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর পরপরই সাইবারির আরেকটি শট ব্লক করে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ এবং ৩১ মিনিটে হাকিমির আরও একটি সুযোগ ডান দিক দিয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়।
ম্যাচের ৩২ মিনিটে ঘুরে দাঁড়ায় ব্রাজিল। ব্রুনো গিমারায়েসের পাস পেয়ে বাম দিক থেকে কাট ইন করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এরপর ডান পায়ের দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে বল পাঠিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক বুনুর নাগালের বাইরে, ডানদিকের জালে। জাতীয় দলের হয়ে নিজের ৫০তম ম্যাচে এই বিশেষ গোলটি করে দলকে সমতায় ফেরান ভিনি।
তবে সমতায় ফেরার পরও মরক্কো দমে যায়নি। ব্রাহিম দিয়াজকে থামাতে গিয়ে ৩৭ মিনিটে কাসেমিরো হলুদ কার্ড দেখেন এবং ৪৩ মিনিটে ব্রাহিমকে আবারও শক্ত ট্যাকল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পান রজার ইবানেজ। প্রথমার্ধের শেষদিকে ব্রাজিলের চাপ আরও বাড়ে। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে পাকেতার ঘুরে দাঁড়িয়ে নেওয়া ভলি দারুণভাবে সেভ করেন বুনু।
এরপর কর্নার থেকে মারকিনিওসের ফ্লিক করা বলও গোলের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৪৫+৪ মিনিটে ভিনিসিয়ুস ফাউলের দাবি করলেও রেফারি খেলতে দেন এবং ১-১ সমতা নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ হয়। প্রথমার্ধের পরিসংখ্যান বলছে প্রথম ৩০ মিনিটেই মরক্কো ১২টি শট নেয়, যা ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ওপর তাদের দাপট স্পষ্ট করে।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল অনেকটা হোল্ডিং পজিশনে থাকলেও তেমন কোনো গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত মরক্কোর সাহসী ফুটবল আর ব্রাজিলের ব্যক্তিগত ঝলকের ম্যাচটি ড্রয়েই শেষ হয়।

আপনার মতামত লিখুন